Alexa ১২ জেলায় বাস চলাচল বন্ধ

১২ জেলায় বাস চলাচল বন্ধ

ডেস্ক নিউজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৪১ ১৮ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২৩:০০ ১৮ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারের দাবিতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলা ও উত্তরাঞ্চলের দুই জেলা থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা।

ডেইলি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী সোমবার সকাল থেকে যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী ও বগুড়ায় ধর্মঘট  শুরু হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। কেউ হেঁটে, কেউবা আবার মোটরসাইকেল, অটোরিকশার মতো ছোট বাহনে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।

নড়াইল শহরের মহিষখোলার বাসিন্দা লিখন জানান, তিনি যশোর যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে বাস ধর্মঘটের বিষয়টি জানতে পারেন। অফিস আদালতগামীরাও বিপাকে পড়েছেন।

সোনালী ব্যাংক নড়াইল শাখার সিনিয়র অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন তিনি যশোর থেকে নড়াইলে এসে অফিস করেন। কিন্তু বাস বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কর্মস্থলে আসতে হয়েছে।

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বেবী বলেন, আমাদের এত টাকা দেয়ার সামর্থ্য নেই। বাস চালিয়ে আমরা জেলখানায় যেতে চাই না। এ কারণে আইন সংস্কারের দাবি জানিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছি।

খুলনা জেলা বাস মিনিবাস কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন সোনা বলেন, মহাসড়কগুলোতে নসিমন-করিমনের দৌড়াত্মের কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে। এসব যানবাহন বন্ধ ও চালকদের জরিমানা করলেই দুর্ঘটনা কমে যাবে।

যশোর জেলা পরিবহন সংস্থার সভাপতি মামুনুর রশীদ বাচ্চু বলেন, লাইসেন্স ও ফিটনেস ছাড়া কোনো বাস সড়কে নামছে না। জেলার ১০ শতাংশ শ্রমিক স্বেচ্ছায় কর্মবিরতি পালন করছে। এতে সংগঠনের কোনো হাত নেই।

নড়াই জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান জানান, বাস বন্ধ রাখার ব্যাপারে সংগঠন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। চালক-শ্রমিকরা নতুন আইনের ভয়ে স্বেচ্ছায় বাস চালানো বন্ধ করে দিয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ জানান, নতুন আইনে সড়কে কেউ মারা গেলে চালকের মৃত্যুদণ্ড এবং আহত হলে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছে। অথচ একজন চালকের বেতন সর্বোচ্চ ১৫-২০ হাজার টাকা হয়। তাদের পক্ষে নতুন আইন মানা সম্ভব নয়।

বগুড়া জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান, এটি সংগঠনের কোনো কর্মসূচি নয়। চালকরা স্বেচ্ছায় গাড়ি চালানো থেকে বিরত রয়েছেন।

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ ধর্মঘট ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ডাকা হয়নি। নতুন আইন সংস্কারের দাবিতে শ্রমিকরা স্বেচ্ছায় কর্মবিরতি পালন করছে। তবে যাত্রীদের দুর্ভোগে ফেলা উচিত হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/আরএ