Alexa চকবাজারের বাতাসে লাশের গন্ধ

চকবাজারের বাতাসে লাশের গন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৬:৩৩ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১০:৩৪ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশনে লাগা আগুনে সেখানকার বাতাসে মরদেহের গন্ধ। স্তব্ধ হয়ে পড়েছে চুড়িহাট্টার কোলাহল মুখর পরিবেশ। চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। স্বজনের খোঁজে সবাই ছুটছেন এখানে থেকে ওখানে। আবার মা খুঁজছেন ছেলেকে, ছেলে খুঁজছের মাকে, মেয়ে খুঁজছেন বাবাকে। ভাইকে খুঁজতে দেখা গেছে ভাইয়ের আর্তনাদ।

বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মূর্হতের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে পাঁচ থেকে ছয়টি ভবনে। এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। টানা প্রায় সাত ঘণ্টা চলা আগুনে জ্বলে ছাই হয়ে গেছে দোকানপাঠ, বাসা-বাড়ি। ধ্বংস হয়েছে সড়কে থাকা গাড়ি, মোটরসাইকেল, রিকশা-ভ্যান। মৃতদের স্বজনের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠেছে চকের পরিবেশ।

কাটারা মসজিদ,ওয়াহেদ ম্যানশনের পেছনে ও কোনায় জমা করা হয়েছে আগুনে পুড়ে অঙ্গার হওয়া মরদেহ। মৃতদেহ যেন মৃতদেহ নয়, হয়ে গেছে পোড়া কাঠের অঙ্গার। এসবের মধ্যে মসজিদের এক কোনায় দেখা গেছে দু’টি লাশ। অঙ্গার হয়ে যাওয়া লাশ দেখে বুঝা যাচ্ছে এক মা জড়িয়ে ধরে তার ছোট্ট সন্তানকে বাঁচাতে চেয়েছেন শেষ চেষ্টায়। কিন্তু দু’জনই হয়েছে শেষ পরিনতি। অঙ্গার হয়েছেন মা তার সন্তানকে বুকে নিয়ে।

অলি-গলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার পোড়া লাশ আর লাশ। অতিরিক্ত যানজট ও ভীড়ের মধ্যে লাগা এ আগুনে পুড়ে জমছে লাশের স্তুপ। কাটারা মসজিদের ফজরের নামাজের আজানের সময়ও স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে চুড়িহাট্টার বাতাস। এ দৃশ্য দেখলে পাষাণের বুকও কেঁপে উঠবে, চোখে আসবে জল। এমন মর্মান্তিক ভয়াবহ ঘটনা আর হয়নি দেশের ইতিহাসে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/এলকে