খাদ্যগুদামে নিম্নমানের পচা চাল মেশানোর সময় ধরা

খাদ্যগুদামে নিম্নমানের পচা চাল মেশানোর সময় ধরা

ফরিদপুর প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:১৯ ১৩ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৬:০৪ ১৩ জুলাই ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় উপজেলায় সরকারি খাদ্যগুদামে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভালো চালের সঙ্গে নিম্নমানের পচা চাল মেশানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ একরাম হাসান খান শ্রমিক দিয়ে খাদ্যগুদামে রাখা ভিজিডি-র চালের সঙ্গে নিম্নমানের চাল মিশিয়ে বস্তায় ভরছিলেন।

এমন খবরে আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান জাহিদ সরকারি খাদ্যগুদামে যান। এ সময় নিম্নমানের ৪২ বস্তা চাল খাদ্যগুদামের ভেতরে ছিল। আরো বেশকিছু নিম্নমানের চালের সঙ্গে ভালো চাল মেশানো অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিল। সেগুলো বস্তায় ভরা হচ্ছিল। উপজেলা চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে ওই নিম্নমানের চাল বস্তাভর্তি করতে পারেনি। পরে ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা পেয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের অবহিত করেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ একরাম হোসেন খান জানান, চলতি চাল ক্রয় বছর ৩৮৫ মেট্রিক টন চাল ক্রয় ধার্য হয়েছে। এরই মধ্যে ১০২ মেট্রিকটন চাল উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতির ভাই নূরুজ্জামানের মালিকানাধীন কুসুমদি গ্রামে অবস্থিত নূর অ্যান্ড ব্রাদার্স রাইচ মিল এবং ফজলুর রহমানের মালিকাধিন বিসমিল্লাহ রাইচ মিল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি চাল কোথা থেকে ক্রয় করা হয়েছে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

এই খাদ্য কর্মকর্তা বলেন, অনেক সময় মিলারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত চাল সব বস্তা পরীক্ষা করা হয় না। এই কারণে এমনটি হতে পারে।

ইউএনও মো. রাশেদুর রহমান বলেন, চাল মেশানোর খবর পেয়ে দ্রুত গোডাউন যাই। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান জাহিদ বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে ইউএনওকে জানাই। ব্যবস্থা নিতে বলেছি। স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে কৈয়ফেত চাওয়া হয়েছে।

ফরিদপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো সাহিদার রহমান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত টিম গঠন করা হবে। নিম্নমানের চালের অস্তিত্ব পেয়েছি। দোষী প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হেবে।

ডিসি অতুল সরকার বলেন, খাবার চালে ভেজাল বা পচা চাল মেশানো ঘটনার সত্যতা নিললে কোনো ছাড় দেয়া হবে না, সে যেই হোক না কেনো। সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে পার পাওয়া যাবে না। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে