গরিবের ওএমএস কার্ডে কাউন্সিলরের ছেলে-মেয়ের নাম

গরিবের ওএমএস কার্ডে কাউন্সিলরের ছেলে-মেয়ের নাম

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:১২ ২৪ মে ২০২০  

সাবেক কাউন্সিলরের দুইছেলে-মেয়ের ওএমএস কার্ড

সাবেক কাউন্সিলরের দুইছেলে-মেয়ের ওএমএস কার্ড

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হতদরিদ্রের ওএমএস চালে ভাগ বসিয়েছেন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গোলাম হায়দার চৌধুরী। নিজের ছেলে তানবির হায়দার ও মেয়ে ফারজানা আক্তরের নামে বিশেষ ওএমএস কার্ড করিয়েছেন তিনি। বিষয়টি জানাজনি হলে সমালোচনার মুখে পড়েন সাবেক এ কাউন্সিলর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন রাসেল সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের এ কার্ড তাদের নামে করে দিয়েছেন।

রায়পুর পৌর এলাকায় দুই হাজার ৪০০ জনকে দেয়া হয়েছে ওএমএস কার্ড। প্রত্যেক কার্ডধারী ১০ টাকা কেজি ধরে ২০ কেজি করে চাল পাবেন। বিশেষ ওএমএস এর এ কার্ড বিতরণের শুরুতেই অনিয়ম ধরা পড়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন।

জানা গেছে, বর্তমান কাউন্সিলরের মাধ্যমে নিজের এক ছেলে ও এক মেয়েকে বেকার দেখিয়ে বিশেষ ওএমএস এর কার্ড করিয়ে নিয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর গোলাম হায়দার চৌধুরী। তাদের কার্ড নম্বর ১০৯ ও ৩১৯।

ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ার মিয়া বলেন, আমাদের মত গরিবের নাম বাদ দিয়ে কাউন্সিলরের ছেলে-মেয়ের নামে কার্ড দিয়েছে। যে দুইজনের নামে কার্ড করা হয়েছে তারাই তো হাজারো মানুষকে ত্রাণ দিতে পারে।

কাউন্সিরর নাসির উদ্দিন রাসেল বলেন, তাদের অবস্থা আগে ভালো ছিলো। এখন নেই। এছাড়া তারা কার্ড নিতে ইচ্ছা পোষণ করায় আমি ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

রায়পুর পৌরসভার মেয়র ইসমাইল খোকন বলেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলরের দুই ছেলে-মেয়েকে ওএমএস সুবিধা পাইয়ে দেয়ার বিষয়টি আমি জেনেছি। বিষয়টি দুঃখজনক, আরো অনেকেই হয়ত এরকম করেছেন। আমরা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।

রায়পুরের ইউএনও সাবরীন চৌধুরী বলেন, সরকারের বিশেষ ওএমএস কার্ড দুস্থদের জন্য। পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এ তালিকায় সামর্থ্যবানদের নাম তোলার অভিযোগ রয়েছে। দুটি কার্ড চিহ্নিত করে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর