Alexa চীনে বন্ধ হচ্ছে ওয়ান টাইম প্লাস্টিক

চীনে বন্ধ হচ্ছে ওয়ান টাইম প্লাস্টিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৬ ২০ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৭:৩৩ ২০ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্লাস্টিক ব্যবহারকারী দেশ চীন এবার ওয়ান টাইম প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

রোববার এক বিবৃতিতে চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন (এনডিআরসি) জানিয়েছে, প্লাস্টিক দূষণ কমাতেই এ নতুন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এমনকি ২০২৫ সালের মধ্যে দেশজুড়ে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।

সিএনএনের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক ব্যবহারকারী দেশগুলোর একটি চীন। দেশের ১৪০ কোটি জনগণের ব্যবহার করে ফেলে দেয়া বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য সামলাতে বহু বছর ধরে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির সরকার। দেশটির আবর্জনা স্তুপ করার সবচেয়ে বড় ডাম্পটি প্রায় ১০০টি ফুটবল মাঠের সমান। সেটাও এরইমধ্যে ভরে গেছে। অথচ ডাম্পটি আরো ২৫ বছর ব্যবহার করার কথা ছিল।

তাই চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই দেশটির বড় শহরগুলো থেকে ওয়ান টাইম প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে। এছাড়া রেস্তোরাঁগুলোতে একবার ব্যবহারযোগ্য খাওয়ার পাইপ (স্ট্র) ব্যবহার নিষিদ্ধ করবে দেশটি। ২০২২ সালের মধ্যে সব শহর থেকে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ হবে।

২০১৭ সালে চীন নগরের বিভিন্ন বাড়ি থেকে ২১ কোটি ৫০ লাখ টনের বেশি বর্জ্য সংগ্রহ করেছিল। তবে সেগুলোর কতটুকু রিসাইক্যাল বা পুনর্ব্যবহার যোগ্য করা সম্ভব হয়েছে সে তথ্য পাওয়া যায়নি। সময়ের সঙ্গে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে এই প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ। 

পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই চলতি বছরের মধ্যেই অপচনশীল একবার ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে নিষিদ্ধ করে দেয়া হবে। ২০২২ সালের মধ্যে দেশটির সব শহর ও এলাকা থেকে প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হবে। তবে যেসব বাজারে তাজা পণ্য বিক্রি করা হয়, সেগুলোর জন্য ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। এ সময়ের পর  দেশব্যাপী কোনো ডাক পরিষেবায় প্লাস্টিকের প্যাকেজিং ব্যবহার করার অনুমতি পাবে না।

শূন্য দশমিক শূন্য ২৫ এমএমের চেয়ে কম ঘনত্ববিশিষ্ট প্লাস্টিক ব্যাগের উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হবে দেশটিতে। রেস্তোরাঁগুলোকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার ৩০ ভাগ কমাতে হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য বিনা মূল্যে না দিতে বলা হয়েছে হোটেলগুলোকে।

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২ সালের যৌথ সমীক্ষায় দেখা গেছে, মানুষের একক ব্যবহারে প্লাস্টিক পণ্যগুলো বিশ্বের বন্যজীবনে এক বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলছে। প্রতি বছর আনুমানিক ৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্লাস্টিক সমুদ্রের মধ্যে ফেলে দেয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী সরকার এবং সংস্থাগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে প্লাস্টিকের পদচিহ্নগুলো হ্রাস করার উপায় সন্ধান করছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন সাময়িকী ‘আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটা’র গবেষণা অনুসারে, ২০১০ সালে এই বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ৬ কোটি টন। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৮০ লাখ টন।

২০১৮ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, প্লাস্টিক ব্যবহারের যে বৈশ্বিক চিত্র বর্তমানে দেখা যাচ্ছে তেমনটা ২০২৫ সাল নাগাদ হতে পারে বলে আগে ধারণা করা হয়েছিল।

পরিস্থিতি সামলাতে তাই চীনের নতুন এই পদক্ষেপ।

অবশ্য প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে এটাই চীনের প্রথম প্রচেষ্টা নয়। এর আগে ২০০৮ সালে দেশটি খুচরা বিক্রেতাদের পণ্য বিক্রির সময় ক্রেতাদেরকে বিনামূল্যে প্লাস্টিক ব্যাগ দেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। অতিরিক্ত পাতলা প্লাস্টিক ব্যাগ উৎপাদনও তখন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, এর আগে চীন ছাড়াও এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ড ওয়ান টাইম প্লাস্টিক ব্যাগ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। দেশটি এ বছরের শুরুতে বড় দোকানগুলোতে ২০২১ সালের মধ্যে ওয়ান টাইম প্লাস্টিক ব্যাগ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল।

এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, সুপার মার্কেট ও সাধারণ বাজারে ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে এওয়ান টাইম প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে যাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপেও ওয়ান টাইম প্লাস্টিক বন্ধ করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ