চবিতে পাঁচ টাকার কয়েনেই মিলবে স্যানেটারি ন্যাপকিন

চবিতে পাঁচ টাকার কয়েনেই মিলবে স্যানেটারি ন্যাপকিন

চবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:০৬ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:১৫ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হাতের নাগালেই ভেন্ডিং মেশিনে পাওয়া যাবে স্যানেটারি ন্যাপকিন। যেখানে পাঁচ টাকার কয়েন ফেললেই পাওয়া যাবে এই ন্যাপকিন বা প্যাড। এই সেবা পাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি অনুষদ ও একটি আবাসিক হলের প্রায় ১০ হাজার ছাত্রী। ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন তৌসিফ আহমেদ। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ পড়ছেন। 

শুরুর গল্পটা যেমন

ফেসবুক এর কল্যাণে বিভিন্ন দেশের স্কুলগুলোতে ভেন্ডিং মেশিন আছে এমন সংবাদ দেখতে পাই। তখন থেকেই এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ। যেহেতু আমাদের দেশের মধ্যে ভেন্ডিং মেশিন এর ব্যবহার সম্পর্কে জানা ছিলো না।  ২০১৯ সালে এলজি অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রামে এই প্রজেক্ট নিয়ে অংশগ্রহণ করি, পরে তারা আমার প্রজেক্টকে সিলেক্ট করে। এটি বাস্তবায়নে আর্থিক অনুদান দেয়। পুরষ্কার স্বরূপ এলজি স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনে সাড়ে চার লাখ টাকা অনুদান দেয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু করি মেশিন ইম্পোর্টের কাজ। একদিন হলো যা হাতে এসে পৌঁছায়।

সেবা পাবেন যেভাবে:

ভারত থেকে আমদানিকৃত প্রতিটি ভেন্ডিং মেশিনে ১০০টি প্যাড রাখা থাকবে। ভেন্ডিং মেশিনগুলো কয়েন অপারেটেড। প্রতিটি মেশিনের নির্দিষ্ট স্থানে ৫ টাকার কয়েন (ধাতব মুদ্রা) ফেললেই বেরিয়ে আসবে একটি প্যাড। সহজেই ছাত্রীরা এটি ব্যবহার করতে পারবেন। ছাত্রীদের মধ্যে এটি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়াতে উদ্বোধনের প্রথম দুই সপ্তাহ বিনামূল্যে ভেন্ডিং মেশিন থেকে প্যাড সংগ্রহ করা যাবে। এরপর থেকে নির্দিষ্ট মূল্যেই প্যাড সংগ্রহ করতে হবে। আর ভেন্ডিং মেশিনে সরবরাহকৃত প্যাডগুলো অত্যন্ত উন্নতমানের। যা সেনোরা ব্র্যন্ডের আল্ট্রা থিন প্যাড। তবে ছাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী পরবর্তীতে অন্য প্যাডও রাখা হতে পারে বলে জানান তিনি।

যতো জায়গায় ভেন্ডিং মেশিন

সেবাগ্রহীতারা যাতে সহজেই হাতের নাগালে স্যানিটারি প্যাড পেতে পারেন এজন্য অনুষদগুলো ও হলের কমন রুমে ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে। ছাত্রীরা ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, জীববিজ্ঞান অনুষদ, বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউট এবং শেখ হাসিনা হলের ভেন্ডিং মেশিনগুলো থেকে স্যানিটারি প্যাড সংগ্রহ করতে পারবেন।

স্বপ্ন যতো দূর

তৌসিফ আহমেদ বলেন, আমার উদ্দেশ্য ছিলো চবিতে ৮ টি ভেন্ডিং মেশিনের মাধ্যমে সহজে ও কম দামে জরুরি মুহূর্তে ন্যাপকিন সুবিধা প্রদান করা। এর পরিধি সামনে আরো বাড়ানোর চিন্তা আছেই। মেশিনগুলা এই সপ্তাহে লাগানো হবে। আশা করি সামনের সপ্তাহে উদ্বোধন করতে পারবো। এই প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে আমার বন্ধুরা সহযোগিতা করছে। পরিবর্তিতে বিভিন্ন অনুষদ থেকে কয়েকজন সদস্য নিয়ে সেন্ট্রাল টিম এর মাধ্যমে আমরা কাজ করে যাবো। সেই সঙ্গে মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এইচএম কামরুল হাসান থাকবেন উপদেষ্টা হিসেবে।

তিনি আরো জানান, আমদানিকারকরা জানিয়েছেন সুষ্ঠু ও সঠিক ব্যবহারে দুই বছর নিরবিচ্ছিন্নভাবে ভেন্ডিং মেশিনগুলো থেকে সেবা পাওয়া যাবে। তবে এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে একটি স্বেচ্ছাসেবী দল তৈরি করে দেয়া হবে। যারা প্যাড রিফিলের কাজটি করবে এবং কোনো ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি হলে অবহিত করবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম