Alexa চলচ্চিত্রে নৈরাজ্য ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন নীতিমালা

চলচ্চিত্রে নৈরাজ্য ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন নীতিমালা

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫১ ২১ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৭:০১ ২১ অক্টোবর ২০১৯

সংবাদ সম্মেলনে প্রযোজক পরিবেশক সমিতি ও বিএফডিসির অন্যান্য সংগঠনের নেতারা

সংবাদ সম্মেলনে প্রযোজক পরিবেশক সমিতি ও বিএফডিসির অন্যান্য সংগঠনের নেতারা

সিনেমা নির্মাণে ব্যয় কমাতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি। সংগঠনটির সঙ্গে পরিচালক সমিতি ও বিএফডিসির অন্যান্য সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করেছে।

নতুন নীতিমালার বিষয়ে জানাতে সোমবার দুপুরে বিএফডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি। সংবাদ সংম্মেলনে নতুন নীতিমালার বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রযোজক কিবরিয়া লিপু।

নতুন এ নীতিমালায় বলা হয়েছে- সকাল ১০ টায় অবশ্যই শুটিংয়ের ক্যামেরা ওপেন করতে হবে। আর শুটিং চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। এরমধ্যে যোহরের নামাজ ও দুপুরের খাবারের জন্য একঘণ্টা বিরতি থাকবে। কোনো শিল্পী যদি সময় মতো শুটিং সেটে না আসেন, তার জন্য যদি শুটিং শুরু না হয় এবং আর্থিক ক্ষতি হয় সেই দায়-দায়িত্ব দেরিতে আসা শিল্পী বা কুশলীকে বহন করতে হবে। 

শিল্পী আসার পরেও সময়মতো শুটিং শুরু করতে না পারলে তার দায় নিতে হবে পরিচালককে। সকাল ১০ টায় ক্যামেরা ওপেন করার জন্য যে অভিনেতা অভিনেত্রীদের দরকার সেটা নির্ধারণ করবে পরিচালক। শুটিং কলটাইম থাকবে সকাল আটটায়, তবে অভিনেতা অভিনেত্রীদের সুবিধার্থে পরিচালক কর্তৃক সময় নির্ধারণ হবে। 

একটি ছবি শুরুর আগে অবশ্যই কলা-কুশলীকে চুক্তিপত্রে সাক্ষর করতে হবে। চুক্তির সময় প্রথম কিস্তিতে সাইনিং মানি হিসেবে পারিশ্রমিকের ২৫ শতাংশ দেয়া হবে। পরবর্তীতে কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে তিন কিস্তিতে পারিশ্রমিক পরিশোধ করা  হবে, কোনো অবস্থাতেই এককালীন পারিশ্রমিক গ্রহনযোগ্য হবে না। 

এক লাখ টাকার উপরে যাদের পারিশ্রমিক তারা কোনো প্রকার কনভেন্স (যাতায়াত ভাতা) পাবেন না। যেসব কলাকুশলী দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করে পারিশ্রমিক পান, তারা আউটডোরেও সেই পরিমাণ পারিশ্রমিক পাবেন। আউটডোরে শুটিং চলাকালীন সহকারী পরিচালক ও সহকারী চিত্রগ্রাহকরা কনভেন্সের অর্ধেক হাত খরচ পাবেন।

ড্রেসের জন্য কোনো শিল্পীকে আলাদা কোনো টাকা প্রদান করা হবে না। গল্পের প্রয়োজনে শিল্পীদের ড্রেস প্রোডাকশন থেকে তৈরি হবে, শুটিং শেষে সকল ড্রেস শিল্পীকে প্রোডাকশনের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। কোনো ড্রেস কোনো শিল্পীর পছন্দ হলে সেটা ক্রয়মূল্য দিয়ে শিল্পী শুটিং শেষে নিতে পারবেন।

চলচ্চিত্র মুক্তির আগে প্রমোশনের জন্য প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীদের কমপক্ষে ৫ দিন শিডিউল দিতে হবে। নায়ক, নায়িকা, ভিলেন (প্রধান চরিত্র) যারা কাজ করেন তারা একজন করে সহকারী সঙ্গে নিতে পারবেন। যেটির ব্যয় প্রোডাকশন বহন করবে। অতিরিক্ত কেউ থাকলে তাদের ব্যয়ভার প্রোডাকশন বহন করবে না।

সংবাদ সংম্মেলনে আরো জানানো হয়, নতুন এই নীতিমালা আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। এই নীতিমালা পর্যবেক্ষণের জন্য ১১ সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন- শামসুল আলম এবং সদস্য সচিব বদিউল আলম খোকন। অন্যান্য সদস্যরা হলেন জায়েদ খান, আবদুল লতিফ বাচ্চু, আবু মুসা দেবু, সোহানুর রহমান সোহান, এমডি ইকবাল, আলিম উল্লাহ্‌, আসাদুজ্জামান মজনু, কবিরুল ইসলাম রানা, সুব্রুত।

বিষয়টি নিয়ে প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, চলচ্চিত্রের এই নীতিমালার পর শিগগিরই প্রদর্শক সমিতি (সিনেমা হল মালিক)-এর সঙ্গে আলাপ করে আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন করবো। এতে করে সিনেমা হলের দুর্নীতি, মেশিন ভাড়া সবকিছুই দূর হবে। চলচ্চিত্রের খারাপ সময় কাটিয়ে ওঠার জন্য এই নীতিমালার বিকল্প নেই। যদিও নতুন নীতিমালা প্রযোগ করতে অনেক বাধা আসবে, তারপরও আমরা কঠোর থাকবো। নিয়মের অনিয়ম করা যাবে না, কেই করলে মেনে নেবো না। 

পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন বলেন, প্রথমবারের মতো এফডিসির সংগঠনগুলো সমন্বয়ে এই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। কিছু অসাধু মানুষের জন্য এবং প্রযোজক সমিতির নির্বাচন সাত বছর থেমে থাকায় এমন নীতিমালা প্রণয়ন সম্ভব হয়নি। আশা করছি এর মাধ্যমে সবকিছুর শৃঙ্ক্ষলা ফিরবে।

সংবাদ সংম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু, সাধারণ সম্পাদক শাসমুল আলম, কামাল মো. কিবরিয়া লিপু, আলিমুল্লাহ খোকন, মেহেদী হাসান সিদ্দিকী, ইলা জাহান, পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, শাহীন সুমন, কবিরুল ইসলাম রানা (অপূর্ব রানা)সহ অনেকে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ