গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নতুন এলাকা প্লাবিত

গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নতুন এলাকা প্লাবিত

গাইবান্ধা প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:১৭ ১৫ জুলাই ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত এবং ভারি বর্ষণের কারণে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউপির ভাষারপাড়া সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ চুঁইয়ে পানি অপর পাড়ে যাচ্ছে। এতে বাঁধটি চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

বন্যার পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙে ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বালির বস্তা দিয়ে বাঁধের ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়া খোলাহাটি ইউপির কিশামত বালুয়া এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও চুঁইয়ে চুঁইয়ে পানি পড়ায় তা হুমকির মুখে পড়েছে।
 
এদিকে ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধির ফলে সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার ২৬টি ইউপির আরো নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে ঘরবাড়িতে বন্যার পানি ওঠায় পানিবন্দী পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। শুকনো খাবার ও জ্বালানির অভাবে খাদ্য সংকটে পড়েছে বন্যার্তরা। এছাড়া গো-খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার অনেকে এরমধ্যে বাড়িঘর ছেড়ে গরু-ছাগল নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বন্যা কবলিত ৪টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২১ হেক্টর জমির পাট, আমন বীজতলা, আউশ ধান এবং বিভিন্ন শাকসবজির খেত তলিয়ে গেছে। 

এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ফুলছড়ির বন্যা কবলিত এলাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে জনসাধারণকে বিদ্যুতের খুঁটি স্পর্শ না করার জন্য মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বুধবার দুপুর ১২টা ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১১৫ মিটার এবং ঘাঘট নদীর পানি ৯২ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, অবিরাম বর্ষণ ও উজানের ঢলে জেলার প্রতিটি নদ-নদীর পানি বেড়েছে। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হতে পারে। গত বছরের বন্যার মতো এবারো ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।  

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম ইদ্রিশ আলী জানান, বন্যাকবলিত চার উপজেলার জন্য ৩২০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ লাখ টাকা, চার লাখ টাকার শিশুখাদ্য, দুই লাখ টাকার গোখাদ্য ও তিন হাজার ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম