দূরবীনপ্রথম প্রহর

ঘুমে মানব শরীরে যা ঘটে!

বখতিয়ার আলম বুলবুলডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ছবি: সংগৃহীত

শারীরিক সুস্থতা ও স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্য সকলেরই প্রতি রাতে ঘুমের প্রয়োজন। সুস্থ সবল থাকতে দৈনিক সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমের বিকল্প নেই। তবে জানেন কি? যখন আমরা ঘুমের জগতে বিচরণ করি তখন মন ও শরীরে কী ঘটে থাকে? চলুন তবে জেনে নেয়া যাক এমন আটটি কাজ যা আমাদের মন ও শরীর ঘুমের সময় সম্পাদন করে থাকে।

শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া

আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি তখন শরীরের তাপমাত্রা যথেষ্ট কমে যায়। এর পিছনে বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। সারাদিন যা খাদ্য গ্রহণ করা হয় তা ক্যালরিতে রুপান্তরিত হয়, ক্যালরি থেকে আমরা চলার শক্তি পাই এবং শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে ক্যালরি ভাঙতে শুরু করে।

ক্ষতিকারক পদার্থের নিঃসরণ

বিভিন্ন কারণে প্রতিনিয়ত দেহ থেকে ক্ষতিকর পদার্থের উৎপত্তি হয়ে থাকে। কখনো জৈবিকভাবে আবার কখনোবা বাহ্যিক কোনো কারণে। ঘুমোনোর সময় শরীরে সৃষ্ট ক্ষতিকারক পদার্থ বিভিন্নভাবে অপসারণ হতে থাকে। দেহের ভিতরে যে সকল অণু পরমাণুর ক্ষতি হয়ে থাকে তা ঠিক করতে থাকে। ক্ষতিকারক পদার্থ নিঃসারিত বা পরিশোধিত হলে দেহ এবং মস্তিষ্ক পুনর্জীবিত হয়ে থাকে এবং সঠিকভাবে কাজ করতে পারে।

ওজন কমে যাওয়া

অবাক হলেও বিষয়টি সত্য যে ঘুমোলে আপনার দেহের ওজন কমে যায়। তবে এমন না যে আপনার ওজন ছিলো ৬০, ঘুম থেকে উঠে দেখলেন ৫৫! খুবই সামান্য পরিমাণে ওজন কমে। এই ওজন কমার কাজটি সাধারণত করে থাকে মানবদেহের ঘামগ্রন্থিগুলো। এই গ্রন্থিগুলো দেহ থেকে পানি বের করে দেয় সঙ্গে আর্দ্র বাতাসও ত্যাগ করে। ঘুমের সময় খাদ্য গ্রহণের জন্য দেহের ভেতর কিছু হরমোনও নিঃসারিত হয়। তাই তো সকাল বেলা উঠে আমাদের সকলের খিদে পায়। সঠিক বা পর্যাপ্ত খাবার না পেলে আস্তে আস্তে আপনার ওজন কমতে থাকবে। তাই সকলের উচিত সকালবেলা উঠে শরীরের জন্য যে সকল খাবার স্বাস্থ্যকর তা দিয়ে নাস্তা করা।

স্বপ্ন দেখা

আমরা সকলেই কম বেশি ঘুমের সময় স্বপ্ন দেখে থাকি। কেউ কি কখনো ভেবে দেখেছেন, আমরা সকলেই স্বপ্নের পিছে দু’ঘন্টা সময় ব্যায় করে থাকি!

হঠাৎ ঝাঁকুনি

আপনি একা ঘুমান বা সঙ্গীর সঙ্গেই ঘুমান না কেন দেহের মাংসপেশি আপনা আপনিই ঝাঁকুনি দিতে পারে। মাঝে মধ্যে এই ঝাঁকুনি এতই প্রবল হতে পারে যা আপনার ঘুমকে ভেঙে দিতে সক্ষম।

লম্বা হওয়া

আপনি যখন বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে থাকেন তখন আপনার দেহের স্পাইনাল ডিস্কগুলো প্রসারিত হয়। যার ফলে খানিক সময়ের জন্য আপনি লম্বা হতে পারেন।

চেহারার পরিবর্তন

এক প্রকার প্রোটিন (কোলাজেন) রাতে ঘুমানোর সময় উৎপত্তি হয়ে থাকে,যা ত্বককে করে মসৃণ ও সুন্দর।

হঠাৎ জেগে ওঠা

এটা হতে পারে প্রতি ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১৫ বার। ঘুম থেকে আমরা হঠাৎ জেগে যাই বিছানায় এপাশ ওপাশ করার জন্য। তবে এর জন্য ঘুমের কোনো সমস্যা হয় না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

daily-bd-hrch_cat_news-11-10