চর অপসারণ, থামল ধলাইয়ের ভাঙন

চর অপসারণ, থামল ধলাইয়ের ভাঙন

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৬ ১২ জুলাই ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নদীর চর অপসারণ করায় আশার আলো দেখছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বানভাসি মানুষ ও স্থানীয় কৃষকেরা। ধলাই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে চর অপসারণের কারণে চলতি বর্ষা মৌসুমে বন্যার ঝুঁকি কমেছে অনেকাংশে।

এর আগে প্রতি বর্ষা মৌসুমে ভারী বর্ষণে, ধলাই নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নতুন ভাঙনের সম্মুখীন হতো উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও স্থানীয় কৃষকেরা।

স্থানীয়রা জানান, ধলাই নদীতে আঁকাবাঁকা ও ইউ আকৃতির অসংখ্য চর থাকার ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হতো। অল্প বর্ষণেই উজানের পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদী ফুলে ফেঁপে উঠতো প্রায়। প্রবল স্রোতে বাঁক ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিত। নদী ভাঙনের কারণে সেখানকার বাড়িঘর, ফসলি জমি ও গ্রাম্য রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়ে আসছিল বহু বছর ধরে। এ কারণেই ধলাই নদীকে কেউ কেউ কমলগঞ্জবাসীর দুঃখ হিসেবে মনে করতেন। এ নিয়ে বানভাসি মানুষ ও কৃষকসহ বিভিন্ন মহলের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ধলাই নদী খনন ও সংস্কারের জন্য। 

স্থানীয়রা আরো জানান, বিগত বছরগুলোতে বর্ষা মৌসুমে ধলাই নদীর একাধিক স্থানে ভাঙন দিয়ে বন্যার পানি ঢুকে তলিয়ে গিয়েছিল বাড়ি ঘর । ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কৃষকের শত শত একর ফসলি জমিসহ মাছের ঘের। ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙনের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল ধলাই নদীর গভীরতা কম ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধের বিপরীত পাশে নদী গর্ভে জেগে উঠা বালু চরগুলোকে।

প্রতি বছরই ভাঙন রোধে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জরুরি কাজ করানো হতো। কিন্তু গত ২০১৯ সালের জুলাই মাসে টানা ১২ দিনের মাঝারি ও ভারী বর্ষণের কারণে নতুন নতুন স্থানে ভাঙনসহ পাহাড়ি ঢলে চলমান জরুরি কাজেরও ব্যাপক ক্ষতি করে, এক কাজ দুইবার করায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীনও হয়েছিলেন অনেক ঠিকাদাররা। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বানভাসি মানুষ ও স্থানীয় কৃষকের দুঃখ দুর্দশা লাঘব করতে, চর অপসারণ কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড। আর এ চর অপসারণের কারণে চলতি বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত কোথাও নদী ভাঙন দেখা দেয়নি।

চর অপসারণেই নদী ভাঙন রোধ হয়েছে বলে অনেকই মনে করছেন। চলতি বর্ষা মৌসুমে শুরুতেই ধলাই নদীতে গত ৪-৫ জুন উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও, নতুন করে কোন ভাঙন দেখা যায়নি।

মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু জানান, নদী ভাঙনের ভোগান্তিতে থাকা মাধবপুর ইউপির ১৫-২০টি গ্রামের মানুষ বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন আতঙ্কে থাকতো । চর অপসারণ করায় এ এলাকায় কোনো ভাঙন দেখা দেয়নি। তবে হিরামতির বাঁধটি ইউ আকৃতি হওয়ায় সেখানে ব্লক দেয়াটা অত্যন্ত জরুরি।

কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ জানান, চর অপসারণের আগে প্রতি বছরই পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা নদী ভাঙন দেখা দিতো। পানি উন্নয়ন বোর্ড চর অপসারণ করায় বন্যার কবল থেকে এলাকা রক্ষা পেয়েছে। তবে পৌরসভাধীন আলেপুর এলাকাটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চর অপসারণের ব্যাপারে কমলগঞ্জের ইউএনও মো. আশেকুল হক জানান, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে নদী তার পথ পরিবর্তন করায় ধলাই নদীটি মানুষের ভোগান্তির কারণ ছিল। এ কারণে বিভিন্নস্থানে ভাঙন দেখা দিতো। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চর অপসারণে এলাকার উপকার হয়েছে। কমলগঞ্জের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্লকের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রমেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, ধলাই নদী খনন ও সংস্কারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ২২টি স্থানে চর অপসারণের কাজসহ আপদকালীন সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণস্থানে জিওব্যাগ ফেলানোসহ জরুরি কাজ চলমান। কাজ শেষ হলে ভোগান্তির অনেকটাই লাঘব হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ