চামচ দিয়ে খাবার খাচ্ছেন? রাসূল (সা.) এর হাদিসটি একবার জানুন

চামচ দিয়ে খাবার খাচ্ছেন? রাসূল (সা.) এর হাদিসটি একবার জানুন

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০৪ ১৪ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৭:১৭ ১৪ আগস্ট ২০২০

ছবি: চামচ দিয়ে খাবার খাওয়ার বিধান

ছবি: চামচ দিয়ে খাবার খাওয়ার বিধান

রাসূল (সা.) এর প্রতিটি অভ্যাস হচ্ছে তার উম্মতের জন্য সুন্নত। রাসূল (সা.) ব্যক্তিগত জীবনে খাবার-দাবার রাজনীতি অর্থনীতি সমাজ সংস্কার সব কিছুর ওপরেই তিনি তার জীবনাদর্শ ঠিক রেখে গেছেন। প্রত্যেকটি বিষয় যদি আমরা রাসূল (সা.)-কে অনুসরণ করি তাহলে আমরা সুন্নতি পাবন্দি করার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভ করবো। 

আবু দাউদ ও মিশকাত শরীফে একটি হাদিস পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে রাসূল (সা.) কখনোই  রান্না করা গোশত কাটা চামচ দিয়ে কেটে খেতেন না। তিনি বলেছেন, তোমরা ছুরি দ্বারা গোশত কেটো না, কেননা তা আজমি তথা অনারবদের আচরণ অভ্যাস। বরং তোমরা দাঁত দিয়ে ছিড়ে খাও। কারণ এটা অতি সুস্বাদু এবং বেশি হজমদার। (আবু দাউদ; মিশকাত) 

যদিও এটা অনারবদের অভ্যাস বলা হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, তথাপি তিনি যেহেতু রাহমাতুল্লিল আলামিন বিশ্ব আলেম এর জন্য আল্লাহ তায়ালার তরফ থেকে পাঠানো সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, সুতরাং আরব-অনারব অসংখ্য উম্মত রয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে কি কাটা চামচ দিয়ে খেতে পারবে? সেক্ষেত্রে বলা উচিত হাদিসের দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, যদি তোমরা কাটা চামচ বা চামচ দিয়ে খাবার না খেয়ে হাত এবং দাঁত ব্যবহার করে গোশত ছিড়ে খাও, তাহলে সেটা খুব সহজে হজম হবে। 

বর্তমান খাদ্য বিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ যদি হাত দিয়ে খাবার খায় তাহলে পেটে সেই খাবার গিয়ে খুব সহজে হজম হয়ে যায়। চামচ দিয়ে সেই খাবার ফলে উপকারিতা ১০০ ভাগ পাওয়া যায় না। এছাড়াও খাদ্য পাত্রের তল চাট অর্থাৎ নিচে লেগে থাকা রাসূল (সা.)-কে মোহিত করত। অর্থাৎ রাসূল (সা.) পাত্রের অবশিষ্ট খাদ্য যা তার গায়ে লেগে থাকতো তা খেতে খুব পছন্দ করতেন। বর্তমান বিজ্ঞান বলছে, খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ কণিকাগুলো খাবারের নিচে পড়ে থাকে অর্থাৎ প্লেটের সঙ্গে লেগে থাকে। সুতরাং যারা জীবনভর প্লেট পরিষ্কার করে খাবারের উচ্ছিষ্টাংশসহ ভালোভাবে খেয়েছেস তারা ৮০ শতাংশ রোগের হাত থেকে বেঁচে গেছেন।

আল্লাহর রাসূল (সা.) আঙ্গুলসমূহ ও খাদ্য পাত্র চেটে খেতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, তোমরা জানো না যে কোন আঙ্গুল বা লোকমাতে বরকত নিহিত আছে। হজরত মুসা (রা.) আনহু রাসূল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো পেয়ালার খাবার খায় এবং খাবারের শেষটা চেটে খায় পাত্রটি তার জন্য আল্লাহ তায়ালা কাছে মাগফেরাত কামনা করে। (আহমদ তিরমিজি মিশকাত)।

প্রিয় নবীর জীবনীবিষয়ক বিখ্যাত হাদিসগ্রন্থ শামায়েলে তিরমিজিতে এসংক্রান্ত অনেক হাদিসে এসেছে। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) কখনো টেবিলে আহার করেননি এবং ছোট পেয়ালাবিশিষ্ট খাঞ্জায়ও খানা খাননি। তার জন্য কখনো চাপাটি রুটিও অর্থাৎ চিকন পাতলা রুটি তৈরি করা হয়নি।

ইউনুস বলেন, আমি কাতাদাহকে জিজ্ঞাসা  করলাম, তাহলে কোন জিনিসের ওপর রাসূল (সা.) খানা খেতেন? অর্থাৎ খাওয়ার সময় কি বিছিয়ে খানা খেতেন। তিনি বলেন, এই দস্তরখানা ওপর। এ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, দস্তরখানা বিছিয়ে খাবার খাওয়া সুন্নত। বর্তমানে যেকোনো কাপড় বা রেক্সিন বিছিয়ে তার ওপর খাবারের প্লেটে রেখে খেলে দস্তরখান বিছানোর সুন্নত আদায় হবে। দস্তরখানা বিছানো সুন্নত এ কারণে যে, কোনো খাবার পড়ে গেলে তা যেন আবার তুলে খাওয়া যায়। এতে খাবারের অপচয় থেকে বাঁচা যায়। 

উপরের হাদিস থেকে আরো একটি বিষয় জানা গেল, নবী করিম (সা.) টেবিলে বসে খাবার খেতে না। বরং মাটিতে বা বিছানায় বসে দস্তরখানা বিছিয়ে খেতেন। অন্য হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) মাটিতে বা বিছানায় বসে  খাবার খাওয়ার কারণ বর্ণনা করে বলেছেন, আল্লাহ আমাকে বানিয়ী বান্দা বানিয়েছেন। তিনি আমাকে অহংকারী নাফরমান বানাননি। (আবু দাউদ)।

রাসূল (সা.) কখনো একা একা খাবার খেতেন না বরং সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে খেতেন। এই বিষয়ে হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত রয়েছে। যেখানে রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা একত্রে খানা খাও, পৃথক পৃথক খেও না। কেননা জামাতের সঙ্গে খাবার খাওয়ার মধ্যে বরকত হয়ে থাকে। ( ইবনে মাজাহ, মিশকাত)। 

মেহমানদারীর ক্ষেত্রে রাসূল (সা.) বলেন, যে ঘরে মেহমানদের অনর্গল খানা খাওয়ানো হয় সেখানে আল্লাহর বরকত দ্রুত পৌঁছে যায়। রাসূল (সা.) ঠিক সেই অংশটার উদাহরণ টেনে বলেছেন, রহমত এবং বরকত তত দ্রুত ওই ঘরে প্রবেশ করে। যত বেশি ওই ঘরে মেহমানদারী হবে। অর্থাৎ মেহমানদের খাবার-দাবার এবং তাদের আদর আপ্যায়ন হবে। আল্লাহ আমাদেরকে বেশি বেশি রাসূল (সা.) এর দেখানো পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/আরএজে