চাল নিয়ে চালবাজি

চাল নিয়ে চালবাজি

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৫১ ৩ এপ্রিল ২০২০  

চাল (ফাইল ছবি)

চাল (ফাইল ছবি)

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে গরিবদের কাছে ১০ টাকার চাল বিক্রিতে ভুয়া তালিকা ও অন্যত্র ৯শ’ টাকা দরে বস্তা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১ নম্বর বালিথুবা পশ্চিম ইউপিতে এ ঘটনা ঘটেছে।

কার্ডধারী গরিব লোকজন চাল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। এ বিষয়ে চাঁদপুর ডিসি বরাবর লিখিত অভিযাগ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ভুয়া তালিকা তৈরিতে সংশ্লিষ্ট পরিবেশক (ডিলার), ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা খাদ্য বিভাগের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিলেছে। ঠিকাদার ও জড়িতদের চাল বিতরণের চিত্র দেখে মনে হয়েছে নিয়ম-নীতির কোনো তোয়াক্কা করেননি। ডিলারের দায়িত্বে রয়েছেন করিম পাটওয়ারী কিন্তু এই কাজটি বাস্তবায়ন করছেন স্থানীয় এমপির প্রতিনিধি মদনের গাঁও গ্রামের বাহাউদ্দিন খান বাহার নামে একজন। এসব অনিয়ম নিয়ে এলাকায় এখন মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে কার্ড থাকা সত্ত্বেও চাল না পেয়ে এই বিষয়ে বুধবার (১ এপ্রিল) চাঁদপুর ডিসির নিকট অভিযোগ করেছেন ওই ইউপির বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের স্ত্রী মমতাজ বেগম ও হোসেন আলীর ছেলে মো. আল-আমিন।

আল-আমিন তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত এক বছর পূর্বে বাহাউদ্দিন বাহার তার কাছ থেকে কার্ড নিয়ে যান। আর কার্ডটি ফেরত দেননি। এর কারণে তাদের সংসার খুবই কষ্ট চলছে। বাহার তাদের চাল না দিয়ে এই চাল অন্যত্র ৩০ টাকা দরে বিক্রি করেন। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী আল-আমিন ও মমতাজ বেগম ডিসিকে বিষয়টি বিবেচনার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

শফিকুর রহমান এমপির কর্মী মো. জসিম উদ্দিন জানান, গরিবকে ১০ টাকা কেজি চাল না দিয়ে বেশি দামে বিক্রি করা খুব দুঃখজনক। এমপি সাহেব বাহারকে প্রতিনিধি করার পরই তিনি স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেন। তার বিভিন্ন অনিয়মের কারণে সেকদি গ্রামে সঠিকভাবে সরকারি বরাদ্দগুলো পৌঁছায় না। বাহার সবকিছু নিজের মতো করছেন এবং কারো সঙ্গে কোনো সমন্বয় না করে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন। তার কার্যক্রমগুলো এমপি মহোদয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্রশাসন যাচাই-বাছাই করে অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

বাহাউদ্দিন খান বাহার জানান, আমি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কোনো ডিলার না। ডিলার হলো করিম পাটওয়ারী। আমি এমপির প্রতিনিধি হিসেবে কাজগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় কিনা তা দেখে রাখি। ১০ টাকা কেজির চাল অন্য কোথাও বিক্রি হয়নি। যারা চাল বিতরণ করেছেন তাদের বলেছি যদি কোনো চাল থেকে যায় তবে তা যেন প্রকৃত গরিবদের দেয়া হয়। অনেক সময় কেউ যদি চাল না নেয় তাহলে থেকে যাওয়া চাল বিক্রি করা হয় খরচ উঠানোর জন্য। কারণ চালগুলো খাদ্য গুদাম থেকে আনতেও খরচ হয়। বিক্রি না হলে নষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়া যে চাল বিক্রির কথা উঠেছে, সেগুলো হচ্ছে টিআর কাবিখার চাল। এখন শ্রমিকরা কাজের বিনিময়ে খাদ্য বরাদ্দের সরকারি চাল নিতে চায় না। সে জন্য ওই চাল বিক্রি করে শ্রমিকদের টাকা দিতে হয়। তালিকায় যে ত্রুটি আছে তা দেখেছি। এই তালিকা চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে করা হয়েছে। যদি ভুল থাকে তা সঠিকভাবে তৈরি করা দরকার। 

বালিথুবা ইউপি চেয়ারম্যান মো. সফিকুর রহমান পাটওয়ারী জানান, গত কয়েকদিন আগে চাল বিতরণে অনিয়ম হচ্ছে এমন একটি অভিযোগ আমার মোবাইলে বার্তা আসে। তবে গ্রাম পুলিশ গিয়ে পরে ওই ব্যক্তিকে পায়নি। তবে যে তালিকা তৈরি হয়েছে, ওই তালিকায় কিছু গড়মিল আছে। আমাদের সচিব হয়তো তালিকা তৈরির সময় ভুল করেছেন। আমি উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি, সঠিকভাবে তালিকা তৈরি করে পরবর্তীতে চাল দেয়া হবে। যদি কেউ অনিয়ম করে থাকেন, তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টরা ব্যবস্থা নিবেন। আমি চাই প্রকৃত গরিব যেন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ উদ্যোগ থেকে উপকৃত হন।

ফরিদগঞ্জ ইউএনও শিউলি হরি এই বিষয়ে বলেন, বালিথুবা ইউপিতে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণের যে তালিকা সেটি গত বছর করা হয়েছে। তখন আমি ছিলাম না। চাল বিতরণের কার্ড আমি আসার পর পরিবর্তন করা হয়নি। যদি কেউ চাল না পেয়ে থাকেন অথবা তালিকায় ত্রুটি থাকে তাহলে তালিকা এনে দেখব।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম