Alexa স্টেশন ছাড়াই ট্রেন থামিয়ে তেল পাচার

স্টেশন ছাড়াই ট্রেন থামিয়ে তেল পাচার

শামসুল হক ভূঁইয়া, গাজীপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:০৯ ২৭ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ২৩:৪১ ২৭ অক্টোবর ২০১৯

সংগৃহীত

সংগৃহীত

ট্রেনের চালক, গার্ড ও স্টেশন মাস্টারের যোগসাজশে স্টেশন ছাড়াই ট্রেন থামিয়ে চলছে তেল পাচার। দিনে-দুপুরে এই তেল চুরির ঘটনা ঘটছে গাজীপুরের আড়িখোলা রেল স্টেশনের কাছে। ২০-৩০ মিনিটের জন্য ট্রেন থামিয়ে গ্যালন ও ড্রামে তেল ভরে পরে ভ্যানে করে পাচার করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আড়িখোলা স্টেশন মাস্টারকে এ বিষয়ে একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। উল্টো এটা তার দায়িত্ব না বলে এড়িয়ে যান।

ঢাকা-সিলেট, চট্টগ্রাম এবং ভৈরব হয়ে ময়মনসিংহ ও নোয়াখালীর প্রায় ৫০টি ট্রেন এ রুট দিয়ে আসা-যাওয়া করে। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ট্রেনের চালক, গার্ড ও স্টেশন মাস্টারের যোগসাজশে ট্রেন থামিয়ে এই তেল পাচার করছে।

এদিকে গাজীপুর রেলস্টেশনে নেই কোনো যাত্রসেবা। ছোট আকারের নোংরা বিশ্রামাগার, নেই কোনো বসার উপযোগী যায়গা। যে কয়টি চেয়ার আছে তাও মাদকসেবী আর হকারের দখলে। তাই বাধ্য হয়ে যাত্রীরা স্টেশনে দাঁড়িয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করেন।

আড়িখোলা রেল স্টেশন

যেখানে বিশ্রামাগারের এতো করুণ দশা সেখানে টয়লেটের অবস্থা বলার অপেক্ষা রাখেনা। দুর্গন্ধযুক্ত, নোংরা এবং অস্বাস্থ্যকর এসব টয়লেট ব্যবহার করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নারী যাত্রীরা।

শুধু পরিবেশ নয় অভিযোগ রয়েছে ট্রেনের টিকিটের মূল্য নিয়েও। সময়ভেদে চাওয়া হয় অতিরিক্ত ভাড়া। এতে দালালদের হাতে জিম্মি হয়ে পরে যাত্রীরা। রয়েছে শিডিউল বিপর্যয়। আন্তঃনগর ট্রেনের তেমন বিরতি না থাকায় কিছু যাত্রীদের জন্য লোকাল ট্রেনই ভরসা।

জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. শাহজাহান মিয়া জানান, এ স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন। সে তুলনায় সেবার মান তেমন নেই। ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-রাজশাহী রেলরুটে প্রতিদিন প্রায় ৭০টি ট্রেন চলাচল করে। এরমধ্যে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা বিরতি এ স্টেশনে নেই বললেই চলে।

তিনি বলেন, ওয়ানওয়ে ট্রেনলাইন থাকায় আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে লোকাল ট্রেনগুলো বিভিন্ন স্টেশনে বসিয়ে রাখতে হয়। তবে ট্রেন বিলম্ব আগের চেয়ে অনেকটা কমে এসেছে। আন্ত:নগর ট্রেনের কারনে কালিয়াকৈর ডেমো ট্রেনটি বেশিরভাগ সময়ই দেরি হয়।

তিনি আরো জানান, স্টেশনে যাত্রীর তুলনায় অবকাঠামো না থাকায় তাদের জন্য বিশ্রামাগারের স্বল্পতা রয়েছে। এতে নারী পুরুষ ও শিশুদের স্টেশনের বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তবে স্টেশনে টিকেট বিক্রিতে অনিয়মের কথা অস্বীকার করেন তিনি।

এদিকে টিকেট বিক্রি নিয়ে অভিনব কৌশল শুরু হয়েছে গাজীপুর রেলস্টেশনে। সময়মত ট্রেনের টিকেট না দিয়ে দেরি করে টিকেট বিক্রি শুরু করা হয় এই স্টেশনে। ট্রেন চলে আসলে অনেকেই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে টিকেট ক্রয় করে এবং ট্রেনে উঠার জন্য টাকা রেখেই চলে যায়। তাদের মতে এটিও এক ধরনের দুর্নীতি।

টঙ্গী রেলওয়ে জংশনটিও খোলামেলা হওয়ায় যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে চলাচল করেন। এছাড়া স্টেশনটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার সময় মাদকসেবী ও পকেটমারের কবলে পড়ে অনেক যাত্রী তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র হারান। এ স্টেশন থেকেও ট্রেনের তেল ও যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস/এমকেএ