Alexa ঘিওরে স্টিকার লাগিয়ে অটোবাইকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

ঘিওরে স্টিকার লাগিয়ে অটোবাইকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪৮ ১৯ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:১৬ ১৯ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজিচালিত অটোবােইক (হ্যালোবাইক) থেকে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তার গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের চোখের সামনে চাঁদা আদায় করা হলেও তারা রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে।

জানা গেছে, ঘিওর বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে বানিয়াজুরি, বড়টিয়া, সিংজুরি, পয়লা, বালিয়াখোড়াসহ ছয়টি রুটে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক অটোবাইক চলাচল করে। অটোবাইকের মালিক ও চালকদের অভিযোগ, ঘিওর বাসস্ট্যান্ড থেকে অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটি নামে রশিদ দিয়ে প্রতিটি অটোবাইক থেকে ১৫ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। 

এছাড়া সমিতির স্টিকার লাগিয়ে মাসে চারশ টাকা আদায় করা হচ্ছে। মাসিক চাঁদা পরিশোধ করার পরেই গাড়িতে স্টিকার লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। স্টিকার না লাগানো থাকলে সেই গাড়ি চলতে দেয়া হয় না। ১১ সদস্যের একটি কমিটি থাকলেও পুরো চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে সভাপতি মো. নাজমুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক আংটি মানিক খাঁ। অন্য একটি রাজনৈতিক দল থেকে এসে শ্রমিক লীগের নাম ভাঙিয়ে বর্তমানে তারা চাঁদাবাজি করছে। এছাড়া এবার বর্ষার সময় ধলেশ্বরী নদী থেকে ট্রলারে অবৈধভাবে লাখ লাখ ঘনফুট বালু বিক্রি করেছে। 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতার সহযোগিতায় ঘিওরে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করলেও ভয়ে কেউ কোনো প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে সংঘবদ্ধ চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তবে এরা কেউ অটোবাইকের মালিক বা শ্রমিক নন। 

অটোবাইক মালিক ও শ্রমিকরা বলেন, আমাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক জুলুম করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। তাদের কমিটিতে স্থানীয় লোকজন জড়িত থাকার দরুণ কেউ কিছু করতে সাহস পাচ্ছে না। তারা আরো বলেন, শ্রম অধিদপ্তরের ট্রেড ইউনিয়নের সনদ না থাকলে পরিবহন খাত থেকে চাঁদা আদায় করা যায় না। অথচ তারা জোরপূর্বক প্রতিদিন হুমকি ধামকি দিয়ে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে। 

সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক আংটি মানিক খাঁ চাঁদা আদায়ের কথা স্বীকার করে বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণে প্রতিটি অটোবাইক থেকে ১০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আর পাঁচ টাকা সুপারভাইজারদের বেতন হিসেবে আদায় করা হচ্ছে। তবে কমিটিতে স্থান না পেয়ে একটি পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। 

সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে ১৫ টাকা করে চাঁদা আদায়ের সত্যতা পাওয়া গেছে। মাসিক চারশ টাকা পাওয়ার পরে অটোবাইকের সামনের কাচে লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে সমিতির টোকেন। যে বাইকে টোকেন নেই, সেই গাড়ি সড়কে চলতে দেয়া হচ্ছে না। অনেক শ্রমিক গাড়ি চালাতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বহু কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকে অন্য পেশার দিকেও ধাবিত হচ্ছেন। 

এ প্রসঙ্গে ঘিওর থানার ওসি মো. আশরাফুল আলম জানান, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  

ঘিওর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সমিতির নামে কেউ চাঁদাবাজি করলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ পরিস্থিতিতে অটোবাইক মালিক-শ্রমিকসহ এলাকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে চাঁদাবাজি বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর