ঘরের বাইরে খুলনার মানুষ!

ঘরের বাইরে খুলনার মানুষ!

খুলনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫৭ ৩১ মার্চ ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া নোভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) আতঙ্কে ভুগছে পুরো বিশ্ব। এরই মধ্যে সারা পৃথিবীব্যাপী এ ভাইরাস প্রাণ নিয়েছে হাজার হাজার মানুষের। ঘরের বাইরে না বেরিয়ে এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে বিশ্ব।

বিভিন্ন রাষ্ট্রের মত বাংলাদেশেও একই ধরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে করোনার ভয়াবহতার তীব্রতা এখনো আঁচ করতে পারেনি দেশের সাধারণ মানুষ। নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হরহামেশায়েই বাহিরে ঘোরাফেরা করছেন অনেকে।

করোনা সতর্কতায় মহানগরীতে অবাধ চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে বারণ করেছে প্রশাসন। বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ চলমান রয়েছে। দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। কিন্তু কিছু কিছু এলাকায় জনসমাগম হচ্ছে চোখে পড়ার মতো। এ ধরনের উদাসীনতার কারণে খুলনায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

মঙ্গলবার সকালে খুলনার আরংঘাটা মৎস্য আরতে কোনরকম সেফটি মাক্স বা হ্যান্ড গ্লাভস ছাড়াই সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে কেনাবেচা করতে দেখা গেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের।

চলতি মাসের প্রথম দিকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়। তার কিছুদিন পর মাদারীপুরের শিবচর এলাকা লকডাউন করা হয়। দেশব্যাপী করা হয় হোম কোয়ারেন্টাইন। দোকানপাট, বাজারঘাট বন্ধ করা হয়। 

বিশেষ প্রয়োজনীয় দোকানপাট খোলা থাকলেও সেখানে সামাজিক দূরত্ব (একজন থেকে আরেকজনের দূরত্ব ৩ ফুট) বজায় রাখা হচ্ছিল। কিন্তু সেই সব নিয়ম এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা এখন আর চোখে পড়ছে না। শহরে আবারো ফিরতে শুরু করেছে সরগরম। নগরীর বাজারগুলোতে ভিড় পড়ছে আগের মতো। যদিও কিছু কিছু বাজার এলাকায় সাবান-পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিকেল হলে সংঘবদ্ধ হচ্ছে যুবকরা। ভরে যাচ্ছে নগরীর অলিগলি, খোলা জায়গা এবং খেলার মাঠ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন উদাসীনভাবে চললে করোনা সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমদ। 

তিনি জানান, আগামী এক সপ্তাহ হোম কোয়ারেন্টাইন পুরোপুরি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তা না হলে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে। সবাইকে সরকারের বর্তমান নিয়মটা মেনে চলা উচিত। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে আরো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

টুটপাড়া তালতলা এলাকার মো. ইয়াসিন আরাফাত বলেন, কি করবো ঘরে কোনো খাবার নেই। নগদ টাকা কিছু রয়েছে। কিন্তু মাছ, শাক-সবজি নেই। তাই কিনতে বাজারে এলাম। এসে মনে হচ্ছে, আমি বুঝি একাই বাড়িতে ছিলাম। হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলছি। আর সবাই বাইরে। বিকেলে ছোট ছোট মাঠে মানুষ ভরে যাচ্ছে। গলির মধ্যে যুবকদের মোবাইল আড্ডা বসছে। এ গুলো নিয়ন্ত্রণ হওয়া দরকার।

রূপসা পাইকারি মৎস্য বাজার সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রমজান আলী হাওলাদার জানান, মাছ বাজার পুরোপুরি বন্ধ হলে মানুষ খাবে কি? সে জন্য প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য পাইকারি বাজার খোলা হয়। বাজারের প্রতিটি গলিতে সাবান-পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সব ব্যবসায়ী মাস্ক ব্যবহার করছে।

খুলনা জেলা ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গোলাম কিবরিয়া জানান, আমরা ইমামদের মাধ্যমে সব মুসল্লির কাছে সতকর্তার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি। তবে প্রশাসনকে আরো সক্রিয় হতে হবে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরির অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে এর সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সিটি মেয়র সরকারিভাবে নির্দেশিত সাবান দ্বারা দিনে কয়েকবার হাত ধোয়া, মুখে মাস্ক ব্যবহার ও যেখানে-সেখানে কফ-থুথু ফেলা, হোম কোয়ারেন্টাইন পুরোপুরি নিশ্চিত করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান। আতঙ্কিত না হয়ে সম্মিলিতভাবে এ দুর্যোগ থেকে প্ররিত্রাণ পেতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে