চাঁদপুরে করোনায় অসহায়দের পাশে কিউআরসি

চাঁদপুরে করোনায় অসহায়দের পাশে কিউআরসি

চাঁদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪৭ ৩০ মে ২০২০  

অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল

অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল

তরুণ প্রজন্ম কীভাবে একটি সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হতে পারে তা দেখিয়ে দিলো চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েলের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কিউআরসি (কুইক রেসপন্স ডিউরিং ক্রাইসিস)। 

চাঁদপুরে করোনা সংকটের সূচনালগ্নে জিল্লুর রহমান জুয়েল এক ঝাঁক তরুণকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করে কিউ আর সি। উদ্দেশ্য এ সংকট কালে চাঁদপুর পৌরসভার মানুষের যেকোনো সংকটে পাশে দাঁড়ানো। এটিই একমাত্র সেবামূলক প্রতিষ্ঠান যেটি ২৪ ঘণ্টা মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

করোনাভাইরাসের কারণে চাঁদপুর পৌরবাসী এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির দিক নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছে কিউআরসি। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে দোকানপাট, সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিউআরসি টিম পৌরবাসীর সেবায় সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।

সংগঠনের প্রায় অর্ধশতাধিক সেবাকর্মী ৩০টি মোটরসাইকেলযোগে প্রতিদিন চাঁদপুর শহরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত হটলাইনের কল অনুযায়ী সেবা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

কিউআরসি টিমের সদস্যরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে থেকে শহরের বিভিন্ন মোড়ে মানুষজনকে সচেতন করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ৩২টি নির্দেশনা মানার জন্য শহরের মানুষগুলোকে অনুরোধ করে যাচ্ছেন।

এছাড়া লকডাউনের সময় যখন মানুষ ঘরে অবস্থান করছিল তখন হটলাইনে কল দিলেই মানুষের চাহিদা মতো বাজার পৌঁছে দিয়েছে বাড়িতে।

হটলাইনে সংগঠনটির কর্মীরা কল পেলেই ডাক্তার নিয়ে হাজির হয়েছে বাড়িতে এবং টেলিফোনের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করেছে। পৌঁছে দিচ্ছে প্রয়োজনীয় ওষুধ। রাত-দিন যখনই ফোন পাচ্ছেন তাৎক্ষণিক ছুটে গিয়ে রোগীর উদ্দেশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন তারা। তিন শিফটে ২৮ চিকিৎসক স্বাস্থ্যসেবার পরামর্শ দিচ্ছেন।

লকডাউনে নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং অসহায়দের ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হয়েছে যার যার চাহিদা মতো। মধ্যবিত্ত শ্রেণির যারা চক্ষু লজ্জায় কাউকে কিছু বলতে পারছে না, তখন তাদের খুঁজে নামে কিউ আর সি। খুঁজে খুঁজে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাতে তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে উপহার সামগ্রী।

শহরের মোড়ে মোড়ে মাস্ক , হ্যান্ড সেনিটাইজার , গ্লাভস বিতরণ করা হয়েছে। চাঁদপুর পৌর এলাকার যারা ওষুধ সংগ্রহ করতে পারছেন না, তাদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থাসহ অসুস্থ রোগীদের জন্য জরুরি পরিবহন ব্যবস্থা দেয়া হচ্ছে।

করোনা আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগী মারা গেলে তারও দাফনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রস্তুত কিউআরসি টিম। মৃতদেহের জানাজা থেকে দাফন পর্যন্ত সব কাজ করছে কিউ আর সি। শুধু তাই না হিন্দু ধর্মাবলম্বী কেউ মারা গেলে তাদের সৎকারও করছে কিউ আর সি।

করোনায় ঝুঁকি এড়াতে যারা ঘরে আছেন তাদের প্রয়োজন মতো মোবাইল লোড , বিকাশ , প্রি-পেইড মিটারে লোডসহ বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করে যাচ্ছে কিউআরসি টিম।

শহরে মশার উপদ্রপ বেড়ে গেলে নিজেদের উদ্যোগে মেশিন এবং ওষুধ কিনে মশা নিধন কার্যক্রম শুরু করেছে কিউ আর সি।

এ টিম এখন পর্যন্ত ১৫টি ওয়ার্ডে ৮ হাজার ৫০টি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১ হাজার ১৪০ পরিবারকে চাল, ডাল, তেল, চিনি, সেমাই, দুধ, পেঁয়াজ, লবণ, আলু, পোলাও চালসহ খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়েছে। মোট ৯ হাজার ১৯০ জনকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়। 

শুধু তাই নয়, জরুরি আরো ছয়টি সেবা দেয়া হচ্ছে কিউআরসি থেকে। গত ২৮ মে পর্যন্ত হট লাইন নাম্বারে কল দিয়ে ডাক্তারি পরামর্শ গ্রহণ করে ৩ হাজার ৩৪০ জন, ১ হাজার ৭৫০ জনকে জরুরি ওষুধ সেবা, ১ হাজার ৩০০ জনকে জরুরি পরিবহন সেবা, ৬৭৬ জনের বাড়িতে বিনা পারিশ্রমিকে বাজার পৌঁছে দেয়া, ৩১০ জন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া এবং ৩২৫ জনের বাসায় বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারে লোড সার্ভিস দেয়া হয়েছে। এসব তথ্য জানিয়েছেন সংগঠনের তরুণ কর্মী প্রিয়ভাজন মো. মেহেদী হাসান। 

গত আড়াই মাস ধরে চাঁদপুর পৌর এলাকায় চলা এই কার্যক্রম জেলা সদরের সব মহলে প্রশংসিত হচ্ছে ও ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। ২৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সেবামূলক সংগঠন হিসেবে সার্বক্ষণিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কিউ আর সি বাংলাদেশে প্রথম। শুধু তাই নয়, নিজের মোবাইল নাম্বারটি উন্মুক্ত করে দেন অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল। যতজনই মোবাইল নাম্বারে কল দিয়েছেন প্রত্যেকেই খুবই দ্রুত সেবা পেয়েছেন। 

কিউআরসি টিম ছাড়াও অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েলের উদ্যোগে প্রায় ৭ হাজার লোকের ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে।


 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ