চাই কেনার কথা বলে বাবা-ছেলেকে হত্যা, স্বীকারোক্তিতে রোমহর্ষক তথ্য

চাই কেনার কথা বলে বাবা-ছেলেকে হত্যা, স্বীকারোক্তিতে রোমহর্ষক তথ্য

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫৪ ৭ জুলাই ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হত্যাকাণ্ডের ৪-৫ দিন আগে থেকেই  বাবা-ছেলের উপর নজর রাখছিলেন পরিকল্পনাকারীরা। ঘটনার দিন ৬০টি চাই কেনার কথা বলে এবং চাইগুলো বাবা-ছেলেকে এলাকায় পৌঁছে দেয়ার অনুরোধ করেন। পরিকল্পনা অনুয়ায়ী প্রথমে ছেলেকে নির্জন স্থানে নিয়ে গলা কেটে হত্যা, পরে বাবার পেটের দু’পাশে ছুরি বসিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পানিতে ডুবিয়ে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা।

বরিশালের বাখেরগঞ্জের আলোচিত বাবা-ছেলে হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার আসামিরা স্বীকারোক্তিতে এ রোমহর্ষক তথ্য দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার বরিশালের বাখেরগঞ্জের কবাই ইউপির চর লক্ষ্মীপুরপাশার পান্ডব নদী ও পার্শ্ববর্তী নদীর তীর সংলগ্ন ঝোপের ভেতর থেকে প্রথমে ইয়াসিন হাওলাদারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর ১৬ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকাল ৮টায় নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় ইয়াসিনের বাবা হেলাল উদ্দিন হাওলাদারের লাশ করা হয়।

পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে তিন হত্যাকারী গ্রেফতার করাসহ লুণ্ঠন করে নেয়া ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও মোবাইল, রক্তমাখা কাপড়-চোপড় উদ্ধার করেছে।

আটককৃতরা হচ্ছেন মোঃ বাদশা হাওলাদার, মো. শাহীন খাঁ পিতা মোঃ সবুজ খাঁ মো. ছানির হাওলাদার। তাদের সবার বাড়ি বরিশালের বাখেরগঞ্জে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বরিশাল পুলিশ লাইনের ইন সার্ভিস টেনিং সেন্টারে এ জোড়া হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সেখানে বাবা-ছেলের হত্যাকারীদের পরিচয়সহ তাদের কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন বরিশাল জেলা পুলিশের এসপি পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম ।

আসামিদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে এসপি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ৪-৫ দিন আগে থেকেই তাদের উপর নজর রাখে। ঘটনার দিন ৬০টি চাই কেনার কথা বলে এবং চাইগুলো তাদের এলাকায় পৌঁছে দেবার অনুরোধ করে। পরিকল্পনামাফিক বাদশা শাহীন ও সানি ট্রলারে উঠে এবং চর লক্ষ্মীপাশা নামকস্থানে থামিয়ে চাইগুলো নামাতে বলে। 

অপরদিকে ইয়াসিনকে টাকা দেবার কথা বলে সানি ও শাহীন একটু দূরে বাগানে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে ফেলে অন্য দু’জন হাত পা চেপে ধরে হত্যা নিশ্চিত করে।

এরপর হত্যাকারীরা নদীর তীরে এসে বৃদ্ধ হেলাল উদ্দিনকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দিয়ে ছুরি পেটের দুই পাশে ছুরি বসিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে আসামিরা ভিকটিমের সঙ্গে থাকা ৩৫০০ টাকা, ১টি মোবাইল, ট্রলার ও পড়নের কাপড়-চোপড় নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যায়। 

তিনি আরো বলেন, লাশ উদ্ধারের পরপরই আমরা তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে সোমবার ঢাকার সদরঘাট এলাকার তেলঘাট নামকস্থান থেকে ঘাতক তিনজনকে গ্রেফতার করাসহ ট্রলারটি উদ্ধার করি।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অ্যাডিশনাল এসপি নইমুল হক, অ্যাডিশনাল এসপি সরদার ফরহাদ হেসেন ও বাখেরগঞ্জ এসপি সার্কেল আরোয়ার সাঈদ প্রমুখ।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধায় অজ্ঞাতনামা গলা কাটা লাশ পড়ে আছে এ সংবাদ পেয়ে বাখেরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝোপের ভেতর থেকে লাশ উদ্ধার করে। পরের দিন সকাল ৮টায় নদীতে ভাসমান লাশ দেখা যাচ্ছে এমন সংবাদে পুলিশ গিয়ে সেই বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং একপর্যায়ে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ