গণপরিবহন চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে মালিক-শ্রমিকরা

গণপরিবহন চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে মালিক-শ্রমিকরা

সালাহ উদ্দিন চৌধুরী, সেন্ট্রাল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:২১ ২৮ মে ২০২০   আপডেট: ২০:৪১ ২৮ মে ২০২০

বাস ধোয়ামোছাসহ সার্বিক প্রস্তুতিতে শ্রমিকেরা

বাস ধোয়ামোছাসহ সার্বিক প্রস্তুতিতে শ্রমিকেরা

দুই মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর রোববার থেকে চালু হতে যাচ্ছে গণপরিবহন। বুধবার রাতেই প্রচার হয়ে যায় এই বার্তা। সঙ্গে সঙ্গে নড়েচড়ে বসেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। এরইমধ্যে শ্রমিকেরা বাস ধোয়ামোছাসহ সার্বিক প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, পোস্তগোলা, গুলিস্তান ও সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। 

সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে কথা হয় রওদা পরিবহনের বাস চালক মাকসুদ আলক বাবুর সঙ্গে। ডেইলি বাংলাদেশকে তিনি বলেন, রাতেই তার বাস মালিক তাকে বাস চলাচল শুরুর কথা জানান। এরপর সকাল থেকে তিনি হেলপারকে নিয়ে বাস ধোয়ামোছা শুরু করেন। ইঞ্জিনও স্টার্ট দেন।

দীর্ঘদিন পর ইঞ্জিন স্টার্ট দিতে পারায় তিনি বেশ খুশি। তবে অনেক দিন বাস বন্ধ থাকায় গাড়ির কি কি ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নন বলে জানান তিনি।

শ্যামলি পরিবহনের স্টাফ নিশান জানান, বাস চালুর কথা তিনি শুনেছেন। যদিও মালিক পক্ষ থেকে তাদের এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে দুপুরে তিনিসহ অন্য আরো কয়েকজন মিলে বাস ধুয়েছেন। বাসের ভেতরটাও পরিষ্কার করেছেন। তবে অনেক দিন বন্ধ থাকায় বাসের ভেতরে অনেক ময়লা জমে গেছে। অপরিষ্কার হয়ে গেছে বাসের সিট কাভার ও পর্দা। এসব ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে যাত্রীদের রোষানলে পড়তে হবে।

এদিকে যাত্রাবাড়ীতে গাড়িতে রঙ করছিলেন দিশারী পরিবহনের স্টাফ আনিস। জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক দিন পর বাস রাস্তায় নামবো। রিং, বাম্পারসহ অনেক জায়গার রঙ নষ্ট হয়ে গেছে। তাই রঙ করছি।

অনাবিল পরিবহনের বাস চালক মুমিনুল আলম বাসের নিচে মিস্ত্রিকে নিয়ে কাজ করছিলেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় গাড়ি কি অবস্থায় আছে তা জানতে মালিকের নির্দেশে মিস্ত্রিকে দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে রাখছি। তবে বাস রাস্তায় না চললে গাড়ির সঠিক অবস্থা বুঝা যাবে না।

পোস্তগোলা থেকে সদরঘাট রুটে চলাচলকারী বাহাদুরশাহ পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসন বলেন, গণপরিবহন চলাচলের সিদ্ধান্তের কথা শোনার পরই তারা চালক ও হেলপারদের ঢাকায় আসার কথা জানিয়েছেন। যারা ঢাকায় রয়েছে তাদের কেউ কেউ সকালেই টার্মিনালে এসেছেন। অনেকে গাড়ির ছোটখাটো কাজও সের নিয়েছেন। তবে গাড়ি মেরামতের মেকানিকরা অধিকাংশই ঢাকার বাইরে থাকায় এখনই গাড়ির বড় কোনো কাজ করাতে পারছেন না তারা।

তিনি আরো বলেন, গাড়ির স্টাফরা নিদারুণ কষ্টে দিনযাপন করছে। তাই ঝুঁকি নিয়ে হলেও তারা গাড়ি চালাতে প্রস্তুত। গণপরিবহন খোরার সিদ্ধান্তে চালক-স্টাফদের ভেতর প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে বলেও জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসসি/আরএইচ