Alexa ঘুষ প্রদানের কথা স্বীকার করেছেন ট্রাম্প: পেলোসি

ঘুষ প্রদানের কথা স্বীকার করেছেন ট্রাম্প: পেলোসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৫৮ ১৬ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেইন কেলেঙ্কারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘুষ দেয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন বলে মনে করেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। 

 তিনি বলেন, নির্বাচনের সময়ে একটি ভুয়া তদন্ত নিয়ে সরকারি বিবৃতি দেয়ার বিনিময়ে সামরিক সহায়তা দেয়া বা প্রত্যাহার করে নেয়ার প্রস্তাবকে ঘুষই বলে। ট্রাম্প নিজের সুবিধার জন্যই এই ঘুষ দিতে নিয়েছেন বলে তিনি জানান। কারণ আগামী বছর র্নিবাচিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ওই নির্বাচনে ট্রাম্প তার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডেমোক্রেট নেতা জো বাইডেন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনোস্কিকে টেলিফোনে চাপ দিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা ওই ফোনালাপের তথ্য হাতে পেয়েছে বলে দাবি করেছে। যার ভিত্তিতে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্তের ঘোষণা দেয়।

গত কয়েক সপ্তাহের রুদ্ধদ্বার শুনানি প্রক্রিয়া চলার পর বুধবার সকালে প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দা কমিটির সামনে অভিশংসন তদন্তের প্রকাশ্য শুনানি হয়।

বৃহস্পতিবার পেলোসি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট সঠিক কাজই করেছে। দুনীতির ব্যাপারে আমি বলবো এটি সম্পূর্ণভাবে অন্যায়। ট্রাম্পের ফোনালাপে ওটা ঘুষ দেয়ার প্রস্তাব ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেইনকে প্রায় ৩৯ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সামরিক সহায়তা দেয়। দেশের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়াপন্থী বিদ্রোহীদের দমনে ব্যবহারের জন্য মিত্র দেশ ইউক্রেইনকে ওই অর্থ দেয়ার অনুমতি দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস। ওই সহায়তা ব্যবহার করে ট্রাম্প নিজের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ইউক্রেইনকে চাপ দিতে চেষ্টা করেছিলেন কিনা এখন সেটাই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির কথোপকথনে সামরিক সহায়তায় বিষয়টি এসেছিল জানিয়ে ট্রাম্প এ বিষয়ে অন্যায় কিছু না করার দাবি করেছেন। বরং তিনি বলেছেন, সামরিক সাহায্য প্রত্যাহারের কথা বলে আমি শুধুমাত্র ইউরোপের দেশগুলো থেকে সহায়তার হার বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম।

বুধবার প্রকাশ্য শুনানির দিন প্রচুর সাংবাদিক ও আইনপ্রেণেতা শুনানিকক্ষে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কোটি কোটি মানুষ টেলিভিশনের পর্দায় শুনানি প্রক্রিয়া সরাসরি দেখেছেন। প্রথমদিন প্রতিনিধি পরিষদ থেকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তিন শীর্ষ কূটনীতিককে ডেকে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে উইলিয়াম বিল টেলর (কিয়েভে মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অফেয়ার্স) ও জর্জ কেন্ট বুধবার সাক্ষ্য দেন। ইউক্রেইনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মেরি ইউভানোভিচের শুক্রবার সাক্ষ্য দেন। শনিবার হোয়াইট হাউজের বাজেট কর্মকর্তা মার্ক স্যান্ডির সাক্ষ্য দেয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিনিরা এই প্রথম সরাসরি শুনানিতে ইউক্রেন-বিষয়ক ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট লোকজনের কথা শুনছে। যার ফলে পরবর্তীতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের জন্য ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত প্রতিনিধি পরিষদের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনার পথ সুগম হতে পারে।

আর তখন রিপাবলিকান অধ্যুষিত সিনেটে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ওই সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা এবং পদ থেকে অপসারণ করা হবে কি না তা নিয়ে বিচারের পট প্রস্তুত হবে। ফলে এ শুনানি শুরু হওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির ভবিষ্যৎ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ