খুলনায় করোনায় লড়াকু ২৮০ পুলিশ এখন সুস্থ

খুলনায় করোনায় লড়াকু ২৮০ পুলিশ এখন সুস্থ

খুলনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৭ ১৩ আগস্ট ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় খুলনায় ২৮০ জন পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তারা বর্তমানে সবাই সুস্থ আছেন।  

করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা মেট্রো পলিটন (কেএমপি) এবং খুলনা জেলা পুলিশের ২৮০ জন সদস্য করোনা পজিটিভ হয়েছেন। এরমধ্যে অ্যাডিশনাল কমিশনার, এসপি, এএসপি, এসি, ওসি, এসআই, এএসআই, কনস্টেবলসহ সব ধরনের সদস্যই আছেন। তবে কোনো পুলিশ সদস্যই প্রাণ হারাননি। গত জুলাইতে খুলনা রেঞ্জের এসপি সাজ্জাদ হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেয়া হলেও বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন।

কেএমপির সূত্রে জানা যায়, নগরীতে দায়িত্বরত অবস্থায় এখন পর্যন্ত ২১৯ জন পুলিশ সদস্য করোনা পজিটিভ হয়েছেন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫২ জন। হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩৬ জন এবং চিকিৎসাধীন ৩১ জন।

অপরদিকে জেলা পুলিশের সূত্র জানায়, তাদের মোট ৬১ জন সদস্য পজিটিভ হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ৩৫ জন। পজিটিভ রোগীদের মধ্যে রয়েছেন, পুলিশ পরিদর্শক ৬ জন, এসআই ১৬ জন, এএসআই ১৩ জন, নায়েক ১ জন, কনস্টেবল ২৪ জন এবং সিভিল স্টাফ ১ জন।

খুলনার এসপি এস এম শফিউল্লাহ জানান, করোনা প্রতিরোধে পুলিশ লাইনসে অফিসার ও ফোর্স তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে এবং সরকার কর্তৃক প্রদত্ত প্রণোদনা সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া জেলা পুলিশের প্রত্যেক সদস্যকে প্রয়োজনীয় মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং পিপিই প্রদান করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের শরীরে ইমিউনিটি বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের উন্নত চিকিৎসা প্রদান ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের আইসোলেশন এবং হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রতিরোধ, চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং সঠিক পরিচালনার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। হাত ধোয়া, মাস্ক, স্যানিটাইজার, পিপিইসহ পুলিশ সদস্যদের খাবার ও শারীরিক ব্যায়ামের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের জন্য বিভাগীয় হাসপাতালে করোনা ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এমনকি পুলিশ সদস্যদের পরিবারকেও সচেতন থাকার জন্য ওষুধ, ভিটামিনযুক্ত খাবার, ডিম, দুধ ও ফলমূল সরবরাহ করা হয়।

এদিকে খুলনায় করোনা মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গত মার্চ মাস থেকে এখন অবধি মাঠে কাজ করছে মহানগর ও জেলা পুলিশ। লকডাউন কার্যকর করতে দিন-রাত মাঠে ছিল পুলিশ। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এবং মাস্ক পরতে বাধ্য করাতেও কখনো কখনো পুলিশের ভূমিকা ছিল কঠোর। তবে সার্বিক দিক থেকে জনগণকে সুরক্ষা দিতে করোনা মোকাবিলায় পুলিশের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম