চাপড়া বিলে অতিথি পাখির মেলা

চাপড়া বিলে অতিথি পাখির মেলা

এবিএম আতিকুর রহমান, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৫ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ঘাটাইলে অতিথি পাখির ঝাঁক (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

ঘাটাইলে অতিথি পাখির ঝাঁক (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা। একদিকে লাল মাটির পাহাড়বেষ্টিত বনভূমি, অপরদিকে নদী-নালা, খাল-বিল ও চারধারে জলাশয় থাকায় বিশেষ উপজেলা হিসেবে পরিচিতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর ঘাটাইলে অতিথি হয়ে আসে ভিনদেশি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এবারো ঘাটাইল শহরের অদূরেই ধলাপাড়ার চাপড়া বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে এসেছে অতিথি পাখি। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে চাপড়া বিল ও বিভিন্ন জলাশয়।

দর্শনার্থীরাও ভিড় করছেন পাখি দেখতে। দিনের ক্লান্তি শেষে কাজের ফাঁকে অনেকেই ঘুরতে আসছেন ঘাটাইলের চাপড়া বিলে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৈরী পরিবেশ থেকে টিকে থাকার জন্য হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আসে এই অতিথি পাখি। শীত শেষ হয়ে আসলেও ঘাটাইলের বেশকিছু জায়গায় অতিথি পাখিতে ভরে উঠেছে জলাশয়গুলো। ঘাটাইলের চাপড়া বিল এবং নেদার বিল নামক দুটি বড় জলাশয়ে প্রতি বছর কয়েক’শ অতিথি পাখি আসতে দেখা যায়। 

এসব পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে ঝাঁক বেঁধে এক সঙ্গে আকাশে উড়ার দৃশ্য আনন্দ দেয় দর্শনার্থীদের। চাপড়াবিল এবং নেদারবিলে গিয়ে চোখে পড়ে এমনই দৃশ্য। প্রায় বেশিরভাগ জায়গায় ধান চাষের জন্য জমি তৈরি করছেন স্থানীয় কৃষকরা। পাখিগুলো বসার জন্য তেমন কোনো সুযোগ না পাওয়ায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে উড়ে বেড়াচ্ছে।

এখানে আসা দর্শনার্থীরা জানান, আমরা প্রতি বছর এখানে বেশ কয়েক বার ঘুরতে আসি। বিশেষ করে শীতের সময়টা অনেক ভালো লাগে। অতিথি পাখিরা আসে, তাদের কিচিরমিচির শব্দ একটা সুরের পরিবেশ সৃষ্টি করে।

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম জানান, এখানে গত কয়েক বছর ধরে অনেক অতিথি পাখি আসছে। আমরা পাখিগুলোকে বিরক্ত করি না। এগুলো বিলে থাকলে দেখতেও ভালো লাগে। তাই পাখি দেখা ও সময় কাটানোর জন্য জেলা-উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে।

ঘাটাইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, আসলে অতিথি পাখিরা শীতের সময় দূর-দূরান্ত থেকে আসে। প্রতি বছর তারা ঘাটাইলের বিভিন্ন ছোট-বড় জলাশয়ে বিশেষ করে ধলাপাড়ার নেদারবিল এবং চাপড়াবিলে আসে এটা আমরা দেখেছি।

তিনি আরো জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে অত্র উপজেলায় অতিথি পাখির বিচরণ লক্ষ করছি। বিপুল সংখ্যক পাখি আসে এখানকার জলাশয়গুলোতে। অতিথি পাখিরা যেখানে তাদের খাবারের সুবিধা বেশি পাবে, নিরাপদ আশ্রয়স্থল পাবে সেখানেই যাবে। আমাদের উচিত পাখিগুলোকে কোনো প্রকার অত্যাচার না করে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে দেয়া।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম