খাশোগি হত্যা মামলায় সৌদি দূতাবাস কর্মীর সাক্ষ্য

খাশোগি হত্যা মামলায় সৌদি দূতাবাস কর্মীর সাক্ষ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৩৮ ৪ জুলাই ২০২০   আপডেট: ২১:৪০ ৪ জুলাই ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগি তুরস্কের সৌদি দূতাবাসে ঢোকার পর প্রায় এক ঘণ্টা চুলা জ্বালিয়ে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল বলে আদালতে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এক দূতাবাসকর্মী।

তুরস্কের এক আদালতে খাশোগি হত্যা মামলার সাক্ষ্য দেয়ার সময় এ কথা বলেন তিনি। শুক্রবার মূল আসামি ২০ সৌদি কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে বিচারের প্রথম দিনে সাক্ষ্য দেন কনস্যুলেটের টেকনিশিয়ান জাকি দামির।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘খাসোগি তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে দূতাবাসে ঢোকার পর তাকে আবাসিক ভবনে ডাকা হয়। সেখানে পাঁচ–ছয়জন ব্যক্তি ছিলেন। তারা আমাকে তন্দুরের ওভেন জ্বালাতে বলেন। সেখানে পরিবেশ থমথমে ছিল।’

দামির জানান, ঘটনার দিন তিনি কনস্যুলেটের বাগানে মাংস কাটার অনেকগুলো বোর্ড দেখেছিলেন। এছাড়াও বাগানের চুলায় ছোট বারবিকিউয়ের আয়োজনও দেখেছেন তিনি। চুলার চারপাশের মার্বেলের স্ল্যাবগুলোর রঙ পাল্টে গিয়েছিল। সেগুলো রাসায়নিক দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছিল বলে তার ধারণা।

এ ঘটনায় পৃথক জবানবন্দি দিয়েছেন কনস্যুলেটের গাড়িচালক। তিনি বলেছেন, স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে কাবারের কাঁচা মাংস আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে জেকি দেমির বলেন, একটি কালো গ্লাসের গাড়ি কনস্যুলেটের ঢোকার সময় বাগানের গ্যারেজের দরজা খোলার কাজে সহায়তা করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে দ্রুত সেখান থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

তুরস্কের আদালতে সৌদির গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক উপপ্রধান আহমেদ আল-আসিরি ও রাজকীয় আদালতের সাবেক উপদেষ্টা সৌদ আল-কাহতানির বিরুদ্ধে ‘ভয়ানক উদ্দেশ্য নিয়ে হত্যায় প্ররোচনা’ দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মামলার অন্য ১৮ আসামি খাশোগিকে হত্যার উদ্দেশ্যে তুরস্কে গিয়েছিলেন।

আসামিদের অনুপস্থিতিতে তুরস্কে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে। তবে এই আসামিদের তুরস্কের কাছে সৌদি আরবের হস্তান্তরের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এমনকি গত বছর সৌদি আরবে এই মামলার বিচারকাজে তুরস্ক সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করেছে রিয়াদ।

গত বছরের ডিসেম্বরে সৌদি আরবের একটি আদালতে খাশোগি হত্যা মামলায় সংশ্লিষ্ট অন্তত পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজকে কারাদণ্ড সাজা দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে খাশোগির পরিবার বলেছে, তারা খুনীদের ক্ষমা করে দিয়েছে। সৌদির আইন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মুক্তি কার্যকরে অনুমোদন দেয়া হয়।

ওই সময় সৌদি আরবের একজন প্রসিকিউটর বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কাহতানির সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আল-আসিরির বিরুদ্ধেও আনা অভিযোগ খারিজ করে দেন।

২০১৮ সালের অক্টোবরে নিজের বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে যান সাংবাদিক জামাল খাশোগি। তারপর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন তিনি।

পশ্চিমা কিছু দেশের সরকারের পাশাপাশি মার্কিন প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ বলেছে, তাদের ধারণা- সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও সৌদি কর্মকর্তারা বরাবরের মতো এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।

তুরস্কের কর্মকর্তারা বলেছেন, পুলিশের ধারণা- খাশোগিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর টুকরো টুকরো করে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করে থাকতে পারেন ঘাতকরা।

সূত্র: আল-জাজিরা

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী