চাঁদপুরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

চাঁদপুরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৫৪ ৬ আগস্ট ২০২০  

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন শহরের বিভিন্ন এলাকা, চরাঞ্চলের ইউপি ও হাইমচরের তিনটি ইউপির কয়েক হাজার মানুষ

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন শহরের বিভিন্ন এলাকা, চরাঞ্চলের ইউপি ও হাইমচরের তিনটি ইউপির কয়েক হাজার মানুষ

চাঁদপুরে বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মেঘনার পানি। এ কারণে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন শহরের বিভিন্ন এলাকা, চরাঞ্চলের ইউপি ও হাইমচরের তিনটি ইউপির কয়েক হাজার মানুষ। 

গত বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লঞ্চঘাট, হরিণা ফেরিঘাট, শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক, নাজিরপাড়া, রহমতপুর কলোনী, নিউ ট্রাক রোড, আব্দুল করিম পাটওয়ারী সড়ক, কোড়ালিয়া রোড, যমুনা রোড, মাদরাসা রোড, পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজ সড়ক, হাফেজিয়া মাদরাসা সড়ক, মৈশাবাড়ী রয়েজ রোড, নিতাইগঞ্জ সড়ক, মধ্য শ্রীরামদী, পশ্চিম শ্রীরামদী, সদরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউপি, ইব্রাহীমপুর ইউপি, হানারচর ইউপি ও চান্দ্রা ইউপি প্লাবিত হয়।

এ ছাড়াও রাস্তার উপর দিয়ে পানি উঠে প্লাবিত হয়েছে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী, হাইমচর সদর ও নীলকমল ইউপির ৩ হাজার মানুষের বসতঘর। এ ছাড়া উপজেলার মহজমপুর, চরভাঙ্গা এলাকায়, বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে সেচ প্রকল্প এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, ঝিল, পুকুর, সড়ক প্লাবিত হয়েছে। এতে করে এই এলাকার ৫ শতাধিক পানের বরজ ও ১ হাজার মাছের পুকুর ও খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউপির চেয়ারম্যান হাজী আবুল কাশেম খান জানান, ৪ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। এতে করে চরফতেজংপুর ও ইব্রাহীমপুর গ্রামের মানুষ এখন পানিবন্দি।

সদরের রাজরাজেশ্বর ইউপির চেয়ারম্যান হযরত আলী জানান, ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে চিরাচ্চর, রায়েরচর, গোয়ালনগর, বরিয়ারচর, মুগাদি, বাঁশগাড়ি, চরসুরেশ এলাকায় রাস্তাঘাট ও বাড়িগুলো এবং ইউপি কার্যালয়টিও পানিতে তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়েই লোকজন এখন মাচাবেঁধে অবস্থান করছেন।  

হাইমচর উপজেলার মহজমপুর গ্রামের সাহেব আলী, সোহাগ গাজী, দুলাল মিয়া, ইয়াছিন মিজি, ছালেহ আহমদ জানান, বিকেল থেকে হঠাৎ করে প্রচণ্ড গতিতে পানি বাড়ি ঘরে প্রবেশ করে। ঘরের মধ্যে এখন তারা পানিবন্দি। তাদের গবাদি পশু ও হাঁস মুরগি পানির মধ্যে রয়েছে।

হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারী জানান, উপজেলার ডেলেরবাজার থেকে শুরু করে চরভৈরবী পর্যন্ত সড়কের মহজমপুর ও পুরাতন হাইমচর সড়কের দু’টি ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি প্রবেশ করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে করে মহজমপুর, চরকৃষ্ণপুর, নয়ানী, লামচরী, দক্ষিণ চরভৈরবী, গাজীনগর, নতুন বাজারসহ আশপাশেল এলাকার বাড়িঘর জোয়ারের পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে। রাস্তার উপরে দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। কয়েক এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে বলে জানান তিনি। 

চাঁদপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ বাবুল আখতার বলেন, দক্ষিণের বাতাস, পূর্ণিমার প্রভাব ও উজানের পানি বৃদ্ধির ফলে মেঘনা নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়। এতে করে চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকাসহ হাইমচর উপজেলার কয়েকটি ইউপি পানিতে প্লাবিত হয়ে বন্যার দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে চাঁদপুর শহর রক্ষাবাঁধ ও সেচ প্রকল্প ঝুঁকিতে রয়েছে। আশা করি ভাটার সময় পানি নেমে যাবে। তবে আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পরিস্থিতি বুঝে যেকোনো পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।

এ ব্যাপারে ডিসি মাজেদুর রহমান খান বলেন, হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পেয়ে শহরে বন্যা দেখা দেয়। বিগত কয়েক দিন যাবত জেলার চরাঞ্চলগুলোতে বন্যা থাকলেও শহরে পানি উঠেনি। কিন্তু হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। আশা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম