Alexa ক্ষোভের বিস্ফোরণ ও পেছনের গল্পগুলো

ক্ষোভের বিস্ফোরণ ও পেছনের গল্পগুলো

আসাদুজ্জামান লিটন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৪৮ ২২ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৪:৫৯ ২২ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় উপমহাদেশে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। এ অঞ্চলের মানুষকে এক কথায় ক্রিকেট পাগল বললেও অত্যুক্তি হবে না। বাংলাদেশে ক্রিকেট নিয়ে মাতামাতিটা একটু বেশিই। এদেশের মানুষ যেনো ক্রিকেটে খায়, ক্রিকেটে ঘুমায়। সব ধরণের ভেদাভেদ ভুলে জাতিগতভাবে এক ক্রিকেটের নিচেই একত্রিত হয় বাংলাদেশের মানুষরা। 

এই আবেগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময় সুবিধা নিয়েছে নানা মহল। জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে দিনে দিনে বেড়েছে দুর্নীতি। যে ক্রিকেটারদের পারফরমেন্সে এতো এগিয়ে চলা, তাদেরকে নিয়মের বেড়াজালে বেঁধে ফেলা হচ্ছিল ক্রমান্বয়ে। তাই ধীরে ধীরে হলেও ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছিল শোষিত ক্রিকেটারদের মনে। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ যে বিস্ফোরণের মতো হবে সে কথা জানাই ছিল। 

শেষ পর্যন্ত আকস্মিক সংবাদ সম্মেলন ডাকলেন ক্রিকেটাররা। জোটবদ্ধ হয়ে জানালেন তাদের দাবি-দাওয়া। আগ্নেয়গিরির লাভার মতো বেড়িয়ে এলো ভেতরের সব না বলা কথামালা আর আক্ষেপগুলো। কিন্তু কি সেই কারনগুলো? আসলেই কি এমন কিছু হয়েছে? সেসব ভেবে পাওয়া উত্তরগুলো সাজানো হলো দাবির ক্রমানুসারে। 

ক্রিকেটারদের পক্ষে প্রথম দাবি উত্থাপন করেন নাঈম ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের প্লেয়ারদের উন্নয়নের যে অ্যাসোসিয়েশন আছে (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-কোয়াব) আমরা কখনো দেখিনি তারা আমাদের পক্ষে কথা বলেছেন। অতএব কোয়াবের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি যারা আছেন তাদের অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। আমাদের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি কে হবেন সেটা আমরা প্লেয়াররা নির্বাচনের মাধ্যমে ঠিক করব। বাস্তবে দেখা যায় কোয়াবের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি উভয়েই বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। ফলে বিসিবিতে তারা ক্রিকেটারদের পক্ষের কোনো দাবি তোলেন না। এ যেনো 'বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধবে কে' অবস্থা। 

দ্বিতীয় দাবি বলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার আঙ্গুল ছিল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দিকে। তিনি বলেন, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে আপনারা জানেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের অবস্থাটা কি। যেভাবে প্রিমিয়ার লিগ হচ্ছে তাতে সব প্লেয়ারই অসন্তোষ প্রকাশ করছে। পারিশ্রমিকের একটা মানদন্ড বেধে দেওয়া হচ্ছে এবং অনেক সীমাবদ্ধতা এখানে আছে। আমরা যেভাবে আগে প্রিমিয়ার লিগ খেলতাম এবং প্লেয়াররা যেভাবে ক্লাব অফিসিয়ালদের সাথে ডিল করত সেট এখন আর নেই। আমাদের দাবি হচ্ছে আগে যেভাবে প্রিমিয়ার লিগটা চলত সেভাবে যেন আমরা পাই। 

এখানে দেখা যায়, আগে ক্রিকেটাররা কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগে নিজেদের চাহিদা মোতাবেক পারিশ্রমিক ঠিক করে নিতো। এছাড়া পছন্দসই ক্লাবও বেছে নিতে পারতো সবাই। কিন্তু বিসিবি এই নিয়ম পরিবর্তন করে প্লেয়ার্স ড্রাফট চালু করে। এতে ক্রিকেটাররা যেমন পছন্দের ক্লাব পান না, তেমনই পারিশ্রমিক নিয়েও থাকে অতৃপ্তি। 

জাতীয় দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম তৃতীয় দাবি জানান। বিপিএল নিয়ে নিজেদের কথা জানান তিনি। মুশি বলেন, আপনারা জানেন এবারের বিপিএল অন্য নিয়মে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের যেটা মূল দাবি সেটা হলো বিপিএল যেন আগের নিয়মে চলে আসে এবং আমাদের স্থানীয় প্লেয়ারদের ন্যায্য মূল্যটা যেন বিদেশি প্লেয়ারদের সঙ্গে থাকে। আমরা দেখি যে বিপিএলে বিদেশি প্লেয়াররা আসে এবং তাদের অনেক পারিশ্রমিক দেয়া হয়। কিন্তু স্থানীয়রা সেটা পায় না। বিসিবিকে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে যে প্লেয়ার থাকে তারা নিলামেই নিশ্চিত করে যে কোন গ্রেডে থাকবে। আমাদের মনে হয় আমাদেরও সেই সম্মানটা দেওয়া উচিত। এমনটাই হওয়া উচিত, তারপর যদি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি না নিতে চায় সেটা আলাদা ব্যাপার।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের মতো এখানেও অনেকটা একই সমস্যার সম্মুখীন দেশীয় ক্রিকেটাররা। বোর্ড নিজেদের মতো করে গ্রেডিং সিস্টেম তৈরির পর নিজেদের মতো করে প্লেয়ারদের সাজিয়ে রাখে। এছাড়া প্রতিবারই দেশিদের চেয়ে বিদেশীদের মূল্য বেশি দেয়া থাকে। এমন বৈষম্যের ফলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় ক্রিকেটারদের মাঝে। 

চতুর্থ ও পঞ্চম দাবি উত্থাপন করেন সাকিব আল হাসান। এক্ষেত্রে প্রথমে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধার বিষয় তুলে আনেন। টাইগার অলরাউন্ডার বলেন, আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্লেয়ারদের বেতন এক লাখ টাকা হওয়া উচিত। আমরা এই দাবিটা অবশ্যই জানাচ্ছি। আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের প্লেয়ারদের বেতন অনেক কম। সেটা নুন্যতম ৫০ ভাগ বাড়াতে হবে। অনুশীলন সুবিধা বাড়াতে হবে। জিম, ইনডোর, মাঠ সব কিছুর সুবিধা বাড়াতে হবে। ১২ মাস কোচ, ফিজিও, ট্রেনার নিয়োগ দিতে হবে। আমরা চাই এটা আসছে মৌসুমের আগেই নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই না প্রতিটি অনুশীলনই ঢাকাতে হোক। ঢাকার বাইরে বরিশাল তাদের হোম ভেন্যুতে, খুলনা তাদের হোম ভেন্যুতে অনুশীলন করবে তাইলেই ক্রিকেটের প্রসার বৃদ্ধি পাবে। 

সরেজমিনে গিয়েও এই কথার সত্যতা পাওয়া যায়। বিসিবি যেনো শুধু ঢাকার মাঝেই ক্রিকেটকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে। আঞ্চলিক ভেন্যুগুলোতে নেই পর্যাপ্ত জিম, ইনডোর বা অনুশীলনের সুবিধা। মাঠগুলোর অবস্থাও করুণ। ঢাকা ছাড়া আর কোথাও ফিজিও, ট্রেইনারদের দেখা পাওয়াই ভার। ফলে যথাযথ স্বাস্থ্য ও ফিজিক্যাল পরামর্শ নেয়ার সুযোগ পাননা বাইরের ক্রিকেটাররা।

পঞ্চম দাবিতে ক্রিকেট বল, খাদ্য ও বাসস্থানের বিষয় তুলে ধরেন সাকিব। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যে বল দিয়ে খেলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেই বল দিয়ে খেলা হয় না। ফলে আমাদের নতুন করে বলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। এই জিনিসটা যেন আমাদের না করতে হয়। এখানে বিসিবির খামখেয়ালিপনাই উঠে আসে। কারণ মানসম্পন্ন ক্রিকেট বলের ব্যবস্থা করতে খুবভ কষ্ট হওয়ার কথা নয় তাদের। অথচ তারা সরবরাহ করে নিম্নমানের বল। যা থেকে কিভাবে ভালো খেলা আশা করা যায়?

দৈনিক ভাতার ক্ষেত্রে মাত্র ১৫শ' টাকা দেয়া হয় ক্রিকেটারদের। ফিটনেসের ব্যাপারে বেশ সরব হয় বিসিবি, কিন্তু এই টাকায় ফিটনেস উন্নত করার মতো খাবার খাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান সাকিব। এ ব্যাপারে তার বক্তব্য, আমার মনে হয় না এটা আমাদের জন্য পর্যাপ্ত। যে ফিটনেস লেভেল বিসিব প্লেয়ারদের থেকে দাবি করে মনে হয় না সেটা ১৫শ' টাকায় সম্ভব। স্বাভাবিক ভাবেই তাদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে এবং ভালো হোটেলে থাকতে হবে। সেটা বিবেচনা করে যে টাকা দিলে ভালো হয় বিসিবি সেটা যেন করে।

ভ্রমনের ব্যাপারেও আক্ষেপ ঝড়ে পড়ে তার কন্ঠে। সাকিব বলেন, এটা বড় একটি ইস্যু। ভ্রমন বাবদ যে টাকা দেয়া হয় সেটা পর্যাপ্ত না। আমাদের ২৫শ' টাকা দেওয়া হচ্ছে এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে ভ্রমণ বাবদ। আপনারা বলতে পারেন ২৫শ' টাকায় বাস ছাড়া অন্য কোনো ভাবে সে পৌঁছাতে পারে? অতএব বিসিবি থেকে যেন বিমান ভাড়া দেয়া হয় সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে। 

হোটেলে জিম এবং সুইমিং পুল অবশ্যই থাকতে হবে। কারণ চার দিনের ম্যাচ শেষে প্রতিটি প্লেয়ারের অনেক কষ্ট হয়। তো এখানে অবশ্যই রিকভারির জায়গা থাকতে হবে। টু স্টার বা থ্রি স্টার হোটেলে প্লেয়ারদের থাকা সম্ভব নয়।

বাসের ব্যাপারেও আপত্তি জানান সাকিব। তার ভাষায়, আপনারা দেখেন আমরা কি বাসে চলাফেরা করি। এটা প্লেয়ারদের জন্য একবারেই আরামদায়ক নয়। এতএব একটা এসি বাস অবশ্যই যেন থাকে। 

বাস্তবিকপক্ষে তার প্রায় সব কথাই সত্য। তবে প্রতিবেদক জাতীয় লিগের ম্যাচ চলাকালীন যথেষ্ট খাবারের ব্যবস্থা দেখেছেন। তাই এ বিষয়ে বিসিবি আসলেই খাবারের ব্যাপারে খেয়াল রাখে কিনা এ নিয়ে কথা বলার জায়গা রয়েছে। বাকি ব্যাপারে বলা যায়, ক্রিকেটারদের থাকার জায়গা ও বাসের ক্ষেত্রে দায়সারা কাজ করতে চায় বিসিবি। এক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকিরও ব্যাপার থাকে। 

এনামুল হক জুনিয়র ষষ্ঠ দাবি তুলে ধরেন। তার বিষয় ছিল চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়ের সংখ্যা। এনামুল বলেন, জাতীয় দলের চুক্তিবদ্ধ প্লেয়ারদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বিশ্বব্যাপী যদি আপনারা চিন্তা করেন তাহলে মনে হয় আমাদের চুক্তিভুক্ত প্লেয়ারদের সংখ্যা কম। আমাদের মনে হয় চুক্তিভুক্ত প্লেয়ারদের সংখ্যা কমপক্ষে ৩০ জন করা উচিত এবং করতে হবে। 

বর্তমানে মাত্র ১৭ জন চুক্তিবদ্ধ রয়েছে বিসিবির সঙ্গে। সারাদেশের খেলোয়াড়দের তুলনায় যা আসলেই কম। তবে জাতীয় দলের বড় অংশই দলে আসা যাওয়ার মধ্যে থাকে। তাই এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় কাকে আনা হবে এ নিয়ে নিশ্চিত কোনো ধারণা দিতে পারেননি তিনি। 

সপ্তম দাবিতে দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল তুলে ধরেন কোচ ও গ্রাউন্ডসম্যানদের কথা। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শুধু ক্রিকেটারদের ব্যাপারই নয়। গ্রাউন্ডসম্যানদের দেখেন, বিসিবিতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে মাস শেষে ৫ বা ৬ হাজার টাকা পায়। কোচের কথা বলেন। আমরা নিজেরাই বাংলাদেশি কোচদের দাম দিচ্ছি না, বিদেশি কোচদের বেতন আমাদের ২০টা কোচের বেতনের সমান। দেখুন, সম্প্রতি একটা সফরে দেখবেন বাংলাদেশের কোচের অধীনে দল ভালো করেছে; কিন্তু পরের সফরেই তিনি নেই। 

এখানে কোচের ব্যাপারে মূলত টাইগারদের সাবেক কোচ স্টিভ রোডসের কথাই তুলে ধরা হয়েছে। তার অধীনে দারুণভাবে গুছিয়ে উঠেছিল দল। কিন্তু বিশ্বকাপে আশানুরূপ ফলাফল না আসায় সব দোষ দেয়া হয় তার উপর। একইসঙ্গে বরখাস্ত করে বিদায় দেয়া হয় তাকে। গ্রাউন্ডসম্যানরাও দীর্ঘদিন যাবত বিসিবির বৈষম্যের শিকার। প্রচুর খাটুনির পরেও তাদের চলাটাই কঠিন হয়ে পড়ে স্বল্প বেতনের জন্য। বিশ্বের চতুর্থ ধনী ক্রিকেট বোর্ডের কাছে এসব বিষয়ে উন্নতি করা কোন কঠিন ব্যাপারই নয়। 

আম্পায়ারদের বেতন নিয়েও অভিযোগ করেন তামিম। তিনি যোগ করেন, আম্পায়ারিং নিয়ে সমালোচনা আছে। কিন্তু আপনারা জানেন, আম্পায়ারিংকে পেশা হিসেবে নিতে হলে তাদের তো একটা আর্থিক সিকিউরিটি দিতে হবে। সেটা দেয়া হয় না। সব মিলিয়ে আমাদের মূল দাবি, বাংলাদেশিদের যেন প্রাধান্য দেয়া হয়। এখানে বিসিবির বিদেশী প্রীতিকেই কুঠারাঘাত করেছেন এ হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান।
 
অস্টম দাবিতে এনামুল হক বিজয় তুলে আনেন ঘরোয়া ক্রিকেটে অপর্যাপ্ত একদিনের ম্যাচের কথা। তিনি বলেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে আমরা দুই ধরনের লঙ্গার ভার্সন খেলি। এগুলো হলো বিসিএল ও এনসিএল। কিন্তু ওয়ানডেতে আমরা একটা মাত্র ভার্সন খেলি। এই সংখ্যাটি আরও বাড়ানো উচিত। টি-টোয়েন্টিতে আমরা বিপিএল নামক মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি লিগ খেলি। আমার মনে হয় বিপিএলে আরো ভালো করতে অন্তত আরো একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলা উচিত। জাতীয় লিগে আমরা আগে একটি ওয়ানডে খেলতাম। যা এখন আমরা পাই না। সেটা বাড়ানো হোক। 

বছর কয়েক আগে অবশ্য প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও মাত্র একটি টুর্নামেন্ট ছিল। অথচ খেলায় বেশি বেশি উন্নতি করতে চাইলে সেই ফরম্যাটে বেশি বেশি ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট খেলার বিকল্প নেই। সারাবছর মিডিয়ার সামনে উপস্থিত থাকলেও বিসিবির কর্তা ব্যক্তিরা ঘরোয়া ক্রিকেটের এ মৌলিক চাহিদার ব্যাপারে বরাবরই অনীহা প্রকাশ করে এসেছেন। 

উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান নবম দাবিতে ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য একটি নির্ধারিত ক্যালেন্ডার চান। এটা হলে ক্রিকেটাররা আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে পারবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়টিও কোনো বোর্ডের অবশ্যপালনীয় কর্তব্যের মধ্যে একটি। অথচ প্রায় প্রতিবছরই টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে ধোঁয়াশায় থাকে বিসিবি। তাই নির্ধারিত সময়ে খুব কম গোছালো ভাবে টুর্নামেন্ট শুরু করে তারা। অধিকাংশ সময় টুর্নামেন্টগুলো শেষ হয় দায়সারাভাবে। পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে ক্রিকেটাররাও তাদের সেরাটা তুলে ধরতে পারেন না। 

খেলোয়াড়দের এই পারিশ্রমিক পাওয়া নিয়ে প্রতিবছরই দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। যা খেলোয়াড়দের জন্য অস্বস্তিকর। ১০ম দাবিতে এই বিষয় তুলে আনেন জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটসম্যান জুনায়েদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ডিপিএলে প্রিমিয়ার লিগের যে বকেয়া টাকা সেটা যেন নির্দিষ্ট সময়ে পাই। যেমন গত বছর ১০টি দল টাকা ক্লিয়ার করেছে। কিন্তু আমরা ব্রাদার্স ইউনিয়নের ৪০ পারসেন্ট টাকা পাইনি। বোর্ডে অনেকবার গিয়েছি, ক্লাবকেও নক করা হয়েছে। জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমরা এটা ডিজার্ভ করি না, এটা খুবই দৃষ্টিকটু। এমন যেন না হয়।

ফরহাদ রেজা ক্রিকেটারদের পক্ষে শেষ দাবি তুলে ধরেন। এখানেও দেখা যায় বিসিবির নিয়মে বাঁধা পড়েছেন ক্রিকেটাররা। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার ক্ষেত্রে বিসিবির নিয়ম হলো একজন কোন বছরে দুটির বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে পারবে না। যা পৃথিবীর আর কোনো বোর্ডেই দেখা যায়না। এমন নিয়ম তুলে দেয়ার দাবিতে স্বাভাবিকভাবেই উচ্চ ছিল ক্রিকেটারদের কন্ঠ। 

ক্রিকেটারদের মুখপাত্র হিসেবে শেষে ফের কথা বলেন সাকিব আল হাসান। এ দাবিগুলো না মানা পর্যন্ত সব ধরণের ক্রিকেট থেকে একযোগে বিরতির ঘোষণা দেন ক্রিকেটাররা। বাস্তবিকপক্ষে যা দেশের ক্রিকেটেরে জন্যই মঙ্গলজনক। প্রতিটি দাবি ছিল সুস্পষ্ট এবং অতি প্রয়োজনীয়। 

দাবিগুলো মানা হলে দেশের ক্রিকেট এগিয়ে যাবে অনেকদূর। দীর্ঘদিন বঞ্চনার শিকার ক্রিকেটাররা দেশের স্বার্থে এই দাবিগুলো জানিয়েছেন। বিসিবি যত দ্রুত এসব বাস্তবায়ন করবে, ততো দ্রুত মাঠে ফিরবেন ক্রিকেটাররা। একইসঙ্গে বড় পরিবর্তন সূচীত হবে দেশের ক্রিকেটেও।

ক্রিকেটের সোনালী দিনের স্বপ্নে বিভোর টাইগার ভক্তরা দাবিগুলো দেখে ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী হতেই পারেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/সালি