গড়াই নদীতে তীব্র ভাঙন

গড়াই নদীতে তীব্র ভাঙন

তনু সিকদার সবুজ, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী)   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:০৮ ৭ জুলাই ২০২০  

গড়াই নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে

গড়াই নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ও জঙ্গল ইউপির ওপর দিয়ে প্রবাহিত গড়াই নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। অসময়ে এই ভাঙনের ফলে বিলীন হচ্ছে গাছপালা, বসত-ভিটা, কৃষি-আবাদী জমি, জনবহুল পাকা সড়ক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। 

গড়াই নদীর ভাঙন প্রতিরোধে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না নেয়ায় পানি বৃদ্ধি এবং হ্রাসের সময় উপজেলার নারুয়া ও জঙ্গল ইউপির ১৩টি গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক পরিবার প্রতিনিয়ত ভাঙনে সর্বস্ব হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন। 

স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় বিগত কয়েক বছর ধরে বিলীন হয়ে গেছে এ সব গ্রামের অনেকাংশ এলাকা। প্রতি বছর পানি বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়ার সময় ব্যাপক হারে ভাঙনের শিকার হয় এ অঞ্চলের বাড়ি-ঘরসহ ফসলি জমি। 

অব্যাহতভাবে গড়াই নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো ভাঙনের শিকার হলেও ভাঙন প্রতিরোধে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এসব গ্রামের মানুষের মাঝে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের কবলে পড়ে নারুয়া ইউপির মরাবিলা, কোনাগ্রাম, জামসাপুর, বাকসাডাঙ্গী, নারুয়া, সোনাকান্দর ও জঙ্গল ইউপির পোটরা, আখপোটরা, পুষআমলা, বিজয়নগর, হাবাসপুর, বাঙ্গরদাহ ও তারালিয়া গ্রাম। 

গত বছর পানি হ্রাসের সময়ই নারুয়া ইউপির মরাবিলা ও কোনা গ্রামের পাকা সড়ক ও নারুয়া খেয়াঘাট এবং জামসাপুর গ্রাম এলাকার বেড়িবাঁধটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙন শুরু হওয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ড যে কাজ করে তাও নামে মাত্র। 

নদী তীরবর্তী নারুয়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ মুহিদুল ইসলাম, আব্দুল রাজ্জাক, এরশাদ মন্ডল, শিমুল মোল্লা, ফরিদ মোল্লা জানান, প্রতি বছরই পানি বৃদ্ধির  সঙ্গে গড়াই নদীতে ভাঙন দেখা দেয়। 

চলতি মৌসুমেও পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন শুরুর আগেই যদি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয় তাহলে নারুয়ার প্রায় ৩০০ পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। আমরা চাই ভাঙনরোধে আগেই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করে এলাকার অসহায় মানুষদেরকে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে। 

নারুয়া লিয়াকত আলী স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক মো. বদিউজ্জামান জানান, প্রতি বছরই নতুন নতুন এলাকা নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে। এতে মানুষের বসত ভিটাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং কৃষি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদী ভাঙনরোধে যদি এখনি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয় তাহলে মানচিত্র থেকে যে কোনো সময় হারিয়ে যেতে পারে ১৩ টি গ্রাম। 

নারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ও জঙ্গল ইউপি চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, গড়াই নদীর অব্যাহত ভাঙনে এলাকার অসহায় মানুষের বসতভিটা, কৃষি জমি প্রতি বছরই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ফলে কৃষক নিজ নামীয় জমি হারিয়ে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বসত বাড়ি হারিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। দ্রুত এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। 

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, গড়াই নদীর ভাঙন থেকে ১৩টি গ্রাম রক্ষা করার জন্য এরই মধ্যে রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিল্লুল হাকিমের নির্দেশে উপজেলা পরিষদ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। 

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গড়াই নদীর ভাঙনরোধে এরই মধ্যে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই খুব দ্রুত গড়াই নদীর কাজ শুরু হবে বলে আশা রাখছি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে