ক্রিকেট বন্ধে কৃষিসহ অন্য পেশায় ঝুঁকছেন খেলোয়াড়রা

ক্রিকেট বন্ধে কৃষিসহ অন্য পেশায় ঝুঁকছেন খেলোয়াড়রা

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২৪ ১ জুলাই ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ হয়ে আছে ক্রিকেট খেলা। এতে ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা খেলোয়াড়রা। আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেউ কেউ ক্রিকেট ছেড়ে কৃষিকাজ, দোকানের কাজসহ অন্য পেশার দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন। 

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রিকেট বোর্ড হলেও করোনায় আটকে গেছে তাদের আয়। বিভিন্ন রাজ্যের ক্রিকেট সংস্থাগুলোরও একই অবস্থা। করোনার কারণে লিগ বাতিল করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেট সংস্থা সিএবি। বন্ধ হয়ে গেছে জেলা স্তরের সব প্রতিযোগিতাও। ফলে ক্রিকেট থেকেই যাদের সংসার চলত তারা সকলেই চরম সংকটে পড়েছেন।

এমতাবস্থায় ব্যাট-বল ছেড়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে চাষের জমিতে কাজ করতে শুরু করেছেন। কেউ বসছেন দোকানে। কেউ কেউ আবার শুধু ভাত, ডাল খেয়ে টাকা বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চিত্র। এই যেমন কলকাতার ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের তরুণ পেসার মিনাজুর রহমানের কথাই বলা যায়। এ বছর লিগে ১০ উইকেট পাওয়া বোলার কাজ করতেন বাবার দোকানে। লকডাউনের জন্য দোকান ও ক্রিকেট দুটোই বন্ধ থাকায় আয়ের রাস্তাও ছিল বন্ধ। ক্লাবের পক্ষ থেকেও পাননি পারিশ্রমিক। এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে তাদের বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় আরো বিপদে পড়েন। 

এখন তাই সব ছেড়ে জমি চাষ শুরু করেছেন মিনাজুর। তিনি বলেন, ‘লকডাউনের মাঝেই আম্ফানের তাণ্ডবে বাড়ি ভেঙে গিয়েছিল। কী করে পরিবারকে সামলাব জানতাম না। তাই এখন চাষ করেই যেটুকু অর্থ সংগ্রহ করার করছি।’ 

পশ্চিমবঙ্গের আরেক ক্রিকেটার দুর্গেশ দুবেও বেশ সমস্যায় ভুগছেন। বাবা অনেকদিন আগেই চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। ফলে দুর্গেশের উপরেই নির্ভর করে তাদের সংসার। এই ক্রিকেটার ক্লাব থেকে পারিশ্রমিক পেলেও বাইরের প্রতিযোগিতায় খেলা বন্ধ হওয়ায় সংসার চালানো তার জন্য কঠিন হয়ে গেছে। 

এ বছর অনূর্ধ্ব-২৩ বাংলা দলের হয়ে খেলা এই ক্রিকেটার বলেন, ‘জমানো টাকা দিয়েই কোনো রকমে চলছে। আয়ের রাস্তা বন্ধ। পড়াশোনাও সেভাবে করিনি যে অন্য কোনো আয়ের রাস্তা খুঁজব।’

এমনই অবস্থায় রয়েছেন আরো অনেক ক্রিকেটার। ক্রিকেটের সঙ্গে লেগে থাকতে বোর্ড থেকে আর্থিক সাহায্যের দিকে চেয়ে রয়েছেন তারা। যদি পেট না চলে, হয়তো প্রাণের খেলা ক্রিকেটই ছাড়তে হবে তাদের। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল