Alexa চরে সবজি আবাদে স্বাবলম্বী

চরে সবজি আবাদে স্বাবলম্বী

শাহাজাদা এমরান, কুমিল্লা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৫১ ২২ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৫:১৭ ২২ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুমিল্লা সদরের গোমতী নদীর চর। চরটি বিশাল থাকায় সদর উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা সবজি আবাদ করেন। প্রতিবারের ন্যায় এবারো চরটিতে আবাদ হচ্ছে সবজি। এতে গতবারের মতো সবজি উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হবেন কৃষকরা। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন তারা। 

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষেতের মাঝে কেউ সবজির চারা রোপন করছেন, কেউবা চারায় পানি দিচ্ছেন। অনেকে ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করছেন। কেউ কেউ নতুন আবাদের জমি প্রস্তুত করছেন। আবার বিভিন্ন জাতের চারা উৎপাদনেও ব্যস্ত রয়েছেন অনেক কৃষক। সবমিলে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, শিম, টমেটো, কাঁচামরিচ, মুলা, করলা, লাউ, ঢেঁড়স, গাজর, লালশাক, পালংশাকসহ বিভিন্ন জাতের সবজিতে ফসলের মাঠ ভরে উঠেছে।

কুমিল্লা সদরের পাঁচথুবী ইউপির জালুয়াপাড়ার বাসিন্দা ও গোমতী চরের স্বাবলম্বী কৃষক খোরশেদ মিয়া। তিনি বলেন, গোমতীর নদীর চরের মাটি অত্যন্ত উর্বর। নদী কাছে থাকায় পানির অভাব পড়ে না। সবজি চাষের জন্য চরটি একটি আদর্শ জায়গা। মুলা শীতকালীন সবজি হলেও চরে সারা বছর মুলা আবাদ হয়। বছরে দুই থেকে তিনবার উঠানো হয় এ সবজি। 

তিনি আরো বলেন, গতবারের মতো এবারো বীজতলাসহ প্রায় ১৫০ শতক জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, কুমড়া, আলু, টমেটো, মরিচ, শিম ও বেগুন। আশা করি, গতবারের মধ্যে এবারো অধিক লাভবান হবো। এছাড়া বাড়তি টাকা আয়ের জন্য নিজের বীজতলায় চারা উৎপাদিন করি। নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে অতিরিক্ত চারা হাট-বাজারসহ বিভিন্ন প্রান্তিক কৃষকদের কাছে বিক্রি করি। তাছাড়া এ চরে অনেক কৃষক সবজি আবাদ করে আমার মতো স্বাবলম্বী হচ্ছেন। তবে সবজির ফলন ভালো হওয়ার জন্য জেলা বা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণের কর্মকর্তা আমাদের সহযোগিতা করেননি। তারা সহযোগিতা করলে আমরা আর্থিভাবে আরো লাভবান হতে পারতাম। 

গোমতীর চরের আরেক কৃষক আলমগীর হোসেন বলে, নদীর চরের সব জায়গায় ভালো ফসল হয়। তাই কৃষকরা সবজি চাষে সবসময় উদ্বুদ্ধ। এখানে সবজি চাষ করে অনেক কৃষক পরিবার এখন স্বাবলম্বী। 

কৃষক মো. মীর কাশেম বলেন, এবার ৩০ শতক জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করেছি। প্রতি বছরই জমিতে ভালো ফসল হয়। কিন্তু ফলন ভালো হলেও পোকার আক্রমণে সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিন বছর ধরে কোনো কৃষি কর্মকর্তা মাঠে আসেন না। আমাদের ফসলের খোঁজ নেন না। সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে সবজি আবাদে লোকসানে পড়তে হয়।     

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুরজিত চন্দ্র দত্ত বলেন, আবহাওয়া অনুকূল ও বাজার দর ভালো থাকলে শীতকালীন সবজি আবাদে লাভবান হবেন কৃষকরা। গোমতী নদীর চরে সবজি আবাদে কুমিল্লার কৃষকরা বরাবরই ব্যস্ত থাকেন। এছাড়া জেলার আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, বরুড়া, লালমাই, চান্দিনা, দাউদকান্দি, দেবিদ্বার ও মুরাদনগরসহ অন্যান্য উপজেলার কৃষকরা বড় পরিসরে সবজির আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চান্দিনা উপজেলা। এসব এলাকার কৃষকরা নিজ থেকে সবজি আবাদে অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। 

কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের কাজ হচ্ছে কৃষকদের খোঁজ নেয়া। যদি কোনো কৃষি কর্মকর্তা দায়িত্বে অবহেলা করেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ