Alexa গুরুদাসপুরে আট মাসে ২৯ জনের আত্মহত্যা

গুরুদাসপুরে আট মাসে ২৯ জনের আত্মহত্যা

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২৬ ১২ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

অপরিণত বয়সে প্রেম, বাল্যবিয়ে, মাদক, পারিবারিক কলহ, পরকীয়া, অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় গত ৮ মাসে নারী-পুরুষসহ মোট ২৯ জন আত্মহত্যা করেছেন। 

গুরুদাসপুর থানা সূত্রে জানা যায়, চলতি সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩১টি ইউডি মামলা হয়েছে। তার মধ্যে ২৭ জনই আত্মহত্যা করেছেন। বাকি ৫ জন কেউ বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট কেউ পানিতে পড়ে মারা গেছেন। এর মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও ১৪ জন নারী। শিশু কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেছেন। গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ১১ জন এবং কীটনাশক জাতীয় গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন ১৪ জন। 

গত ২৪ আগস্ট উপজেলার গুপিনাথপুর গ্রামে হৃদয় বিদারক একটি ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর আড়াই মাস আগে প্রেম করে বিয়ে হয় মো. হাসান ও সপ্নার। আড়াই মাস খুব ভালোই চলছিল সংসার। হঠাৎ করেই একদিন রাতে দু’জনের মধ্যে মান অভিমানে দু’জনই গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেন। অপর দিকে উপজেলার মশিন্দা ইউপির বড় হাসমারি গ্রামে স্কুল ড্রেস পেতে দেরি হওয়ায় আত্মহত্যা করেন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রঞ্জনা খাতুন। ভাইয়ের উপর অভিমান করে আত্মহত্যা করেন উপজেলার দরিহাসমারী গ্রামের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সবিতা খাতুন। বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থান। এক পর্যায়ে আত্মহত্যা করেন প্রেমিক সোহাগ। অসুস্থতার কারণেও আত্মহত্যার করেছেন কয়েকজন। পারিবারিক কলহ, পরকীয়াসহ আরো বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যা করেছেন আরো কয়েকজন।  

আত্মহত্যার বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ আনারুল ইসলাম বলেন, আত্মহত্যা বন্ধ করতে হলে প্রথমে পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে। কেননা একটা ছেলে একটা মেয়ে যদি তার পরিবারের সঙ্গে ফ্রি না হয় তাহলে তাদের কষ্টগুলো কোথায় প্রকাশ করতে পারবে না। বুকের ভেতর কষ্ট চাপা রেখেই তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। তারপরও বেশির ভাগ সময়ে কীটনাশক জাতীয় গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েই মানুষ বেশি আত্মহত্যা করছে। বাজারে এসব ট্যাবলেট সহজলভ্য হওয়ার কারণে আরো বেশি হচ্ছে আত্মহত্যা। বাজারে যে কারো কাছে গ্যাস ট্যাবলেট বিক্রি নিষিদ্ধ করতে হবে। 

ইউএনও মো. তমাল হোসেন বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাল্যবিয়ে, মাদক, ইভটিজিং, আত্মহত্যার বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রোগ্রাম প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও গ্রাম এলাকায় করে থাকি। আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে প্রথমত এগিয়ে আসতে হবে প্রতিটি পরিবারকে। সন্তানদের সঙ্গে সব সময় বন্ধু সুলভ আচরণ করতে হবে। কখনো তাদের মনের বিরুদ্ধে কিছু করা যাবে না। সব সময় তাদের সঙ্গে সহনশীল আচরণ করতে হবে। ভালোবাসা দিয়ে সন্তানদের খেয়াল রাখতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ