চিহ্নিত হলো করোনাভাইরাসের নতুন একটি উপসর্গ

চিহ্নিত হলো করোনাভাইরাসের নতুন একটি উপসর্গ

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪১ ৩১ মার্চ ২০২০  

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের দাপটে অসহায় হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। এরইমধ্যে এই ভাইরাস ২০০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রতিষেধক না থাকায় মরছে মানুষ।

এতদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির উপসর্গ কেবল জ্বর থেকে শুরু করে শুষ্ক কাশি কিংবা শ্বাসকষ্ট বলে জানা ছিল। এবার এর সঙ্গে আরো একটি উপসর্গ যোগ হয়েছে। নতুন করোনাভাইরাস বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফুসফুসকে সংক্রামিত করে থাকলেও বর্তমানে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, এটি হার্টকেও প্রভাবিত করতে পারে।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকরা একটি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে হার্ট অ্যাটাকের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।

ব্রুকলিনের একটি হাসপাতালে একজন রোগী অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এবং রক্তে ট্রোপোনিন নামক প্রোটিনের উচ্চ মাত্রা সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। যদিও এই দুটি সমস্যা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। কিন্তু পরবর্তীতে পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওই রোগীর হার্ট অ্যাটাক ছিল না, বরং তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়েছেন। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে, তার কেসটি ব্যতিক্রম হতে পারে না।

আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির চিফ সায়েন্স ও কোয়ালিটি অফিসার ড. জন রামসফেল্ড নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, আমরা এতদিন কেবল ফুসফুস, ফুসফুস এবং ফুসফুস নিয়ে ভাবছিলাম, যা আমাদের জন্য সহায়ক বিষয় ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে আমরা হার্টের ওপর সম্ভ্যাব্য প্রভাব সম্পর্কে শুনতে শুরু করি।

এর আগে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস এর হেলথ সায়েন্স সেন্টারের গবেষকদের একটি গবেষণায় বলা হয়েছিলো, হার্টের পূর্ব সমস্যা ছাড়াই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

গবেষণাটির প্রধান গবেষক ড. মোহাম্মদ মাদজিদ বলেন, আগে থেকে হৃদরোগ না থাকলেও সম্ভবত করোনাভাইরাস রোগে হার্টের টিস্যু আক্রান্ত হতে পারে। অর্থাৎ হৃদরোগী ছাড়াও করোনাভাইরাসে যেকোনো রোগীর হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। আর ইতিমধ্যে যাদের হৃদরোগ রয়েছে তাদের ঝুঁকি বেশি।

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত হয়েছে ৭ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ। এর মধ্যে মারা গেছে সাড়ে ৩৭ হাজার। আর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সাড়ে ২৯ হাজার মানুষ।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ