আড্ডায় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স সিওও সৈয়দ ইয়াসির আলম

আড্ডায় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স সিওও সৈয়দ ইয়াসির আলম

আসাদুজ্জামান লিটন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪৫ ২ জুন ২০২০   আপডেট: ১৩:৩৮ ২ জুন ২০২০

আনন্দে মেতে থাকা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স

আনন্দে মেতে থাকা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) মাঠ ও মাঠের বাইরে গোছানো দলের কথা আসলে প্রথমেই আসবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের নাম। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে আন্দ্রে রাসেল নামের দানবের অপ্রত্যাশিত এক ঝড়ের কাছে হারতে বাধ্য হয় দলটি। তবে এর আগেই বিপিএলজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ফলে দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেয় চ্যালেঞ্জার্স। 

সম্প্রতি ডেইলি বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছিলেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) সৈয়দ ইয়াসির আলম। ব্যস্ততার মাঝেও মূল্যবান কিছু সময় দিয়ে দল নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। জানিয়েছেন দলের বর্তমান কার্যক্রম, ভালো করার রহস্যসহ নানা কিছু।

চলুন ইয়াসির আলমের মুখে জেনে নেয়া যাক বিপিএলের অন্যতম জনপ্রিয় দল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বর্তমান, অতীত ও অন্যান্য কিছু তথ্য। 

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের চিফ অপারেটিং অফিসার সৈয়দ ইয়াসির আলমপ্রশ্ন: করোনাভাইরাসের এই সময়ে আপনারা ফ্র্যাঞ্চাইজি ও খেলোয়াড়দের মাধ্যমে কোভিড-১৯ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে যাচ্ছেন। এই কাজের উদ্দেশ্য কী?

ইয়াসির: প্রথমেই যেটা বলতে হয়, আমরা খেলোয়াড় বা দল হিসেবে মূলত বিনোদনদাতা। করোনাভাইরাসের কঠিন সময়ে আমরা শুরু থেকেই বিভিন্ন এলাকায় মানুষদের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে এগিয়ে আসতে দেখেছি। কিন্তু করোনা মোকাবেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সচেতনতার বিষয়ে কাউকে খুব একটা এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স বিপিএলের অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় দল। এছাড়া আমাদের দলের লোকাল ও বিদেশি খেলোয়াড়রাও সবার পরিচিত। তাই আমরা আমাদের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছি। 
  
আমাদের লক্ষ্য হল বিপুল জনগোষ্ঠীর কাছে একটাই বার্তা পৌঁছানো- বাসায় থাকুন, পরিষ্কার থাকুন এবং নিরাপদ থাকুন। আমরা মনে করি এটাই করোনা মোকাবেলার মৌলিক চাহিদা যে বিষয়টা অধিকাংশ মানুষ ঠিকভাবে পালন করছে না। 

চ্যালেঞ্জার্স অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে সৈয়দ ইয়াসির আলমপ্রশ্ন: চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স পুরো বিপিএলেই চ্যাম্পিয়নের মতো খেলে এসেছে। দলের পারফরম্যান্স ও সেমিফাইনালে হারের বিষয়টি কিভাবে দেখছেন? 

ইয়াসির: সবার আগে যেটা বলব, আমরা আমাদের দলকে নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট। আমরা একটি পরিবারের মতো, সবাই সবাইকে ভরসা করি। প্রত্যেক খেলোয়াড়ের মাঝেই ভাল করার তাড়না ছিল। আমরা সেমিফাইনালে হেরেছি ঠিকই তবে আমরা বিষয়টি সহজভাবে নিয়েছি কারণ খেলার মাঝে যেকোনো কিছুই হতে পারে। খেয়াল করলেই দেখবেন, প্রতিপক্ষের (রাজশাহী রয়্যালস) জন্য ম্যাচটি জেতা একদম অসম্ভব পর্যায়ে ছিল। কিন্তু একটি ওভারেই সব পরিবর্তন হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত তারাই জয়লাভ করে। 

ক্রিস গেইলকে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত চ্যালেঞ্জার্সের হয়েই মাঠ মাতান এই ক্যারিবীয় তারকাপ্রশ্ন: বিপিএল শুরুর আগে ক্রিস গেইলকে পাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। তাকে নিয়ে আপনার কি মতামত? দলের জন্য তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ? 

ইয়াসির: ক্রিস গেইলকে তো ইউনিভার্স বস বলে ডাকা হয়। আসলে তার এই বিশেষ নামই এখানে উত্তর হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। যখন আপনার দল সেমিফাইনালের লক্ষ্যে এগোচ্ছে এবং ইউনিভার্স বস ইনিংস উদ্বোধনে নামছে, আপনি অবশ্যই সাফল্যের ব্যাপারে আরো আত্মবিশ্বাসী হবেন। আমরা খুশি যে ক্রিস গেইল বরাবরের মতোই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে। 

প্রশ্ন: নিলাম শুরুর আগে দল নিয়ে কি পরিকল্পনা ছিল? 

ইয়াসির: আমরা ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনের চেষ্টা করেছি। আমরা কিছু খেলোয়াড়কে আগেই টার্গেট করে সে হিসেবে এগিয়েছি। 

নিলাম অনুষ্ঠানে ইয়াসির আলম ও দলের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দপ্রশ্ন: প্রতি ম্যাচের আগে কিভাবে দলের খেলোয়াড়দের প্রেরণা দিতেন? 

ইয়াসির: আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখি এবং আমার মনে হয় এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা দিক। তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। প্রেরণা বিষয়টা হৃদয় থেকে আসে। তারা যেনো সব জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এ লক্ষ্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কোনো ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না এলে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে তাদের নেতিবাচক কিছু বলা হয়নি। সবসময় উৎসাহ দিয়েছি। আমার মনে হয় এখান থেকেই তারা প্রেরণা পেয়েছে। 

প্রশ্ন: ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নেয়ার ক্ষেত্রে তরুণদের প্রতি কোনো উপদেশ? 

ইয়াসির: আমি কখনো পেশাদার ক্রিকেট খেলিনি, তবে আমি বলবো পেশা হিসেবে ক্রিকেট ভালো পছন্দ। আমি টিম ম্যানেজমেন্টের কাজে পারদর্শী। সেদিক থেকে বলতে পারি, কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্যের মাধ্যমেই খেলোয়াড়রা সফলতা লাভ করে। যদি একজন খেলোয়াড় লক্ষ্যে অবিচল থেকে ধৈর্য ধরে কঠোর পরিশ্রম করে তবে সে অবশ্যই সাফল্যের পথ খুঁজে পাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল