খাল দখল করে ফ্যাক্টরি নির্মাণ

খাল দখল করে ফ্যাক্টরি নির্মাণ

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪৬ ২ জুন ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউপির গাড়াদিয়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্বপাশে খাল (নয়নজলি) দখল করে চলছে ফ্যাক্টরি নির্মাণের কাজ। 

ঢাকা প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামের প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ দখলদারিত্বের অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কালভার্টটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় ইউপি ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, বায়রা মৌজায় আরএস ৫৭২৮ ও ৫৭২৯ দাগের ৭৫ শতাংশ জমি গত ৮ মাস আগে ক্রয় করে ঢাকা প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামের প্রতিষ্ঠানটি। তার পশ্চিম পাশ ঘেঁষে রাস্তা সংলগ্ন প্রবাহমান ১৬ ফুট নয়নজলি (খাল) দখল করে মাটি ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে ওই প্রতিষ্ঠানটি। এ কাজের সঙ্গে যোগ দিয়েছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী দালাল চক্র। তারা দখলদার প্রতিষ্ঠানের এ অবৈধ কাজে সহায়তা করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। 

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বায়রার চালিতাতলার চক (পানু বাবুর বন্ধ) ও কাশেম দেওয়ানের চকের পানি ওই নয়নজলি দিয়েই প্রবাহিত হতো। পানি চলাচলের জন্য গাড়াদিয়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্বপাশে আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়।

সরেজমিনে মঙ্গলবার দেখা যায়, কালভার্টটির উত্তর পাশে কিছু অংশ বাদ রেখে নয়নজলি খালের পুরো অংশ মাটি ফেলে ভরাট করে উভয়পাশেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। কাজের শুরুতে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে নিচ দিয়ে পানি চলাচলের জন্য সান্ত্বনা হিসেবে মাত্র দুই ফুট পরিমাণ চুঙি দেয়া হয়। 

বায়রা গ্রামের  আরজ আলী,আফছার উদ্দিন, সেলিম হোসেন,ইয়ারুসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, কালভার্টের উত্তর পাশ ও নয়নজলি খাল ভরাট হওয়ায় বৃষ্টির মৌসুমে পুরো চকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। পানি বের হতে না পারলে ফসলাদির ব্যাপক ক্ষতি হবে।

তারা আরো বলেন, এ ভরাটের কারণে বর্ষা মৌসুমেও চালিতাতলা চকে পানি ঢুকতে পারবে না। এতে ফসল উৎপাদন ও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। 

ঢাকা প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামের প্রতিষ্ঠানটির ক্রয়কৃত জমির দাতা (সাবেক মালিক) গাড়াদিয়া গ্রামের মোবারক হোসেন বাবুল অভিযোগ করে বলেন, আমরা পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ৮০ শতাংশ সম্পত্তি এক ভাই ছাড়া বাকিরা  ৭৫ শতাংশ জমি  ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেছি। প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ ওই জমির পশ্চিম পাশ ঘেঁষে রাস্তা সংলগ্ন  খাল দখলের পাশাপাশি আমার লাগানো একাধিক ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলেছে। 

তিনি আরো বলেন, আমরা শুধু পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করেছি। সরকারি জায়গা দখল সেটা তাদের ব্যাপার। 

বায়রা ইউনিয়ন (ভূমি) সহকারী কর্মকর্তা ঝিলন খান বলেন, সরকারি খাল দখল করে মাটি ভরাট ও দেয়াল নির্মাণের কাজে আমি একাধিকবার বাধা দিয়েছি। তারা আমাকে কোনো গুরুত্বই দেননি। পরে আমি এসিল্যান্ড স্যারকে জানিয়েছি। নয়নজলি (খাল) ব্যক্তিগত জায়গায় হলেও সেটা কোনোভাবেই দখল করা যাবে না। 

ঢাকা প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রিজ এর সাইট ইনচার্জ বাবুর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে কোম্পানির মার্কেটিং অফিসার তারিকুল ইসলাম বলেন, জায়গাটা আমাদের এমডি স্যার ক্রয় করে ফ্যাক্টরি করছেন। মার্কেটিং চালু না হওয়াতে আমার মোবাইল নাম্বারটা সাইনবোর্ডে দিয়ে রেখেছে। 

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহের নিগার সুলতানা বলেন, বিষয়টি সরেজমিন দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ