খেলাঘর ।। লাবিব আহমেদ আদ্ভি

খেলাঘর ।। লাবিব আহমেদ আদ্ভি

গল্প ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০৪ ১৬ জুন ২০২০  

অলঙ্করণ: মিজান স্বপন

অলঙ্করণ: মিজান স্বপন

ভোর ৪টা ৫১ মিনিট। ফজরের আযানের পরপরই বিদ্যুৎ চলে গেছে। বরাবরের মতোই শুভ তার বিছানায় শুয়ে পর্দার মধ্যকার অনিকেত প্রান্তর দিয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে আছে। নির্জন অন্ধকার রাতের পর কিভাবে ভোরের আলো ফোটে তা দেখতে বেশ ভালো লাগে ছেলেটার। পিনপতন নীরবতা ভেঙে একটা কাকের ডাক শুনে মনে হচ্ছে সব পাখিকে সতর্ক করছে সে। ধীরে ধীরে আরো অনেক পাখি তার ডাকে সাড়া দিলেও আজ আলো ফুটছে না।

শুভ এখনো তার বিছানায় শুয়ে নিষ্পলক বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ বাইরে মেঘের গর্জনের শব্দ শুনে শুভ বুঝতে পারলো আজ আলো না ফোটার কারণ। ধীরে ধীরে ভেজা বালিশ ছেড়ে জানালার কাছে যায়। দেখতে পায় ভালোবাসার ঢাকা শহর এখনো পরম স্নিগ্ধতায় ঘুমোচ্ছে। ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছে তবে তা গায়ে লাগার মতো নয়। হঠাৎ মাটির ভেজা গন্ধে শুভ অনেকদিন পর প্রাণভরে নিশ্বাস নেয় তারপর ঠান্ডা বাতাস ভেসে আসে কোথা থেকে যেন। শুভর অনেক ইচ্ছা করে ছাদে গিয়ে এই পরিবেশ উপভোগ করার। চোখের জল মুছে দরজার কাছে আগাতে থাকে সে। শক্তি পাচ্ছে না শরীরে সে।

‘আজব এত দুর্বল লাগছে কেন! আগে তো এমন হতো না! মা!! মা!!! বাবা!!!! আমি বাইরে যাব কিন্তু আমার দুর্বল লাগছে কেন এত? মা আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে তোমরা কোথায় দেখতে পাচ্ছি না কেন? বাবা সারাজীবন তোমার শক্ত দুই হাত দিয়ে সামলে নিয়েছো আমাকে আজ তোমার ওই হাত দিয়ে আমাকে ধরছো না কেন! আমি পরে যাচ্ছি তো। তোমরা কোথায়? দেখতে পাচ্ছি না কেন?

মা!!! বাবা!!! খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। আমাকে বাঁচাও, আমি মরে যাচ্ছি! এরা কারা আমার সঙ্গে আমি এদের চিনি না!! আমার পরিবারের কাছে নিয়ে যাও আমাকে! প্লিজ একবার আম্মুর আঁচলে চোখ মুছতে দাও! একবার বাবার হাত ধরে দাঁড়াতে দাও! আমার বোনকে দেখতে দাও একবার! প্লিজ!’ এগুলো বলতে বলতেই নিশ্চুপ হয়ে এলো পরিবেশ। ‘স্যার আজকের প্রথম মৃত্যু এটা, ছেলেটার জন্য খারাপ লাগছে! অনেক রিকুয়েস্ট করে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চাচ্ছিল। শত চেষ্টা করেও বাঁচানো সম্ভব হলো না।’ ‘মন শক্ত করুন, নার্সে তো সবে শুরু, মৃত্যুর তাণ্ডব ছুটে আসছে আমাদের দিকে, কে জানে এরপর হয়তো আমি বা তুমি এভাবেই নিথর পড়ে থাকবে। জানি না কবে এই ক্ষুদ্র দৈত্যের বিনাশ হবে। কবে থামবে এই মৃত্যুর খেলা। আজ আমরা অসহায়ের কাছে।’ কথাগুলো বলে ডাক্তার চলে গেলেন রুম ছেড়ে। ছেলেটার চোখ থেকে শেষ এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল সেই ভেজা বালিশেই। হয়তো মৃত্যুর পূর্বের কল্পনা অনেক সুন্দর ও করুন হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর