Alexa চীনে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ভয়াবহ সংকট 

করোনাভাইরাস আতঙ্ক

চীনে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ভয়াবহ সংকট 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫৮ ২৬ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

চীনের করোনাভাইরাস যেন মৃত্যুভয় ধরিয়ে দিয়েছে পুরো বিশ্বের মনে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের এখনো কোনো প্রতিষেধক বা ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। এখন প্রতিরোধই এ ভাইরাস থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।

তবে সেদিক থেকেও নতুন বিপদ দেখা দিয়েছে চীনে। ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় মানুষজন ব্যাপক হারে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার কেনার কারণে এসব জিনিসের সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটিতে এখন দিনে ২০ কোটি মাস্ক দরকার হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে গত সপ্তাহে মাত্র দুইদিনে প্রায় আট কোটি মাস্ক বিক্রি করেছে আলিবাবার মালিকানাধীন তাওবাও। জানুয়ারির ১৯ থেকে ২২ তারিখের মধ্যে জেডি ডটকম মাস্ক বিক্রি করেছে অন্তত ১২ কোটি ৬০ লাখ পিস। এছাড়া তাদের হ্যান্ড স্যানিটাইজারের স্টকও শেষ হয়ে গেছে। বিক্রি বেড়েছে থার্মোমিটার, চশমাসহ ঠান্ডাজনিত রোগের বিভিন্ন ওষুধেরও।

এ ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বাইরে থেকে ঘরে প্রবেশ করার আগে ভালো করে হাত-মুখ ধোয়ার কথা বলা হচ্ছে। এমনকি বাইরে বের হলেই মাস্ক পরে থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। 

দেশটিতে আগে থেকেই মাস্কের ব্যবহার থাকলেও করোনাভাইরাসের জেরে এই ইন্ড্রাস্টির উত্থান ঘটেছে। ২০১৮ সালেই বৈশ্বিক মাস্ক ইন্ড্রাস্ট্রি বড় এক ব্যবসা ক্ষেত্র হয়েছিল। ২০১৯ সালের শুরু থেকে এটা এত জোর কদমে বাড়ছে যে, যোগান দিয়ে কুলানো যাচ্ছে না। বিশেষকরে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, কোরিয়াসহ ‘উন্নত’ দেশগুলোতে এর চাহিদা বাড়ছে বেশি করে।

জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ায় চলতি সপ্তাহে মাস্কের ঘাটতি পড়েছে। তাইওয়ান এরই মধ্যে কয়েক মাসের জন্য মাস্ক বিদেশে পাঠানো বন্ধ ঘোষণা করেছে। ম্যাকাওতে মাস্ক কিনতে হলে পরিচয়পত্র দেখাতে হচ্ছে।

দ্য স্ট্রেইট টাইমস জানিয়েছে, একজন সর্বোচ্চ ১০টি মাস্ক কিনতে পারবে বলে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে ম্যাকাও।

এ সংকট মোকাবিলায় বেশিরভাগ মাস্ক কারখানাগুলো চীনা নববর্ষ উপলক্ষে ছুটিতে থাকা কর্মীদের ডেকে পাঠিয়েছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন বাড়াতে দিনরাত কাজ চলছে। তাওবাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রেতাদের জানিয়েছে, এই সংকট সাময়িক। দেশজুড়ে শিগগিরই তাদের স্টক আবার পূরণ করা হচ্ছে। এ নিয়ে ক্রেতাদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে এমন পরিস্থিতিতে মাস্কের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। যদিও জেডি ডটকম ক্রেতাদের আশ্বস্ত করেছে, এমন দুর্যোগের মুহূর্তে তারা কিছুতেই পণ্যের দাম বাড়াবে না। তবে স্টকই যদি না থাকে, সেক্ষেত্রে সীমিত দাম কতটুকু উপকার করবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকের।

উল্লেখ্য, চীনে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৮৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিনই এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ভাইরাসটি এরই মধ্যে বিশ্বের ১৩টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাদুড় এবং সাপের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ