গ্যাস লাইনে লিকেজ, বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ছেলেসহ বাবা-মার

গ্যাস লাইনে লিকেজ, বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ছেলেসহ বাবা-মার

সাভার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৩৭ ৮ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৮:৫১ ৮ জুলাই ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সাভারের আশুলিয়ায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেন বাড়ির মালিক।

বুধবার দুপুরে ওই তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন মৃতদের স্বজন আজিজুল ইসলাম। এর আগে শনিবার ভোরে আশুলিয়ার দুর্গাপুর পূর্বচালা এলাকায় শহিদ হাজির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন- আবুল কাশেম, তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও তাদের ছয় বছরের ছেলে আল-আমিন। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চণ্ডিপাশা গ্রামে। আবুল কাশেম কন্টিনেন্টাল নামে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তার স্ত্রী একই এলাকার সাউদার্ন নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন।

মৃতদের প্রতিবেশী অটোচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, তিন মাস আগে পরিবার নিয়ে শহিদ হাজির দোতলা বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন আবুল কাশেম। স্বামী-স্ত্রী দুইজনই কারখানায় কাজ করতেন। শনিবার ভোরে কারখানায় যেতে ঘুম থেকে ওঠেন তারা। এ সময় রান্নাঘরে আগুন জ্বালালে বিস্ফোরণ ঘটে। চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে দগ্ধ অবস্থায় আবুল কাশেম, ফাতেমা ও আল-আমিনকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়।

মৃত কাশেমের মামা আজিজুল ইসলাম বলেন, ভাগনে কাশেমসহ তার পুরো পরিবার দগ্ধ হয়েছে। রোববার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কাশেমের ছেলে আল-আমিন মারা যায়। পরদিন এনাম মেডিকেলে চিকিৎসা খরচ চালানো সম্ভব নয় চিন্তা করে কাশেম ও তার স্ত্রীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু হাসপাতালে নেয়ার পথে কাশেমের মৃত্যু হয়। পরে ফাতেমার অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডে একে একে তিনজনের মৃত্যু হলেও বাড়ির মালিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। ঘটনার তিনদিন পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে প্রভাবশালীদের ভয়ে এ নিয়ে মুখ খোলেননি কেউ।

 আশুলিয়া থানার এসআই সামিউল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। এর আগে ঘটনার দিন বিষয়টি জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনার বিষয়টি জানা গেলেও তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর