Alexa চাঁদপুরে স্কুলছাত্রকে গলাকেটে হত্যা, পরিকল্পনাকারীসহ আটক ৯

চাঁদপুরে স্কুলছাত্রকে গলাকেটে হত্যা, পরিকল্পনাকারীসহ আটক ৯

চাঁদপুর প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০১:০৯ ২২ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে দোকানের ভেতর থেকে স্কুলছাত্রের গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পরিকল্পনাকারীসহ নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

হত্যার প্রধান আসামি ফারুককে মঙ্গলবার সকালে ময়মনসিংহ থেকে আটক করেছে পিবিআই।

এদিকে মঙ্গলবার দুপরে পুলিশ ও পিবিআই’র অভিযানে মামলার প্রধান আসামি ফারুকের ঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ফারুক ডিবি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

আটকদের মধ্যে নিহত রিয়াদের আপন চাচাও রয়েছেন। আটক অন্যরা হলো মকিমাবাদ গ্রামের জালাল উদ্দিন হাজী বাড়ীর মুকবুলের ছেলে রাকিব, হানিফের ছেলে রাব্বী, মোস্তফার ছেলে সাকিব ও আবদুল মালেকের ছেলে রাকিব, আবুল কাশেম, দোকানের মালিক ফরিদ হোসেন, চাচা শাকিল ও  সুইপার নুরুল আমিন।

রোববার সকালে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড মকিমাবাদ গাইন বাড়ির ফরিদ হোসেনের দোকান থেকে নবম শ্রেণির ছাত্র মারুফ হোসেন রিয়াদের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। 

নিহত রিয়াদ গাইন বাড়ির ফারুক হোসেনের ছেলে।

এ ঘটনায় নিহত রিয়াদের বাবা ফারুক হোসেন আপন ভাই, ভাইয়ের ছেলেসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে হাজীগঞ্জ থানায় ওইদিনই মামলা করেন।

সোমবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ থেকে আটক করা হয়েছে মামলার ১ নম্বর আসামি ফারুকককে। পিবিআইর কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। ফারুকই হলো রিয়াদ হত্যার পরিকল্পনাকারী। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে জানান নিহত রিয়াদের বাবা।

রিয়াদের লাশের সুরতহাল তৈরিকারী পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রিয়াদকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার গলায় চারটি পেটের মধ্যে তিনটি ধারালো চুরির আঘাত পাওয়া গেছে। তার পেটের নাড়ি-ভুড়িও বের হয়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, টয়লেটের ট্যাংকিতে রিয়াদের লাশ গুম করে রাখার চেষ্টা করে খুনিরা। আর এ জন্য দুইটি টয়লেট পরিষ্কার করে নুরুল আমিন। 

এ ঘটনার পর থেকে ফরিদের দোকানে থাকা কর্মচারী ফারুক হোসেন পলাতক রয়েছে। ফারুক পাশ্ববর্তী কচুয়া উপজেলার ৫ নম্বর ইউপির মালছোঁয়া গ্রামের বাসিন্দা। সে দোকানের মালিক সিঙ্গারা বিক্রেতা ফরিদের ভায়রা।

নিহত রিয়াদের মা রোজিনা বেগম বলেন, ফারুকের সঙ্গে একটি মোবাইল নম্বর নিয়ে হট্টগোলের কথা জানতে পেরেছি। এছাড়া রিয়াদের চাচা শাকিল সে আমার বোনকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তাতে আমরা রাজি হইনি। এ নিয়ে শাকিলের সঙ্গে আমার ছেলের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই মাস আগে একটি ব্রেসলেটকে কেন্দ্র করে রিয়াদকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে শাকিল। তখন হাসপাতালে নিয়ে সেলাই দেয়া হয়। থানায় একটি অভিযোগও দেয়া আছে। 

রিয়াদের বাবা ফারুক মিয়া বলেন, আমার চাচাতো ভাই শাকিলের সঙ্গে আমার ছেলের দ্বন্দ্ব রয়েছে। সে তার পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে। তারা আমার ছেলেকে হুমকি দিয়েছিল। সপ্তাহখানেক আগে আমার নতুন বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় কে বা কারা। আমার সঙ্গে কিসের শত্রুতা। আমার ছেলেকেও খুন করলো। সকাল থেকে শাকিল ও ফারুক পলাতক রয়েছে।

দোকানের মালিকের স্ত্রী শাহিদা বেগম বলেন, ফারুকের সঙ্গে রিয়াদের আগে বন্ধুত্ব ছিল। এরইমধ্যে একটু খারাপ সম্পর্ক দেখেছি। দোকানটি ফারুক পরিচালনা করতো। প্রতিদিন বিকেলেই দোকানটি বন্ধ করা হয়।

স্থানীয় কাউন্সিলর জাহেদুল আজহার আলম বেপারী বলেন, সকালে দোকানের মালিক ফরিদ দোকানের কর্মচারী ফারুককে ঘুম থেকে জাগাতে এসে দেখে বন্ধ। পরে সার্টার ভেঙে দেখে রিয়াদের লাশ। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ খবর দিয়েছি। 

হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো.  আলমগীর হোসেন রনি জানান, দোকানের মালিক ফরিদ হোসেনসহ আটজনকে আটক করা হয়েছে। সবাইকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

চাঁদপুর জেলা পুলিশের এসপি সুপার মো. মাহবুবুর রহমান ও হাজীগঞ্জ পৌর মেয়র আ.স.ম. মাহবুব-উল আলম লিপন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ