গবেষণা ও জ্ঞান চর্চায় চুয়েট শিক্ষকের ভিন্ন প্রচেষ্টা

গবেষণা ও জ্ঞান চর্চায় চুয়েট শিক্ষকের ভিন্ন প্রচেষ্টা

চুয়েট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:১৬ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৭:৫২ ১০ মার্চ ২০২০

কয়েকটি ছবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কম্পিউটার কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছাবির হোসাইন

কয়েকটি ছবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কম্পিউটার কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছাবির হোসাইন

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণায় থাকছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে গতানুগতিক পদ্ধতিতেই হচ্ছে গবেষণা আর তা হচ্ছে চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থীদের  মাধ্যমে। তাই এই গবেষণা কার্যাবলিকে কিভাবে আরো বাড়ানো যায় এবং সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায়- তা দেখালেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কম্পিউটার কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছাবির হোসাইন। 

শুরুর গল্পটা ছিল একটু ভিন্ন ধরনের। চুয়েটের এক অনুষ্ঠানে যন্ত্রকৌশল বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আব্দুল ওয়াজেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের স্থান। সেই কথা থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ শুরু। ২০১৮ সালের ৩০ মার্চে Airline Scheduling with Max Flow Algorithm  প্রথম পেপার প্রকাশিত হয়। পরে আরো ২১টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। 

শিক্ষকতায় নিয়োজিত থাকার সুবাদে তিনি গত তিন বছর ধরে চুয়েটের কম্পিউটার কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের অ্যালগরিদম ডিজাইন অ্যান্ড এনালাইসিস কোর্সটি পরিচালনা করে আসছেন। কোর্সটির মৌলিক বিষয় পড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও প্রোজেক্ট করতে উৎসাহিত করেন। সেমিস্টারের শেষে প্রত্যেক বছর পোস্টার প্রেজেন্টেশনের ব্যবস্থা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা ও তার  নিরলস প্রচেষ্টার কারণে প্রায় দশেরও অধিক প্রকাশনা দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। আরো কিছু গবেষণা প্রকাশিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এই কাজগুলো আই ট্রিপলই (IEEE) স্পনসরড কনফারেন্স, থমসন রয়টার্স ইন্ডেক্সড জার্নাল, স্কোপাস (SCOPUS) ইন্ডেক্সড স্প্রিঞ্জার (Springer) বুক সিরিজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ও জার্নালে প্রকাশ হয়েছে। 

উল্লেখযোগ্যগুলো হলঃ International Conference on Advances in Science, Engineering and Robotics Technology (ICASERT-2019), International Joint Conference on Computational Intelligence (IJCCI-2019), International Conference on Cyber Security and Computer Science (ICONCS-2020), EMITTER International Journal of Engineering Technology. 

গত বছর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (Asian University for Women) আয়োজিত ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অন ন্যাচারাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ICNST-2019) তে তার ছাত্রী মালিহা জাহান চৌধুরী আইসিটি সেকশনে শ্রেষ্ঠ গবেষণাপত্র উপস্থাপনের পুরস্কার পায়। তার সহ-গবেষক ছিলেন একই ব্যাচের ছাত্রী কানিজ ফাতেমা তন্নী। তাদের গবেষণার বিষয় ছিল প্রোগ্রামিং ল্যাবে শিক্ষার্থীদের উপস্থাপিত কোড সমূহে প্লেগারিজম (মিল) বের করা।

ছাবির হোসাইন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমি মূলত অ্যালগরিদম কোর্সের প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নতুনভাবে সমাধানের অথবা বিদ্যমান সমাধান কিভাবে আরো উন্নত করা যায়, সে চেষ্টা করি। অ্যালগরিদমের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায় সেই চেষ্টাও করি। 

যেমন: এয়ারলাইন শিডিউলিং এমনভাবে করা হয় যাতে এরোপ্লেনগুলো বেশিরভাগ সময় ফ্লাইট মুডে থাকে। এতে প্রতিষ্ঠানের লাভ বেশি হয়। অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহার করে সহজে নির্দিষ্ট এলাকায় রক্তদাতা কে খুঁজে পাওয়া যায়। ভ্রমণপিপাসুদের শারীরিক কষ্ট কমিয়ে সহজে টুরিস্ট স্পটগুলোকে খুঁজে বের করা, কম মূল্যের কাছাকাছি ওষুধের দোকান খুঁজে বের করা। কাছাকাছি এমন হাসপাতাল খুঁজে বের করা যেখানে সিট খালি আছে এবং খরচ কম। ভাড়া বাসা খুঁজতে সহযোগিতা করা, র‍্যাগিং ঠেকানোর জন্য প্রথম বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করা। ফ্রিল্যান্সারদের লাভজনক কাজ বেছে নেয়ার জন্য সহযোগিতা করা, কার্যকর গ্রাফ সার্চ পদ্ধতি দেয়া, জেনেটিক অ্যালগরিদম ব্যবহার করে দ্বিঘাত সমীকরণ সমাধানের নতুন পদ্ধতি বের করা, ট্রাভেলিং সেলসম্যান সমস্যার কার্যকর সমাধান দেয়া।

শুধু দেশেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গবেষণা কাজ করে যাচ্ছেন ছাবির হোসাইন। এরমধ্যে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টুয়ার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আসাদ কবির, কানাডার ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ড. এনামুল হক প্রিন্স, আমেরিকার হিউস্টোন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইনুল ইসলাম, ইউনিভার্সিটি মালেশিয়া পাহাং এর মুহাম্মাদ নোমানী কবির। তিনি মূলত মেশিন লার্নিং রেকমেন্ডার সিস্টেম ডিজাইন, অ্যালগরিদমের কম্পেক্সিসিটি এনালাইসিস, অগমেন্টেড রিয়্যালিটি, কম্পিউটার ভিশন, তথ্য পুনরুদ্ধার ও প্রদর্শন নিয়ে গবেষণা করেন।

কেনো গবেষণায় আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের স্থান হিসেবে পরিণত হোক। শুধু চূড়ান্ত নয়, যেকোনো বর্ষের শিক্ষার্থীরা যাতে গবেষণা করতে পারে সে বিষয়ে জোর দেয়া। এজন্য কনফারেন্সে গবেষণা প্রবন্ধ রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদানসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা বাড়ানো দরকার। আশা করা যায় আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েরও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্বুদ্ধ করবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্রে পরিণত হবে। https://www.researchgate.net/profile/Md_Hossain470?fbclid=IwAR1IB6ONnlkSolfh5UaoXOk4BYhhLg2l8CNyrAXgHdW68s8bSMO68mTZBM4

 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম/এমআরকে