Alexa চেয়ারম্যানের কারাদণ্ড, এলাকায় মিষ্টি বিতরণ!

চেয়ারম্যানের কারাদণ্ড, এলাকায় মিষ্টি বিতরণ!

মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫২ ২৪ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৬:৫৮ ২৪ জানুয়ারি ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বহুল সমালোচিত রাইগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলমের এক বছরের কারাদণ্ড হওয়ায় মিষ্টি বিতরণ করেছে উল্লসিত এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার রাইগাঁ ইউপির মাতাজী হাট এলাকায় স্থানীয়দের মাঝে প্রায় এক মণ মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

এলাকাবাসী জানায়, দিলীপ কুমার সাহা নামে এক সংখ্যালঘুর দোকানে ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের মামলায় চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলমসহ নয়জনকে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রায়ে ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলমকে এক বছরের কারাদণ্ড ও অপর আট আসামিকে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। এ রায়ে এলাকাবাসী খুশি। ওই খুশিতে মিষ্টি বিতরণ করেছেন তারা।

দিলীপ কুমার সাহা ২০১৭ সালে কুরবানীর ঈদ উপলক্ষে উপজেলার মাতাজী হাটে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজশে ইজারাদারের লোকজন গবাদিপশু কেনাবেচায় অতিরিক্ত হাসিল (টোল) আদায়ের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগ করায় ওই বছরের ৩০ আগস্ট মহাদেবপুরের তৎকালীন ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ছয়জনকে জরিমানা করেন। এ ঘটনার জেরে ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ফুটবল খেলার মাঠে রাইগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম দলবল নিয়ে দিলীপ কুমারের ওপর হামলা চালায় এবং মাতাজী হাটের দিলীপ কুমারের শুভজিৎ হোটেল অ্যান্ড মিষ্টান্ন ভান্ডারে ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করে। এ ঘটনায় ওই দিনই মহাদেবপুর থানায় চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলমসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দিলীপ কুমার। পুলিশি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের পর গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। 

উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানির পর গত ২১ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিকেলে নওগাঁর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫ এর বিচারক সাইফুল ইসলাম রাইগাঁ ইউপি চেয়ারম্যানকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড তার তিন সহোদর সুলতান মাহমুদ, বদিউল আলম, শাহ আলমসহ মামলার অপর আট আসামিকে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। 

রায়ের সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর আসামিরা আদালতে জামিন আবেদন করলে চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম ছাড়া অন্য আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। মঞ্জুর আলমকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী আব্দুস সামাদ ও মোকসেদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোফাখখার ইসলাম।

এর আগেও নানা অনিয়ম-দুর্নীতি, মারপির, ভাঙচুর ও বিভিন্ন  ঘটনায় বিতর্কিত হয়েছেন চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম। 

২০১৭ সালে উপজেলার রাইগাঁ ইউপির কুন্দুনা গ্রামের এক নারী তার বিরুদ্ধে আদালতে শ্রীলতাহানির মামলা করেন। এছাড়াও চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলমের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা রয়েছে।

অপরদিকে, নাউরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও তার স্বামীকে মারধরের মামলার অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করায় মঞ্জুর আলমকে ২০১৭ সালের ৬ জুলাই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

মামলার বাদী দিলীপ কুমার সাহা বলেন, এ রায়ে আমি খুশি। চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলমের এক বছরের কারাদণ্ড ও অপর আট আসামিদের তিন মাসের কারাদণ্ড হওয়ায় এলাকাবাসী মিষ্টি বিতরণ করেছেন।

মহাদেবপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘নাউরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শিল্পি রাণী মৈত্র ও তার স্বামীকে মারধরের ঘটনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বাদীর দায়ের করা মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

মহাদেবপুরের ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, ‘চেয়ারম্যানের কারাদণ্ডের ব্যাপারে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার নওগাঁর উপ-পরিচালক গোলাম মো. শাহনেওয়াজ এর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ