Alexa ‘চাকরির চেয়ে আত্মকর্মসংস্থান বেশি মর্যাদার’

‘চাকরির চেয়ে আত্মকর্মসংস্থান বেশি মর্যাদার’

সাবজাল হোসেন, কালীগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:১৩ ২০ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পড়াশোনা শেষ করেছেন কয়েক বছর আগেই। কিন্তু চাকরি জোটেনি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের রবিউল ইসলাম রবির ভাগ্যে। তাই বলে হাল ছাড়েননি। বাড়ির পাশের ১৬ বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেছেন, ঔষধি গাছ লাগিয়েছেন, ফলের বাগান করেছেন।

তরুণ এ উদোক্তা সৃষ্টি করেছেন কর্মসংস্থান। তার মতো অনেককেই দেখাচ্ছেন স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন।

রবিউল ইসলাম রবি কালীগঞ্জের কোলা ইউপির কাকলাশ গ্রামের মৃত ছবেদ আলী মণ্ডলের ছেলে। তিনি জানান, ফল ও ঔষধি গাছের বাগান সবার নজর কেড়েছে। অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ছয় বিঘা জমির মাল্টা বাগানে এবারই প্রথম ফলন হয়েছে। এ পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি। আরো কয়েক বছর এ বাগান থেকে মাল্টা পাওয়া যাবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রবিউল ইসলামের বাড়ির চারপাশেই দারুচিনি, তেজপাতা, কাঠ লিচু, লটকন, কদবেল, চালতা, বেদানা, জলপাই, লিচু, আম, জাফরান, বেল, পেয়ারা, জাম, আমড়া, করমচা, আমলকী, লেবুসহ বিভিন্ন ফল ও ঔষধি গাছ। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজির বাগান।

রবিউলের মাল্টা বাগান ঘুরে দেখা গেছে, দেড় শতাধিক গাছে ঝুলছে সবুজ ও হলুদাভ রঙয়ের মাল্টা। কিছু মালটা পাকতে শুরু করেছে।

রবিউল ইসলাম রবি ডৈইলি বাংলাদেশকে বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাগান করার শখ। তাই পড়াশোনা শেষে চাকরির পেছনে না ছুটে বাণিজ্যিকভাবে ফলের বাগান করেছি। চাকরির চেয়ে আত্মকর্মসংস্থানই বেশি মর্যাদার বলে মনে করি।

তিনি আরো বলেন, ২০১৭ সালের জুনে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার অভিজ্ঞ মাল্টাচাষি সাখাওয়াত হোসেনের কাছ থেকে ৮৫০টি চারা কিনে ছয় বিঘা জমিতে বাগান করেছি। দেশি জাতের মাল্টার স্বাদ ভালো, বাজারে চাহিদাও বেশি। সারাবছর এ বাগানে চারজন শ্রমিক কাজ করেন।

রবিউল বলেন, এ এলাকায় আমিই প্রথম মাল্টা চাষ করেছি। প্রথম দিকে এত বড় ঝুঁকি নিতে ভয় লেগেছিলো। কিছুদিনের মধ্যেই গাছগুলো সতেজ হয়ে ওঠে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

রবির ভাই আতাউর রহমান জানান, রবিউলের ফল, সবজি ঔষধি গাছে বাড়ির চারপাশ ছেয়ে গেছে। শুরুতে সবাই বাধা দিয়েছে। কিন্ত সফলতা আসায় তাকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও বাগানের পরিচর্যায় সহায়তা করে।

ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন জানান, রবিউল ছোটবেলা থেকেই ধৈর্যশীল ও কঠোর পরিশ্রমী। চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এতে আরো অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক অনুপ্রাণিত হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, রবিউল ইসলাম রবি সৃজনশীল মনোভাবের মানুষ। কৃষি কর্মকর্তারা অনেকবার তার বাগান দেখতে গিয়েছেন। সবাই রবিউলের প্রশংসা করেছেন, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। সঠিক পরিচর্যায় অল্প সময়েই স্বাবলম্বী হবেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর