ক্ষুধার্ত কুকুর ছিঁড়ে খেল চারটি হরিণ

ক্ষুধার্ত কুকুর ছিঁড়ে খেল চারটি হরিণ

রাজশাহী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:৪৪ ৩ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ২২:৪৫ ৩ এপ্রিল ২০২০

মাটিচাপা দেয়া জায়গাটি ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে অন্য হরিণগুলো (ছবি: সংগৃহীত)

মাটিচাপা দেয়া জায়গাটি ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে অন্য হরিণগুলো (ছবি: সংগৃহীত)

রাজশাহী শহরে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে ক্ষুধার্ত কুকুর। শুক্রবার ভোরে নগরের শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় পাঁচটি কুকুর ঢুকে চারটি হরিণকে ছিঁড়ে খেয়েছে।

হরিণ চত্বরের ভেতরেই হরিণগুলোর হাড়গোড় মাটিচাপা দেয়া হয়েছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সচিব এ ব্যাপারে চিড়িয়াখানার তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত প্রতিবেদন চেয়েছেন।

শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা পরিচালনা করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন।

জানা যায়, ভোর রাতের দিকে পাঁচটি কুকুর চিড়িয়াখানায় হরিণের খাঁচায় ঢুকে তিন হরিণ শাবককে ধরে ফেলে। এ সময় মা হরিণ এগিয়ে গেলে কুকুরগুলো তাকেও আক্রমণ করে। চারটি হরিণ মারার পরে কুকুরগুলো আর সেখান থেকে বের হওয়ার পথ পায়নি। কর্মচারীরা সকালে কুকুরগুলোকে বের করে দেন। পরে হরিণগুলোর ছেঁড়া দেহাবশেষ চত্বরের ভেতরেই মাটিতে পুঁতে ফেলেন। 

বিকেলে চিড়িয়াখানার ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ভয়ার্ত চোখ মেলে তাকিয়ে রয়েছে স্বজন হারানো হরিণেরা। যেখানে মৃত হরিণের কবর দেয়া হয়েছে সেই জায়গাটি ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে তারা। তাদের চত্বরের ভেতরে ঢুকতেই তারা দূরে সরে যায়। 

কর্মচারীরা জানান, চিড়িয়াখানায় গত তিন মাসে হরিণের ১৫টি বাচ্চা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৭৫টি হরিণ ছিল। কুকুরে খাওয়ার পর এখন রয়েছে ৭১টি।

চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল জানান, রাত ২টা পর্যন্ত তারা চিড়িয়াখানার পুকুরে কাজ করেছেন। লোকজন ছিল। তখন পর্যন্ত কুকুর ঢোকেনি। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শহরের হোটেলগুলো বন্ধ থাকায় কুকুরের খাবার সংকট।

তিনি আরো জানান, আদালতের নির্দেশ থাকার কারণে কুকুর নিধন বন্ধ রয়েছে। শহরে কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। তারা ধারণা করছেন কুকুরগুলো প্রথমে বাচ্চাগুলোকে আক্রমণ করেছিল। বাচ্চাদের বাঁচাতে এলে মাকেও ধরেছে কুকুর।

কুকুর ভেতরে কীভাবে ঢুকল জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সচিব আবু হায়াত মো. রহমতুল্লাহ জানান, সকালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তিনি দেখেছেন এক সময় হরিণ চত্বরের ভেতরে কিছু নির্মাণ সামগ্রী ঢোকানোর জন্য একটা রাস্তা করা হয়েছিল। পরে সেটি বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। কোনোভাবে এই বাঁশগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। অথবা কুকুরই ঢোকার চেষ্টা করার কারণে ফাঁকা হয়ে গেছে। ওই দিক দিয়েই কুকুর ঢুকেছে।

তিনি আরো জানান, চার-পাঁচটি কুকুর চিড়িয়াখানার ভেতরেই থাকে। দর্শনার্থীদের দেয়া খাবার খায়। এখন দর্শনার্থী ঢোকা বন্ধ রয়েছে। ওরাও অভুক্ত রয়েছে। তাই ভেতরে ঢুকে হরিণ শাবককে আক্রমণ করেছে। পরে মা ছুটে এসেছে তাকেও মেরেছে।

কুকুরগুলো এখনো রয়েছে, তাদের বের করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিড়িয়াখানার বিরাট জায়গা। কুকুর বের করে দেয়ার জন্য ধরাও কঠিন। তবু ওই চেষ্টাই করতে হবে। আদালতের নির্দেশের কারণে কুকুর মারা যাচ্ছে না।

তত্ত্বাবধায়ককে একটি লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। প্রতিবেদন পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম