Alexa গোদাগাড়ীতে ছড়িয়ে পড়েছে রাসেল ভাইপার, একজনের মৃত্যু

গোদাগাড়ীতে ছড়িয়ে পড়েছে রাসেল ভাইপার, একজনের মৃত্যু

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২০ ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৫:৩৯ ১৫ অক্টোবর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে রাসেল ভাইপার সাপের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আতঙ্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কৃষকরা জমি পরিচর্যা করারও সাহস পাচ্ছেন না। ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি কার্যক্রম।

এরই মধ্যে এই সাপের দংশনে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মারাত্মক অসুস্থ হয়ে জীবন নিয়ে কাতরাচ্ছেন কমপক্ষে তিনজন।

গোদাগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন জানান, তার ইউপিতে রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপ নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ১২ অক্টোবর শিমলা গ্রামে জমিতে কাজ করতে গিয়ে একটি সাপ দেখতে পাওয়া যায়। পরে সাপটি মেরে ফেলা হয়। এর আগেও এই ইউপির কেশবপুর, সাহাপুকুর, পাহাড়পুর, ধনঞ্চয়পুর ও গোমা গ্রামে সাপ দেখতে পাওয়া গেছে। এ ছাড়া চালনা, ভূষণা, রিশিকুল এলাকায়ও এই সাপ দেখা গেছে। 

গোদাগাড়ী ইউপির ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য মোস্তফা হোসেন জানান, তার খালাতো ভাই মো. মমিন গত ২২ সেপ্টেম্বর সকালে ধানের জমিতে ফাঁড়ি দিয়ে গিয়ে ডান পায়ের পাতায় রাসেল ভাইপার সাপের কামড় খেয়ে চেঁচামেচি করে। মাঠের লোকজন জানতে পেরে দ্রুত উদ্ধার করে। সাপের কামড় খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে প্রচুর জ্বালা, ব্যথা, ঘাম বের হতে থাকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে ভালো হবার লক্ষণ দেখা দেয়। কিন্তু হঠাৎ করেই চার দিন পর শরীরে জ্বালা যন্ত্রণা শুরু হয়ে মারা যায়। 

পাশের গ্রাম হাঠৎ পাড়ায় প্রায় দুই মাস আগে আব্দুল মতিনের ৬ষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া তুহিন রাসলে ভাইপার সাপের দংশনে গুরুতর আহত হয়। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করালে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে। 

গত ২ সেপ্টেম্বর উপজেলার মোহনপুর ইউপির নশিদানপুর গ্রামের কৃষক ফজল  জমিতে কাজ করতে গেলে এই সাপের দংশনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাকেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে বাসায় নিয়ে আসা হয়। 

মোহনপুর ইউপির ৬ নং ওয়ার্ডের আরিফুল ইসলাম জানান তার এক চাচা সাপের দংশনে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনিও রাজশাহী মেডিকেল চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাসায় আছেন। তিনি কোনো রকমে বেঁচে আছেন।

ইউপি সদস্য মোস্তফা হোসেন জানান, ২০১৫ সালের দিকে গোমা এলাকায় আরেকজন কৃষক এই সাপের দংশনে মারা যায়। 

কৃষকরা জানান, এই সাপের আতঙ্কে তারা জমিতে সার, বিষ দিতে প্রচণ্ড ভয় পাচ্ছেন। জমির আইলে অথবা ভেতরে ঘামটি মেরে সাপ বসে থাকে। সুযোগ পেলেই দংশন করছে। একান্ত কোনো প্রয়োজন ছাড়া তারা জমিতে যাচ্ছেন না । তবে কেউ কেউ সাপুড়ে দিয়ে সাপ ধরাচ্ছেন।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা  মো. মতিয়র রহমান জানান, এই সাপের আতঙ্কে কৃষকরা জমিতে নামতে ভয় করছেন। তবে কৃষকদের ভয়ভীতি কাটাতে বা ধানের পরিচর্যা ঠিক রাখতে গাম্বুট পড়ে জমিতে যাওয়া উচিত। এ ছাড়া মোটা ফুলপ্যান্ট ও হাতে লাঠি নিয়ে জমিতে যেতে হবে। 

গোদাগাড়ীর ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মোহাম্মদ ইমরানুল হক জানান, রাসেল ভাইপার সাপের বিষয়টি তার জানা নেই। মঙ্গলবার মিটিং আছে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। 

গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মো. মেসবাউল ইসলাম খান জানান, রাসেল ভাইপারে কাটা কোনো রোগী তার এখানে আসেনি। তবে এই সাপে দংশন করলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। 

তিনি আরো জানান, এই সাপের দংশনে ব্রেনের উপর আঘাত জনিত কারণে চোখের পাতা বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রতিটি ইনজেকশনের দাম আড়াই হাজার টাকা।  এই সাপে দংশন করলে তাৎক্ষণিক ক্ষত স্থানের উপরে শক্ত করে বাঁধতে হবে। পরে ক্ষত স্থান পরিষ্কার করতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ