Alexa গুনাহ মোচনের ৪ উপায়

গুনাহ মোচনের ৪ উপায়

প্রিয়ম হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:১৭ ১৭ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ২০:২১ ১৭ আগস্ট ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আমরা কেউই গুনাহ মুক্ত নই। জীবনে চলতে গিয়ে আমরা কোনো না কোনো গুনাহের সঙ্গে জড়িয়ে যাই।  এই গুনাহ নিয়ে কেউই জান্নাতে যেতে পারেব না।  

জান্নাত পবিত্র এক স্থান। কলুষতা ও অপবিত্রতার কোনো স্থান নেই সেখানে। সুতরাং, একমাত্র পবিত্র ও সৎ  হৃদয়ের ব্যক্তিরাই জান্নাতে যেতে পারবেন।

আরো পড়ুন>>> ইসলাম গ্রহণ করল ৬ হিন্দু পরিবার, প্রস্তুত আরো ৫০ পরিবার!

কিন্তু মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের কাছে ওয়াদা করেছেন, জান্নাতে যাওয়ার পূর্বে আল্লাহ তাদের গুনাহসমূহকে মুছে দেবেন। এই গুনাহ মোচনের জন্য চারটি উপায়ে কাজ করা যেতে পারে।

(১) তাওবাতুন নাসুহায় ডুবে থাকুন: 
তাওবার মাধ্যমে আমরা মূলত আমাদের করে ফেলা কোনো গুনাহের কাজের জন্য অনুশোচনা করি এবং দ্বিতীয়বার আর ওই কাজ না করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। তাওবার মাধ্যমে আমরা মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার কাছে অঙ্গীকার করি, আমাদের করে ফেলা গুনাহের কাজে আমরা আর দ্বিতীয়বার জড়িত হবো না এবং এই অঙ্গীকার পূরণের জন্য আমরা তার কাছে সাহায্য চাই।  

তাওবাতুন নাসুহার মাধ্যমে আমরা নিজেদেরকে গুনাহ থেকে পবিত্র করে নিতে পারি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

يا أيها الناس توبوا إلى الله فإني أتوب في اليوم مائة مرة رواه مسلم

‘হে মানব! তোমরা আল্লাহর দরাবরে তাওবা কর। আমি দৈনিক আল্লাহর নিকট একশত বার তাওবা করি।’ আল্লাহ আমাদের বেশি বেশি করে তাওবা করার তাওফীক দান করুন।

মনে রাখতে হবে, তাওবা হলো মানুষের অন্তরের আন্তরিক প্রচেষ্টা, অনুশোচনা। অর্থাৎ, মানুষের অন্তরে অপরাধবোধ জাগ্রত হওয়া এবং নিজেকে গুনাহের কারণে অপরাধী মনে করা যা বান্দার অন্তরে কখনো কখনো জাগ্রত হয়ে থাকে। অন্তরে এ ধরনের অনুভূতি জাগ্রত হওয়ার অর্থই হলো তাওবা বা ক্ষমা প্রার্থনা ও আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া। এ ধরনের ক্ষমা প্রার্থনা বা তাওবাকে তাওবাতুন নাসুহা বলা হয়। আরো মনে রাখবে, আত্মাকে সকল প্রকার গুনাহ, অন্যায়, পাপাচার ইত্যাদি হতে বিরত রাখার মাধ্যমে একজন বান্দা সফলকাম হতে পারে।

আরো পড়ুন>>> কোরবানির গোশতে ‘আল্লাহু’ লেখা!

হাদিসে বর্ণিত তাওবা ও ইস্তেগফার এর কতিপয় দোয়া প্রদান করা হলো-

দোয়া-১:

মূল আরবীঃ أَستَغْفِرُ اللهَ
উচ্চারণঃ আস্তাগফিরুল্লা-হ।
অনুবাদ: আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি। 
প্রতি ওয়াক্তের ফরজ সালাতে সালাম ফিরানোর পর রাসূলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া ৩ বার পড়তেন। (মিশকাত-৯৬১)।

দোয়া-২:

মূল আরবী: أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লা-হা ওয়া আতূবু ইলাইহি।
অনুবাদ: আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তাঁর দিকে ফিরে আসছি। 
রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তাওবা ও ইসতিগফার করতেন। (বুখারী-৬৩০৭)।

দোয়া-৩:

মূল আরবী:  أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আস্‌তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলায়হি।
অনুবাদ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মা‘বূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছে তাওবাহ করি।

এই দোয়া পড়লে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন-যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র হতে পলায়নকারী হয়। (আবু দাউদ-১৫১৭, তিরমিযী-৩৫৭৭, মিশকাত-২৩৫৩)।

দোয়া-৪:

মূল আরবী: رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ (أنْتَ) التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ / الغَفُوْرُ
উচ্চারণঃ রাব্বিগ্ ফিরলী, ওয়া তুব ‘আলাইয়্যা, ইন্নাকা আনতাত তাওয়া-বুর রাহীম। দ্বিতীয় বর্ণনায় ‘রাহীম’-এর বদলে: ‘গাফূর’।
অনুবাদ: হে আমার প্রভু, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়। দ্বিতীয় বর্ণনায়: তাওবা কবুলকারী ও ক্ষমাকারী।

রাসূলুল্লাহ (সা.) মসজিদে বসে এক বৈঠকেই এই দোয়া ১০০ বার পড়েছেন। (আবূ দাঊদ-১৫১৬, ইবনু মাজাহ-৩৮১৪, তিরমিযী-৩৪৩৪, মিশকাত-২৩৫২)।

দোয়া-৫: (সাইয়েদুল ইস্তিগফার-বা আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দোয়া:
মূল আরবীঃ اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্কতানী ওয়া আনা আ'বদুকা ওয়া আনা আ'লা আহ্দিকা ওয়া ও’য়াদিকা মাসতাত’তু আ'উযুবিকা মিন শার্রি মা ছা’নাতু আবূউলাকা বিনি'মাতিকা আ'লাইয়্যা ওয়া আবূউলাকা বিযানবী ফাগ্ফির্লী ফাইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয্যুনূবা ইল্লা আনতা

অনুবাদ: হে আল্লাহ তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের ওপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে পানাহ চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। কারন তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।

এই দোয়া সকালে পড়ে রাতের আগে মারা গেলে অথবা রাতে পড়ে সকালের আগে মারা গেলে সে জান্নাতে যাবে। (বুখারী-৬৩০৬)।

এ সকল দোয়া ছাড়াও কোরআন ও হাদিসে আল্লাহর তায়ালার নিকট ক্ষমা প্রার্থনার আরো বিভিন্ন দোয়া বর্ণিত হয়েছে। সেগুলো পড়ার চেষ্টা করতে হবে। এমনকি নিজের ভাষায় নিজের মত করে মহান আল্লাহর নিকট নিজের অপরাধগুলো তুলে ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও তিনি ক্ষমা করবেন ইনশাআল্লাহ!

পবিত্র কোরআনুল কারিমে তাওবা করার ব্যপারে তাগিদ-

> যে কেউ দুষ্কর্ম করে অথবা স্বীয় জীবনের প্রতি অত্যাচার করে পরে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থী হয়, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় পাবে। (সূরা নিসা ৪/১১০)

> নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে অবস্থান করবে এবং তুমি কখনো তাদের জন্য সাহায্যকারী পাবে না। কিন্তু যারা তওবা করে ও সংশোধন হয় তারা ব্যতীত। (সূরা নিসা ৪/১৪৫-১৪৬)।

> যারা ঈমানদান নর-নারীর ওপর যুলুম-নির্যাতন করেছে এবং পরে তওবা করেনি, তাদের জন্যে জাহান্নামের আযাব ও দহন যন্ত্রণা রয়েছে’ (সূরা বুরূজ ৮৫/১০)। আল্লাহ অন্যত্র বলেন, وَتُوْبُوْا إِلَى اللهِ جَمِيْعاً أَيُّهَا الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ (সূরা নূর ২৪/৩১]) (সংগৃহীত)

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকল অপরাধ মার্জনা করে তার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত করে দিন। আমীন।

(২) ইস্তিগফার করুন বেশি বেশি: 
ইস্তিগফার তথা গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা আমাদের গুনাহকে মোচন করতে পারি। ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে আমাদের গুনাহের ক্ষমা প্রাপ্তির পর আমরা নিজেদেরকে জান্নাতের জন্য উপযুক্ত করতে পারি। 

সাইয়েদুল ইস্তিগফার-বা আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দুআ:
মূল আরবীঃ اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্কতানী ওয়া আনা আ'বদুকা ওয়া আনা আ'লা আহ্দিকা ওয়া ও’য়াদিকা মাসতাত’তু আ'উযুবিকা মিন শার্রি মা ছা’নাতু আবূউলাকা বিনি'মাতিকা আ'লাইয়্যা ওয়া আবূউলাকা বিযানবী ফাগ্ফির্লী ফাইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয্যুনূবা ইল্লা আনতা

অনুবাদ: ‘হে আল্লাহ তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের ওপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে পানাহ চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। কারন তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।’

এই দোয়া সকালে পড়ে রাতের আগে মারা গেলে অথবা রাতে পড়ে সকালের আগে মারা গেলে সে জান্নাতে যাবে। (বুখারী-৬৩০৬)।

(৩) অসুস্থতায় ধৈর্যধারণ  করুন: 
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার রাসূলের হাদিস থেকে বর্ণিত আছে, কেউ যদি তার অসুস্থতার সময় ধৈর্যধারণ করে, তবে তার এই অসুস্থতা তার গুনাহকে মুছে দেয়। এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের জান্নাতের জন্য তৈরি করতে পারি। 

 ধৈর্যধারণ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনুল কারিমে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা বলেন,

‘আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু না কিছু দিয়ে পরীক্ষায় ফেলবোই।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৫)।

পবিত্র কোরআনে এমন  কিছু আয়াত রয়েছে যেগুলো আমাদেরকে জীবনের বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়। কিছু আয়াত রয়েছে যা আমাদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়: আমরা কীভাবে নিজেরাই নিজেদের জীবনটাকে কষ্টের মধ্যে ফেলে দিই। আর কিছু আয়াত রয়েছে যা আমাদেরকে জীবনের সব দুঃখ, কষ্ট, ভয় হাসিমুখে পার করার শক্তি যোগায়। এরকম একটি আয়াত হলো,

‘আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু না কিছু দিয়ে পরীক্ষায় ফেলবোই: মাঝে মধ্যে তোমাদেরকে বিপদের আতঙ্ক, ক্ষুধার কষ্ট দিয়ে, সম্পদ, জীবন, পণ্য-ফল-ফসল হারানোর মধ্য দিয়ে। আর যারা কষ্টের মধ্যেও ধৈর্য-নিষ্ঠার সাথে চেষ্টা করে, তাদেরকে সুখবর দাও। (আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৫)।

আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু না কিছু দিয়ে পরীক্ষায় ফেলবোই:

আল্লাহ تعالى শুরু করছেন: وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَىْءٍ - আল্লাহ تعالى আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কিছু না কিছু দিয়ে পরীক্ষা নেবেনই, নেবেন। এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি আরবিতে দুই বার জোর দিয়ে এ কথা বলেছেন। কারো বেলায় সেই পরীক্ষা হয়তো চাকরি হারিয়ে ফেলে অভাবে, কষ্টে জীবন পার করা। কারো বেলায় হয়তো বাবা-মা, স্বামী, স্ত্রী, সন্তানদের জটিল অসুখের চিকিৎসায় দিনরাত সংগ্রাম করা। কারো বেলায় হয়তো নিজেরই নানা ধরনের জটিল অসুখ। কারো বেলায় আবার জমি-জমা, সম্পত্তি নিয়ে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে শত্রুতা, শ্বশুর-শাশুড়ির অত্যাচার, দুশ্চরিত্র স্বামী, পরপুরুষে আসক্ত স্ত্রী, ড্রাগে আসক্ত ছেলে, পরিবারের মুখে কালিমা লেপে দেয়া মেয়ে —কোনো না কোনো সমস্যায় আমরা পড়বোই। এই সমস্যাগুলো হচ্ছে আমাদের জন্য পরীক্ষা।

পৃথিবীতে আমরা এসেছি পরীক্ষা দিতে —এটা হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। হিন্দি সিরিয়াল, মিউজিক, ভিডিও গেম, রংবেরঙের পানীয়, হাজারো বিনোদন সবসময় আমাদেরকে চেষ্টা করে এই বাস্তবতাকে ভুলিয়ে দিতে। আমরা নিজেদেরকে প্রতিদিন নানা ধরনের বিনোদনে বুঁদ করে রেখে জীবনের কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করি। আমরা বিনোদনে যতই গা ভাসাই, ততই বিনোদনের প্রতি আসক্ত হয়ে যাই। যতক্ষণ বিনোদনে ডুবে থাকি, ততক্ষণ জীবনটা আনন্দময় মনে হয়। তারপর বিনোদন শেষ হয়ে গেলেই অবসাদ, বিরক্তি, একঘেয়েমি ঘিরে ধরে। ধীরে ধীরে একসময় আমরা জীবনের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠি। ‘কেন আমার নেই, কিন্তু ওর আছে?’ ‘কেন আমারই বেলায় এরকম হয়, অন্যের কেন এরকম হয় না?’ -এই সব অসুস্থ প্রশ্ন করে আমরা আমাদের মানসিক অশান্তিকে জ্বালানী যোগাই। এত যে অশান্তি, তার মূল কারণ হলো: আমরা যে এই জীবনে শুধু পরীক্ষা দিতে এসেছি —এই কঠিন বাস্তবতাটা ভুলে যাওয়া। 

(৪) বিপদ-বিপর্যয় মাঝে মাঝে কল্যাণ আনে: 
মানুষের ওপর পরীক্ষাস্বরূপ আসা বিপদ-বিপর্যয়ে মানুষের কৃত গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। ফলে সেই ব্যক্তি জান্নাতের জন্য সম্পূর্ণভাবে পবিত্র হয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। 

সবর ঈমানের শেকড়রে মতো। বৃক্ষ যেভাবে শেকড়র ওপর দাঁড়িয়ে থাকে তদ্রুপ ঈমানও সবরের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। তাই যার সবর নেই তার পূর্ণ ঈমানী শক্তি নেই। আল্লাহ তায়ালা তাঁর পবিত্র গ্রন্থ কালামে মাজিদে ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষের মধ্যে কতেক এমন রয়েছে, যারা দ্বিধার সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করে। যদি তার কোনো কল্যাণ হয় তবে সে তাতে প্রশান্ত হয়। আর যদি তার কোনো বিপর্যয় ঘটে, তাহলে সে তার আসল চেহারায় ফিরে যায়। সে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি হলো সুস্পষ্ট ক্ষতি।’ (সূরা হজ, আয়াত ১১)।

পক্ষান্তরে যে সবর করে, বিপদে ধৈর্য ধারণ করে সেই ভাগ্যবান। পৃথিবীতে যারা সুন্দর জীবন গড়তে পেরেছে, তারা সবরের গুণেই তা গড়েছে। তারা সর্বোচ্চ শেখরে আরোহন করেছে এই সবরের বদৌলতেই। তারা দুঃসময় এলে ধৈর্য ধারণ করে আর সুসময় এলে আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করে। আর এভাবে তারা সবর ও শোকরের ডানায় চড়ে জান্নাতের অধিকারী হয়। সবর বা ধৈর্য আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ মুমিন বান্দাদের বৈশিষ্ট্য। নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালামকে আল্লাহ তায়ালা এই বিরল গুণে ভূষিত করেছেন। তাই নবী-রাসূলগণই হলেন সবরের সকল আকার-প্রকৃতির উজ্জ্বলতম উদাহরণ।

আল্লাহ তায়ালা বিজয় ও সফলতার জন্য সবর ও তাকওয়া অবলম্বনের শর্ত জুড় দিয়েছেন। তিনি কালামে মাজিদে ইরশাদ ফরমান, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধর ও ধৈর্যে অটল থাক এবং পাহারায় নিয়োজিত থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও।’ (সূরা: আলে-ইমরান, আয়াত: ২০০)।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের যাবতীয় গুনাহকে মুছে দিয়ে আমাদের পবিত্র করার মাধ্যমে জান্নাতের উপযুক্ত করে নিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে