Alexa চাঁদপুরে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা

চাঁদপুরে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা

চাঁদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:০৯ ২০ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ২০:১০ ২০ জানুয়ারি ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় সোমবার দিনব্যাপী অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে জেলা পরিবেশ অধিদফতর।

এ সময় চারটি অবৈধ ইটভাটা থেকে ৪৪ লাখ টাকা জরিামানা আদায় করা হয়।

দুপুরে প্রথমে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার আলীগঞ্জে মেসার্স কামাল ব্রিকস ফিল্ডের মালিক শাহজাহান বেপারী ও কামাল বেপারীর অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে  ছয় লাখ টাকা জরিমানা করে এবং গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।

এরপর হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার বিলওয়াই এলাকার রণি ব্রিকসের মালিক মান্নান বাচ্চু ও এমবিএম ব্রিকসের মালিক হাসিবুল হাসানকে ছয় লাখ টাকা করে মোট ১৮ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

বিকেলে হাজীগঞ্জের বাখরপুর গ্রামে মেসার্স আব্দুল গণি ব্রিকসে অভিযান পরিচালনা করে ফিল্ডের মালিক মহসিন পাটওয়ারী ও চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়াকে ২৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় ভাটা।

এ অভিযান পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদফতরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এ এইচ এম রাসেদ, র‌্যাব-১১ কুমিল্লার ডিএডি মো. আমিরুল ইসলাম, চাঁদপুর মডেল থানার এসআই মফিজুল ইসলামসহ ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা।

অবৈধ ইটভাটা স্বীকার করে ব্রিক ফিল্ডের পরিচালকরা বলেন, মূলত আমরা অবৈধভাবে ইটভাটা চালাচ্ছি।

মেসার্স কামাল ব্রিক ফিল্ডের পরিচালক শাজাহান বেপারী বলেন, ২০১২ সালের পর আমরা ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নের জন্য দরখাস্ত করি। কিন্তু আমাদের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে কোনো ধরনের অনুমতি দেয়া হয়নি। এছাড়া অভিযানের আগে আমাকে কোনো ধরনের নোটিশ দেয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মীর হোসেন, বেলাল মজুমদার ও শামছুল বলেন, আমাদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ইটভাটার কাজ হচ্ছে। ইটভাটার কারণে আমাদের প্রতিনিয়িত দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে পরিবেশের অনেক ক্ষতি হতো। এখানে কোনো প্রকার ফসল ও গাছ টিকে থাকে না। এছাড়া আমাদের চলাফেরায় বড় ধরনের সমস্যা হতো। ইটভাটাটি বন্ধ করে দেয়ায় আমাদের উপকার হয়েছে।

এদিকে ইটভাটা বন্ধ করে দেয়ার বিপক্ষে কথা বলেছে শ্রমিকরা। আবুল কালাম, হাসিম মিয়া ও এমরান গাজীসহ কয়েকজন শ্রমিক জানান হুট করে ইটভাটা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এখন আমরা কোথায় যাবো। একটি ইটভাটায় কত মানুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। আমরা তো এখন সহজে কাজ পাবো না।

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

জেলা পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এ এইচ এম রাসেদ বলেন, আমরা অভিযানের আগে ইটভাটার মালিকদের সভা-নোটিশ করেও বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তারা সেই নির্দেশনা শুনেনি, যার কারণে ঢাকা থেকে পরিবেশ অধিদফতর থেকে অভিযান চালানো হয়েছে। জেলা ইটভাটা রয়েছে ১২৬টি, চলমান রয়েছে ১০০টি। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। চাঁদপুরে যতগুলো অবৈধ ইটভাটা রয়েছে পর্যায়ক্রমে সবগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।

পরিবেশ অধিদফতরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ বলেন, পৌর এলাকার মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যারা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না মেনেই দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটা তৈরি করেছে তাদের বিরুদ্ধেই অভিযান চলছে। অবৈধ ইটভাটাগুলোর পাশে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। জরিমানা হওয়া ইটভাটার কোনো কাগজপত্র নেই। আমরা সারাদেশেই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। তারই অংশ হিসেবে চাঁদপুরে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ