চাহিদার কারণে অনলাইন শিক্ষা উপকরণের দামও বেড়েছে

চাহিদার কারণে অনলাইন শিক্ষা উপকরণের দামও বেড়েছে

সালাহ উদ্দিন চৌধুরী, সেন্ট্রাল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪৭ ১০ আগস্ট ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজ বন্ধ হওয়ার পর শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাস। ফলে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস শুরু করেছে। এর ফলে অনলাইন শিক্ষা উপকরণ সামগ্রীর (মোবাইল ফোন, ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, ট্যাব) দাম বেড়ে গেছে। শুধু শিক্ষা উপকরণই নয়, দাম বেড়েছে সব ধরনের কম্পিউটার এক্সেসরিজেরও।

করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার গত মার্চ মাস থেকে বন্ধ ঘোষণা করে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা অব্যাহত আছে এখনো। এদিকে গত এপ্রিল-মে মাস থেকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে ক্লাস নেয়া শুরু করেছে। এমনকি অনলাইনে কোচিংও করাচ্ছেন শিক্ষকরা। মোবাইল ফোন, ডেস্কটপ, ল্যাপটপ কিংবা ট্যাব ব্যবহার করে এসব ক্লাস করতে হচ্ছে। ফলে আকস্মিকভাবেই বেড়েছে এসব পণ্যের চাহিদা।

আবার করোনার কারণে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণে বন্ধ হয়ে যায় পণ্যের আমদানি-রফতানি কার্যক্রমও। এদিকে হঠাৎ করে চাহিদার বিপরীতে এসব পণ্যের সরবরাহ না থাকায় সৃষ্টি হয়েছে সংকটের। এ সুযোগে আকাশচুম্বি দাম বৃদ্ধি পেয়েছ ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণের।

বিশেষ করে মাইক্রোফোনযুক্ত হেডফোন, ওয়েবক্যাম, হেডফোন কনভার্টার, হার্ডডিস্ক, র‍্যাম, পেনড্রাইভ, ডিভিডি রাইটারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে বহুলাংশে।

রাজধানী এলিফেন্ট রোডের আলপনা প্লাজা কম্পিউটার মার্কেটে ইটিসি কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী নওশাদ হোসেন জানান, করোনার বিস্তার শুরুর আগে যেখানে কয়েক মাস লাগতো ১০টি ওয়েবক্যাম বিক্রি করতে এখন ৫ দিনেই তা শেষ হয়ে গেছে। একইভাবে মাইক্রোফোনযুক্ত হেডফোনের চাহিদা বেড়েছে ব্যাপকহারে।

তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ২৫০ থেকে ৩শ’ টাকা মূল্যের একটি হেডফোন এখন ৬শ’ থেকে ১২০০ টাকা, ২৫-৩০ টাকা মূল্যের হেডফোন কনভার্টার দেড়শ’ টাকা। ৩০০ টাকার ওয়েবক্যাম এখন ১২শ’ থেকে দেড়-দুই হাজার টাকা, ওয়ারেন্টিযুক্ত ৪ জিবি চায়না র‍্যামের দাম আগের তুলনায় ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা বেশি। এক হাজার টাকার ৫০০জিবি হার্ডডিস্ক এখন দেড় হাজার টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ১৭০০ থেকে ২০০০ টাকা মূল্যের ১২০ জিবি এসএসডি হার্ডডিস্কের দাম এখন ২৫০০ থেকে ২৭০০ টাকা। একইভাবে বেড়েছে রাউটারের দামও। এভাবে কম্পিউটারের প্রতিটি যন্ত্রাংশের দামই বৃদ্ধি পেয়েছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় অধিকাংশ স্কুলেই এখন অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। ফলে এ ধরনের পণ্যের হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয় সারাবিশ্বের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে। ফলে বিশ্বব্যাপী এসব পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। অথচ চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে না। দেশে ইলেকট্রনিক্স পণ্য প্রস্তুতকারী কিছু প্রতিষ্ঠান থাকলেও কাঁচামালের জন্য তাদরেও চীনের উপর নির্ভর করতে হয়। ফলে তারাও উৎপাদন করতে পারছে না চাহিদা অনুযায়ী। তবে গত এক মাস ধরে এসব পণ্যের উচ্চমূল্য কিছুটা কমেছে বলে জানান তিনি।

রাজধানীর সানিডেল স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র সৈয়দ রায়ান রহমানের মা আফরোজা জানান, ছেলের স্কুলে অনলাইনে ক্লাস শুরু হওয়ার পর তার জন্য বাড়তি মোবাইল কেনার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু মার্কেটে গিয়ে দেখতে পান আগের তুলনায় মোবাইল ফোনের দাম বেড়েছে অনেকখানি। ব্যায় সংকোচনের জন্য বাসায় ডেস্কটপ কম্পিউটার থাকায় ওয়েবক্যাম ও মাইক্রোফোনযুক্ত হেডফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সেগুলোর দামও অস্বাভাবিক রকম বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপরও বাধ্য হয়ে বাড়তি দামেই সেগুলো কিনতে হয়েছে তাকে।

করোনা সংক্রমণরোধে দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, শপিংমল বন্ধ থাকার পর গত জুন মাস থেকে সবকিছু খোলার অনুমতি দেয় সরকার। দোকান খুললেও কম্পিউটার মার্কেটগুলোতে নেই পর্যাপ্ত সরবরাহ। ব্যাংকগুলোও চীন থেকে মালামাল আনতে এলসি খুলতে দিচ্ছে না। আগে খোলা এলসিগুলোর মধ্যে খুব কমই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস হচ্ছে। তাই আগের মজুদকৃত পণ্য দিয়েই মেটাতে হচ্ছে চাহিদা। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বৃদ্ধি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি শাহিদ উল মুনীর বলেন, সারাবিশ্বে করোনার প্রভাব ও একইসঙ্গে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কম্পিউটার পার্টসের কিছুটা সংকট সৃষ্টি হলেও অচিরেই তা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। মূল্য ঠিক রাখতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপও নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসসি/টিআরএইচ