গুজব প্রচারে আশেক গ্রেফতার

গুজব প্রচারে আশেক গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:০৪ ২৫ মার্চ ২০১৯  

ছবি- ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি- ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা থেকে ‘জাতীয়তাবাদী সাইবার দল’এর সভাপতি দাবি করা আশেক আহমেদ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

র‌্যাব জানায়, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্র বিরোধী মিথ্যা, বানোয়াট গুজব প্রচার করতো। এছাড়াও বিএনপির একজন  নেতা হয়েও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য নিজের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হওয়ার চেষ্টা করে। তাই মানুষের মনে বিশ্বাস স্থাপনের জন্য তিনি দেশের শীর্ষ স্থানীয় রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ছবি এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করতো।

সোমবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা জানান র‍্যাব-৩ এর সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমরানুল হাসান।

তিনি বলেন, র‌্যাব-৩ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত ১১ টায় রাজধানীর তেজগাঁও থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সভাপতি আশেক আহমেদকে গেফতার করা হয়। আশেক তার ফেসবুক পেজে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী অপপ্রচার করে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী শহীদদের প্রতি অশ্রদ্ধা, অবজ্ঞা ও অসম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে।

এমরানুল হাসান বলেন, গ্রেফতার আশেক জাতীয় নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে বিকৃত-কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ছবি পোষ্ট করে তাদের সম্মান ক্ষুন্ন করেছে। তার ফেসবুক পেজে পোষ্টকৃত বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা এবং জনসাধারণের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।

র‍্যাব জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আশেক জানায় যে, ফেসবুকে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার ছাড়াও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য তিনি সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের আত্মীয়, সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানের পরিচয়ে এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালায়৷ যেমন- সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, বদলি বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল অঙ্কের টাকা উপার্জন করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব আশেক আহমেদের পরিচয় সম্পর্কে জানায়, ছাত্রজীবন থেকে আশেক বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে অধ্যয়নের সময় বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রদলের হল সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে সে ২০১০ সালে বাংলাদেশ ত্যাগ করে ইতালিতে চলে যায়। পরে ২০১৪ সালে সে পুনরায় বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হতে শুরু করে। সে নিজেকে নাটোর জেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ও নাটোর জেলা জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সভাপতি দাবী করে। 

বিএনপি নেতা হয়েও আওয়ামী লীগ সাজার চেষ্টার বিষয়ে র‍্যাব জানায়, ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে আশেক ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য নিজের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হওয়ার চেষ্টা করে। এছাড়া মানুষের মনে বিশ্বাস স্থাপনের জন্য সে দেশের শীর্ষ স্থানীয় রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ছবি এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা শুরু করে। এভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে  আশেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে তদবীর, বিভিন্ন সময় টেন্ডার পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা কমিশন নেয়াসহ বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে ভর্তি বাণিজ্য, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য শুরু করেছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/আরএইচ