Alexa ঘুষ সন্ধান দিল শিক্ষকের দুই চাকরির 

ঘুষ সন্ধান দিল শিক্ষকের দুই চাকরির 

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৫০ ১৭ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৭:৫১ ১৭ জানুয়ারি ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ওয়াহেদ আলীর বিরুদ্ধে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন ভাতা ভোগের অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রতিষ্ঠানের টাকা তার পকেটে ঢুকলেও অপরটি ব্যাংকে নিজ অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে।

সহকারী শিক্ষক ওয়াহেদ আলী লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউপির দুলালী গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে। তিনি আদিতমারী উপজেলার কুমড়ীরহাট এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক(বিজ্ঞান) এবং কালীগঞ্জ উপজেলার আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের মাঠ সহকারী পদে কর্মরত রয়েছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, আদিতমারী উপজেলার কুমড়ীরহাট এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে ডেইলি বাংলাদেশে 'প্রধান শিক্ষককে ঘুষ না দেয়ায় বেতন বন্ধ' সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়। একে একে বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা কর্মকাণ্ড। 

২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রকল্প আমার বাড়ি আমার খামারে মাঠ সহকারী হিসেবে কালীগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করে নিয়মিত বেতন ভাতা পাচ্ছেন ওই উপজেলার দুলালী গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে ওয়াহেদ আলী। সেখানেই নিয়মিতভাবে অফিস করছেন তিনি। হঠাৎ গত বছর ১ সেপ্টেম্বর কুমড়ীরহাট এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের এমপিও সিটে সহকারী শিক্ষক পদে বেতন চলে আসে ওয়াহেদ আলীর। সব শিক্ষক যথারীতি অবাক হলেও প্রধান শিক্ষক বেশ উৎফুল্লই ছিলেন। তার ইনডেক্স নম্বর ১১৫৫১০০। যার সোনালী ব্যাংক আদিতমারী শাখার হিসাব নং ১০১৫৪৩৭। তবে এ শিক্ষকের ব্যাপারে মুখ খুলতে শিক্ষক কর্মচারীদের কঠোরভাবে নিষেধ করেন প্রধান শিক্ষক।

প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বেতন শিটে তিনি উল্লেখ করেছেন সহকারী শিক্ষক ওয়াহেদ আলী সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর মাসে ২৪ দিন করে বিদ্যালয়ে পাঠদান করেছেন। আবার একই ব্যক্তি কালীগঞ্জ উপজেলার আমার বাড়ি আমার খামাড় প্রকল্পেও শতভাগ উপস্থিত থেকে বেতন ভাতা ভোগ করেছেন। 

তবে বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক ওয়াহেদ আলীর দাবি তিনি ওই বিদ্যালয়ে কখনই পাঠদান করেননি। এমনকি তিনি যোগদানও করেননি। প্রধান শিক্ষক তার কাগজপত্র নিয়ে এমনটা করতে পারে বলে ধারণা করেন এ শিক্ষক। 

তিনি বলেন, আমি আমার বাড়ি আমার খামাড় প্রকল্পে ছয় বছর ধরে চাকরি করছি। কোনো বিদ্যালয়ে যোগদান করিনি। সাম্প্রতিক সময় রাজশাহী বিভাগের একটি কলেজে জীব বিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে মনোনীত হয়েছি। তবে এমপিওভুক্ত হয়নি। কুমড়ীরহাট এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ে কিভাবে আমার নামে এমপিও এসেছে বা ব্যাংক হিসাব নম্বর তৈরি হয়েছে তার কোনো তথ্যই আমার জানা নেই। যারা এমপিওতে বেতন অনুমোদন দিয়েছেন তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

ওই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক দাবি করেছেন, এক মন্ত্রীর ভাই পরিচয় দিয়ে প্রধান শিক্ষক মনগড়া কমিটি তৈরি করে নিজের ইচ্ছামতো বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। নিজেই কাগজপত্র তৈরি করে ওয়াহেদ আলীর নামে এমপিও'র জন্য আবেদন করেছেন। এখন বেতন চলে আসছে সময় মতো তিনি উঠিয়ে আত্নসাৎ করবেন। আর জানাজানি হলে ভুয়া কাগজ তৈরি করে অদৃশ্য শিক্ষক ওয়াহেদ আলীকে চাকরি থেকে অব্যহতি দেখাবেন। সব কিছু প্রধান শিক্ষকের হাতের কারিশমা। তিনি টাকা হলে সবই করতে পারেন বলেও দাবি করেন তারা। 

কুমড়ীরহাট এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজল ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ওয়াহেদ আলী এ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে আছেন তাই বেতনও তার নামে পৌঁছেছে। তবে এ প্রতিবেদক ওই শিক্ষককে ডাকতে বললে তিনি বলেন, ওই শিক্ষক আজ বিদ্যালয়ে আসেননি। হাজিরা খাতা দেখতে চাইলেও তা দেখাননি প্রধান শিক্ষক।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, একই ব্যক্তি দুই প্রতিষ্ঠানে বেতন ভাতা গ্রহণের কোনো খবর তার জানা নেই। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

কালীগঞ্জের ইউএনও রবিউল হাসান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ওয়াহেদ আলী মাঠকর্মী হিসেবে এ উপজেলার আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পে কর্মরত রয়েছেন। সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদানের বিষয়টি জানা নেই। একই ব্যক্তি দুই পদে পৃথক বেতন ভাতা গ্রহণের সুযোগ নেই এবং তা বিধি বহির্ভূত। খোঁজখবর নিয়ে একটি পদে অব্যাহতি পত্র না দেয়া পর্যন্ত বেতন স্থগিত করার আশ্বাস দেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ