Alexa ক্ষুদ্র শিল্পের সংযোগে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল ফাঁকি 

ক্ষুদ্র শিল্পের সংযোগে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল ফাঁকি 

ইউনুস আলী ফাইম, মহাদেবপুর (নওগাঁ) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২০ ২৫ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৩:৪০ ২৫ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

নওগাঁর মহাদেবপুরে ‘কফিল এন্ড রাজ্জাক এগ্রো লিমিটেড’ চাল কলের ক্ষুদ্র শিল্পের বিদ্যুৎ সংযোগে চলছে ইট ভাটার বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয়রা বলছেন, চালের কল থেকে মাটির নিচ দিয়ে পাশের ইট ভাটায় সংযোগ দিয়ে এভাবেই বছরের পর বছর বিদ্যুৎ বিল ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। আর বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ এসেছে। দ্রুত খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, উপজেলার নাটশাল এলাকায় অবস্থিত কফিল এন্ড রাজ্জাক এগ্রো লিমিটেড ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় এ চালের কলটিতে ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড থেকে সরবরাহ করা বিদ্যুতের খুচরা মূল্য ক্ষুদ্র শিল্পে প্রতি ইউনিটে আট টাকা ২০ পয়সা। আর বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৩০ পয়সা। 

হিসাব কষে দেখা গেছে, প্রতি মাসে কফিল এন্ড রাজ্জাক এগ্রো লিমিটেড চালের কলের মিটারে প্রায় ৯১ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। ক্ষুদ্র শিল্প অনুসারে প্রত্যেক মাসে বিল আসে প্রায় সাত লাখ ৪৬ হাজার ২০০ টাকা। আর বাণিজ্যিক হলে এর বিল আসতো নয় লাখ ৩৭ হাজার ৩০০ টাকা। এতে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল ফাঁকি দেয়া হচ্ছে প্রায় এক লাখ ৯১ হাজার ১০০ টাকার মতো। 

আর এভাবেই প্রতিষ্ঠানটি পল্লী বিদ্যুতের লাখ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল ফাঁকি দিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টদের মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে এ অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইট ভাটার শ্রমিক আবুল হোসেন বলেন, পাশের চালের কল থেকে মাটির নিচ দিয়ে ইট ভাটায় বিদ্যুৎ আনা হয়েছে। আর এ বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে পুরো ইট ভাটায়। ইট ভাটার আলাদা কোনো সংযোগ নেই।

তবে ইট ভাটার ম্যানেজার আমজাদ হোসেন বলেন, চালের কলের বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েই চলছে ইট ভাটা। তবে ভাটার জন্য আলাদা সংযোগের আবেদন করা হয়েছে। নতুন সংযোগ পেলে চাল কলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।

এছাড়া এ প্রসঙ্গে কফিল এন্ড রাজ্জাক এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মহাদেবপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শাহিনুর ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক ইট ভাটার জন্য নতুন সংযোগের আবেদন করেছেন। ভাটাতে নতুন সংযোগ দিলে চাল কলের লাইন আলাদা করা হবে।

এ ব্যাপারে নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অভিযোগ আকারে পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর