Alexa ক্যান্সার শনাক্তে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর সাফল্য

ক্যান্সার শনাক্তে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর সাফল্য

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৩২ ১০ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২০:১৮ ১০ ডিসেম্বর ২০১৮

আবু আলী ইবনে সিনা। ফাইল ছবি

আবু আলী ইবনে সিনা। ফাইল ছবি

এক বাংলাদেশি বিজ্ঞানী এবং তার সঙ্গে আরো দুজন গবেষক মিলে ক্যান্সার শনাক্তকরণে নতুন এক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এর ফলে ক্যান্সার শনাক্তকরণ এখন সাধারণ রক্ত পরীক্ষা করার মতই সহজ হবে। এ পদ্ধতি সব ধরনের ক্যান্সার নির্নয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে।

তবে এটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে আরো সময় লাগবে। কারণ হাসপাতালগুলোতে এটি ব্যবহার করা যাবে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার আগে প্রয়োজন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল।

কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এই গবেষণা ৪ ডিসেম্বর 'নেচার কমিউনিকেশনস' পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ওয়েবসাইটে তাদের গবেষণার বিবরণ প্রকাশ করেছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু আলী ইবনে সিনা বর্তমানে কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাট ট্রয় এর অধীনে সহকারী হিসেবে কাজ করছেন।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে গবেষকরা বলেছেন, এটি ডিএনএ  সিগনেচারের উপর ভিত্তি করে ক্যান্সার শনাক্তকরণে সাহায্য করবে।

সাধারণত ক্যান্সারের ধরণগুলো একটির সঙ্গে অন্যটির মিলে না। যেমন স্তন ক্যান্সার, অন্ত্র ক্যান্সার- এর মধ্যে ভিন্নতা আছে। এদের মধ্যে জেনেটিক কিংবা অন্যান্য বৈশিষ্ট্য আলাদা।

গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার শনাক্তকরণে এমন একটি উপায় খুঁজছিলেন যা সব ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ওয়েবসাইটে গবেষকরা বলেছেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে যে ক্যান্সারের ডিএনএ পানিতে রাখার পরে একটি বিশেষ আকার ধারণ করে। এই আকার অনেকটা স্তন, অন্ত্র এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারের বা লিম্ফোমা ক্যান্সারের মতো।’

তারা বলেন, ‘আমরা এমন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছি যা দিয়ে ১০ মিনিটেরও কম সময়ে ক্যান্সারযুক্ত ডিএনএ শনাক্ত করা সম্ভব।’
 
এদিকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ওয়েবসাইটে গবেষকরা যা বলেছেন - 

বর্তমানে ক্যান্সার শনাক্তকরণে একটি টিস্যু বায়োপসি প্রয়োজন, যা রোগীর টিউমার থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হয়।

গবেষকরা একটি কম কষ্টকর ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা পদ্ধতি খুঁজছেন যা প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সারকে শনাক্ত করতে পারে।

একজন ব্যক্তির শরীরের প্রায় প্রতিটি কোষের একই ডিএনএ থাকে, তবে গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সারের উপস্থিতি এই ডিএনএকে যথেষ্ট ব্যতিক্রমভাবে পুনর্গঠিত করার কারণ হতে পারে।

এই পরিবর্তনটি বিশেষত একটি ক্ষুদ্র অণুর প্যাটার্নের মধ্যে একটি মিথাইল গ্রুপ নামে পরিচিত, যা ডিএনএকে সজ্জিত করে।

একটি সাধারণ সেল ডিএনএ'র স্বতন্ত্র মিথাইল প্যাটার্নটি তার যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ এবং তার ক্রিয়াকলাপগুলি বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এটি জিনকে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় করার জন্যও দায়ী। এই প্যাটার্নটি পরিবর্তন করে ক্যান্সার কোষগুলি নিজস্ব প্যাটার্ন বিস্তার করে।

এই মিথাইল প্যাটার্নিং  নিয়ে পূর্বেই গবেষণা করা হয়েছে।

যাই হোক, পানিতে এর প্রভাব নিয়ে একটি ফলাফল পাওয়া গেছে। 

ট্রান্সমিশন ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপি (একটি উচ্চ-রেজুলেশনের মাইক্রোস্কোপ) ব্যবহার করে, আমরা দেখেছি যে ক্যান্সারযুক্ত ডিএনএ টুকরাগুলো পানিতে ত্রিমাত্রিক কাঠামোর মধ্যে ভাঁজ হয়। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে এর ফলাফল ভিন্নভাবে পরিলক্ষিত হয়। ল্যাবের মধ্যে স্বর্ণ কণা সাধারণত জৈবিক অণু শনাক্ত করতে সহায়তা করে (যেমন ডিএনএ)।

এটি স্বর্ণ কণার আণবিক আচরণকে এমনভাবে প্রভাবিত করতে পারে যা দৃশ্যমান রঙের পরিবর্তন ঘটায়।

আমরা আবিষ্কার করেছি, ক্যান্সারযুক্ত ডিএনএর সঙ্গে স্বর্ণ কণার গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যার মানে এটি স্বর্ণ কণাগুলোর সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ।

এই আবিষ্কারটি আমাদেরকে রক্ত ও টিস্যুতে ক্যান্সারযুক্ত ডিএনএ শনাক্ত করতে একটি পরীক্ষা পদ্ধতি সৃষ্টি করার পথ দেখায়।

বিষয়টি সমাধান করার জন্য কিছু বিশুদ্ধ ডিএনএ সঙ্গে কিছু স্বর্ণ কণার মিশ্রণ প্রয়োজন।
সহজেই রঙ পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে পাঁচ মিনিটের মধ্যে খালি চোখে ক্যান্সারযুক্ত ডিএনএ শনাক্ত করা সম্ভব।

যেহেতু ক্যান্সার ডিএনএ'র সঙ্গে স্বর্ণের গভীর সম্বন্ধ রয়েছে এটি স্বাভাবিক ডিএনএ'র তুলনায় উচ্চতর আপেক্ষিক ইলেকট্রোকেমিক্যাল সংকেত সরবরাহ করে।

এই ইলেকট্রোকেমিক্যাল পদ্ধতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং অবশেষে ডায়াগনস্টিক টুল হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

কেন এই ব্যাপার?

এই পরীক্ষা সঠিকভাবে কাজ করার জন্য ডিএনএ অবশ্যই বিশুদ্ধ হতে হবে।

‘এখনো পর্যন্ত আমরা ৯০ শতাংশ নির্ভুলতার সাথে ২০০টির বেশি টিস্যু এবং রক্তের নমুনা পরীক্ষা করেছি।’

‘কিছু মিথ্যাকে  ইতিবাচকভাবে  নিশ্চিত করার জন্য সঠিকতা গুরুত্বপূর্ণ – অথচ দেখার  কেউ নেই যখন ভুলভাবে ক্যান্সার সনাক্ত করা হয়।’

‘আমরা পরীক্ষায় স্তন ক্যান্সার, প্রোস্টেট, অন্ত্র এবং লিম্ফোমা ক্যান্সার সনাক্ত করতে পেরেছি। আমরা এখনো অন্যান্য ক্যান্সার পরীক্ষা করে নিচ্ছি না, তবে সকল ক্যান্সারের ক্ষেত্রে মিথাইলেশন প্যাটার্ন একই রকম, সে কারণে সব ক্ষেত্রেই সম্ভবত ডিএনএ একই ভাবে সাড়া দেবে।’

এটি একটি প্রতিশ্রুতিশীল সূচনা, যদিও তার ক্লিনিক্যাল ব্যবহার প্রমাণ করার জন্য আরও নমুনার সঙ্গে আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

‘আমরা ক্যান্সারের প্রথম পর্যায়ে বিভিন্ন শরীরের তরল থেকে বিভিন্ন ক্যান্সারের ধরন সনাক্ত করার সম্ভাবনা নির্ধারণ করছি।’

গবেষকরা আরো বলেন, ‘চিকিৎসার সময় শরীরের তরল পদার্থের ডিএনএ সংখ্যার প্রচুরতার উপর ভিত্তি করে পরীক্ষাটি পর্যবেক্ষণের চিকিৎসার উপর নজর রাখতে পারে কিনা তা আমরাও বিবেচনা করছি।’

আরো পড়ুন: হার্ট অ্যাটাকের আগে দেহের ৭ সিগনাল

ডেইলি বাংলাদেশ/আরপি/এসএ/জেডআর