খোঁজ মিলছে না রাজৈরের ৮ যুবকের 

লিবিয়ায় বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ড

খোঁজ মিলছে না রাজৈরের ৮ যুবকের 

রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৩৭ ৩০ মে ২০২০   আপডেট: ১৮:৪৭ ৩০ মে ২০২০

লিবিয়ায় নিখোঁজ রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মানিক হাওলাদার ও জুয়েল হাওলাদার

লিবিয়ায় নিখোঁজ রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মানিক হাওলাদার ও জুয়েল হাওলাদার

লিবিয়ায় গুলি করে ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনায় মাদারীপুরের রাজৈরে আট যুবকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন নিখোঁজ যুবকদের পরিবার। তারা জীবিত না কি মৃত তার কোনো সঠিক তথ্য মিলছে না। 

ওই হতাহতের ঘটনায় এদের কেউ রয়েছে কি না তারও হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। লিবিয়ায় হতাহতের ঘটনার খবর শুনে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশি দালাল রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউপির জুলহাস শেখের বাড়িতে হামলা করে নিখোঁজ যুবকদের অভিভাবক ও এলাকাবাসী। 

এ খবর পেয়ে রাজৈর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় দালাল জুলহাস নিজেকে করোনা রোগী বলে পরিচয় দেয়। এ সময় পুলিশ জুলহাসকে নিয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করে।

নিখোঁজরা হলেন রাজৈর উপজেলার হোসেনপুরের আবদুর রহিম, বিদ্যানন্দী গ্রামের জুয়েল হাওলাদার। একই গ্রামের মানিক হাওলাদার, টেকেরহাট এলাকার আসাদুল, মনির হোসেন ও আয়নাল মোল্লা, ইশিবপুর এলাকার সজীব ও শাহীন, সদর উপজেলার জাকির হোসেন, জুয়েল হোসেন, সৈয়দুল, ফিরোজ ও দুধখালীর শামীম। 

অনেক পরিবারের লোকজন জানেও না তাদের সন্তান আদৌ বেঁচে আছে কি না। অনেকে আবার হত্যাকাণ্ডের খবরও শোনেননি। নিখোঁজ যুবকদের সঠিক পরিচয় না পাওয়ায় তাদের পরিবারকে খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গেলে হোসেনপুর ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নিখোঁজ জুয়েল হাওলাদারের বাবা রাজ্জাক হাওলাদার ও মা রহিমা বেগম বলেন, ছেলেসহ রাজৈরের বেশ কয়েকজনকে দালাল চক্র লিবিয়া নেয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪/৫ লাখ টাকা চুক্তি করে নিয়ে যায় কয়েক মাস আগে। তারপর লিবিয়ার ত্রিপলী না নিয়ে বেনগাজী নামে এক গ্রামে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে। এরপর ভয়েজ রেকর্ডে নির্যাতনের শব্দ পাঠিয়ে আরো ১০ লাখ টাকা দাবি করে। 

উপজেলার হোসেনপুর ইউপির সত্যবতী গ্রামের মজিদ শেখের ছেলে জুলহাস শেখ নামের ওই দালালের বাড়িতে গিয়ে ১০ লাখ টাকা দিয়ে আসি। মানুষের কাছে শুনতে পাচ্ছি লিবিয়ায় গুলি করে অনেক বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে। ছেলে বেঁচে আছে কি না তাও জানতে পারছি না। এখন পর্যন্ত ছেলের কোনো খোঁজ পাই নি। ১৫ দিন আগে ছেলের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছে। এর পর আর কোনো খোঁজ পাইনা ।

একই গ্রামের নিখোঁজ মানিক হাওলাদারের বাবা শাহ আলম হাওলাদার বলেন, ছেলে মানিককে লিবিয়া নেয়ার কথা বলে দালাল জুলহাস আমার কাছ থেকে প্রথমে ৪ লাখ টাকা নিয়েছে। পরে ছেলেকে বেনগাজী আটকে রেখে ভয়েজ রেকর্ডের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। ছেলেকে আনতে জুলহাসের বাড়ি গিয়ে টাকা দিয়ে আসি। এখনো আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।

রাজৈর থানার ওসি খন্দকার শওকত জাহান বলেন, লিবিয়ায় লোক নেয়া দালাল রাজৈরের জুলহাস শেখের বাড়িতে এলাকাবাসী হামলা করে এমন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে গেলে জুলহাস বলে আমার করোনা হয়েছে। করোনার কথা শুনে জুলহাস শেখকে মাদারীপুর সদর হসাপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি করি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব ।

ডিসি মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিদের হত্যার কথা শুনেছি। মাদারীপুরের লোকজনই বেশি। মাদারীপুরের কতজন মারা গেছে এ তথ্য এখন পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পায়নি। মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছে আমাকে মাদারীপুরের কতজন মারা গেছে সে তথ্য দিবে। লাশ দ্রুত কিভাবে দেশে আনা যায় সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে