Alexa কোরবানির ইতিহাস ও নবী ইব্রাহিম (আ.) এর আত্মত্যাগের ঘটনা (শেষ পর্ব)

কোরবানির ইতিহাস ও নবী ইব্রাহিম (আ.) এর আত্মত্যাগের ঘটনা (শেষ পর্ব)

নুসরাত জাহান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:২৫ ১১ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৮:৩১ ১১ আগস্ট ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

কোরবানি ইবাদত হিসেবে স্বীকৃত হওয়া যদিও হজরত আদম (আ.) এর যুগ থেকেই সাব্যস্ত কিন্তু এর বিশেষ  তাৎপর্য হজরত ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ (আ.) এর ঘটনা থেকে শুরু হয়েছে। 

আরো পড়ুন>>> কোরবানির ইতিহাস ও নবী ইব্রাহিম (আ.) এর আত্মত্যাগের ঘটনা (পর্ব-১)

১ম পর্বের পর থেকে...

শয়তানের ধোঁকা দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা:
মহান আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যের এ বিরল দৃষ্টান্ত শয়তান কীভাবে সহ্য করবে? আর অন্যদিকে মহান আল্লাহর বন্ধু হজরত ইব্রাহিম (আ.) ছিলেন নিজের সিদ্ধান্তে পাহাড়ের ন্যায় অটল। শয়তান প্রথমে হজরত ইসমাঈল (আ.) এর মায়ের কাছে এক দয়াময়, মানবিক ব্যক্তির আকৃতিতে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করে,
: ইসমাঈল কোথায় ? 
হাজেরা (আ.) উত্তর দিলেন, 
: তার বাবার সঙ্গে জঙ্গল থেকে লাকড়ি কোড়ানোর জন্য গেছে। 
শয়তান বলল, 
: ঘটনা তো এটা নয় ? তুমি তো দেখছি, গাফলতিতে আছ বরং তার বাবা তাকে জবাই করার জন্য নিয়ে গেছে। 
হজরত হাজেরা (আ.) বললেন, 
: কোনো বাবা তার সন্তানকে জবাই করতে পারে!
শয়তান বলল, 
: হ্যাঁ। হজরত ইব্রাহিম (আ.) বলছে, আমাকে মহান আল্লাহ এ হুকুম দিয়েছেন। 
এ কথা শুনে বৃদ্ধ বয়সে একক সন্তানের মাও ওই উত্তরই দিলেন, যা হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর বংশের শান তিনি বললেন, যদি বাস্তবতা তাই হয় যে, দয়াময় আল্লাহ তাকে জবাইয়ের হুকুম দিয়েছেন তাহলে তা পালন করাই বাঞ্জনীয়।

আরো পড়ুন>>> কোরবানি কী ও কেন?

শয়তান এখান থেকে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে বাবা ও  সন্তানের পিছু লাগল। তারা মক্কা থেকে মিনার দিকে যাচ্ছিলেন। প্রথমে এক বন্ধুর বেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর সামনে এসে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু হজরত ইব্রাহিম (আ.) চিনে ফেলেন। শয়তানকে চিনে ফেলায় সে ব্যর্থ হয়। এরপর শয়তান তার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। জামারায়ে আকাবার নিকটে এক বড় ভৌতিক আকৃতিতে হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর রাস্তা রোধ করে দাঁড়ায়।  এক ফেরেশতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর সঙ্গে ছিলেন। সে ফেরেশতা বলল, হে ইব্রাহিম! অবাধ্য এ শয়তানকে পাথড় নিক্ষেপ করেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করেন। প্রত্যেক কঙ্কর নিক্ষেপের সময় আল্লাহু আকবার উচ্চারণ করেন। শয়তান কঙ্কর নিক্ষেপে দূরে চলে যায়।

হজরত ইব্রাহিম (আ.) চলতে লাগলেন। গন্তব্যস্থলের পানে। এরপর জামারায়ে উসতার নিকটে পথ রোধ করে দাঁড়ায়। হজরত ইব্রাহিম (আ.) এবারো আল্লাহু আকবার উচ্চারণ করে সাত কঙ্কর নিক্ষেপ করেন। শয়তান দূরে চলে যায়। হজরত ইব্রাহিম (আ.) আপন গন্তব্যে চলতে থাকেন। এরপর শয়তান জামারায় উলায় পৌঁছে রাস্তা ঘিরে ধরে। হজরত ইব্রাহিম (আ.) ওই একই আমল করেন। এবার কোরবানির স্থলে পৌঁছে যান।  এ ঘটনা রুহুল মায়ানিতে কাতাদাহ (রহ.) এর রেওয়াতে, ইবনে কাসিরে এর অধিকাংশ বর্ণনা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এর রেওয়াতে বর্ণিত হয়েছে।

আরো দেখুন>>> ঈদের প্রচলন: কবে কখন কীভাবে 

যখন বাবা ও ছেলে মহা এ কোরবানির জন্য তৈরী হয়ে গেল এবং বাবা ছেলেকে কোরবানি করার জন্য উপুড় করে শোয়ান এভাবে শোয়ানোর মাঝে বিনয় ও এ হেকমত ছিল যেন, বয়োবৃদ্ধকালের একক সন্তান হত্যার সময় তার চেহারা দেখে যেন মায়া এসে জবাই করার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি না হয়।

হজরত ইব্রাহিম (আ.) মহান রবের নির্দেশ পরিপূর্ণভাবে পালনের জন্য সর্বোচ্চ শক্তিতে ছুড়ি চালাচ্ছিলেন কিন্তু মহান রবের কুদরত ছুড়ির কাজে প্রতিবন্ধক হয়ে যায়। কোনো কোনো রেওয়াতে আছে, হজরত ইসমাঈল (আ.) তার বাবাকে বললেন হে আব্বাজান! আপনার কাছে আমার কাফনের কোনো কাপড় নেই এজন্য আপনাকে কষ্ট করতে হবে। উত্তম হলো, আমার কোর্তা সাদা ও পরিষ্কার। আপনি এটা খুলে রেখে দেন যেন এ কোর্তা কাফনের কাজে আসে। মহান বাবা কোর্তা খুলতে লাগেন এমতাবস্থায় অদৃশ্য আওয়াজে এ ঘটনার চিত্র পাল্টে দেয়।  

হজরত ইসমাঈল (আ.) এর ফিদয়ায় দুম্বা কোরবানি:
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি স্বম্বোধন করলাম, হে ইব্রাহিম! আপনি স্বপ্নকে বাস্তব করে দেখিয়েছেন।’ এমতাবস্থায় হজরত ইসমাঈল (আ.) এর জায়গায় কোরবানির জন্য মহান আল্লাহ এক দুম্বা পাঠালেন।

মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘আমি ইসমাঈল (আ.) এর ফিদিয়ায় এক মহা কোরবানি বানিয়েছি।’

এ কোরবানিকে এক মহান কাজ বলেছেন এজন্য যে, এটা মহান নবীর ফিদিয়া ছিল। দ্বিতীয়ত. এ জন্য যে, এ ধরনের কোরবানি কিয়ামত পর্যন্ত মহান আল্লাহ চালু করেছেন। মহান আল্লাহ হজরত ইসমাঈল (আ.) এর কোরবানির বদলায় দুম্বা কোরবানি করলেন। সুতরাং হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাঈল (আ.) এর মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতায় আনন্দ ও খুশীর সীমা রইল না।

এখানে একটি প্রশ্ন হয়? হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে সন্তান জবাইয়ের হুকুম সজাগ অবস্থায় না দিয়ে কেন স্বপ্নে দেয়া হলো ? এর মাঝে কি হেকমত নিহিত?

এ ঘটনার মূল রহস্য হলো, জবাই করা উদ্দেশ্য নয় বরং বাবা সন্তানের পরীক্ষা নেয়া। তারা কতটুকু মহান রবের নির্দেশ পালনে সোচ্চার। তাই স্পষ্ট শব্দে না বলে স্বপ্নে দেখানো হলো, হজরত ই্রিাহিম (আ.) জবাই করছেন। যখন হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন, তখন গায়বি আওয়াজে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুসংবাদ দেয়া হয়। হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে জবাই শেষ করতে দেখেননি বরং জবাইয়ের জন্য তৈরী হচ্ছেন এটাই দেখেছিলেন।

তাফসিরে ইবনে কাসিরে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাছ (রা.) এর রেওয়াতে বর্ণিত আছে, ওই দুম্বার শিং ও মাথা ইসলামের প্রাথমিক যুগ পর্যন্ত বায়তুল্লাহ শরিফের মিজাবে ঝুলানো ছিল। যা ইসমাঈল (আ.) এর সন্তানগণ অর্থাৎ মক্কার কোরাইশগণ বরকত ও স্মৃতি হিসেবে বায়তুল্লাহ শরিফে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। কেউ কেউ বলেছেন, দুম্বার এ মাথা ও শিং হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) এর সময় পর্যন্ত বাকি ছিল। হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের ফেতনার সময় যখন বায়তুল্লাহ শরিফে আগুন লাগে তখন তা পুড়ে যায়।

এখানে এ সন্দেহ হতে পারে সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগ পর্যন্ত সব নবীদের কোরবানির পদ্ধতি ছিল যে, আকাশ থেকে আগুন এসে জ্বালিয়ে দিত। তাহলে ভেড়ার এ শিং ও মাথা কীভাবে সংরক্ষিত রইল?

তাফসিরে রুহুল বয়ানে আছে, বনি ইসরাইলের প্রথা ছিল যখন কোনো কোরবানি করত তখন ওই কোরবানির উৎকৃষ্ট অংশ জমা করে এক জায়গায় রেখে দিত। অত:পর আকাশ থেকে আগুন এসে তা জ্বালিয়ে দিত। এর দ্বারা এটাই প্রতিয়মান হয় যে, কোরবানির পশু জ্বালিয়ে দেয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কোরবানির উৎকৃষ্ট অংশগুলো জ্বালিয়ে দেয়া। শিং, মাথা, ক্ষুরা ইত্যাদি অবশিষ্ট থাকা এটাই স্বাভাবিক।

বহু সাধনার পর বৃদ্ধ বয়সে জন্ম নেয়া কলিজার টুকরা, নাড়ীছেড়া ধনের জবাইয়ের পরীক্ষায় হজরত ইব্রাহিম (আ.) পাহাড়ের ন্যায় দৃঢ়পদে অতিক্রম করেছেন। এ পরীক্ষা ছিল ইব্রাহিম (আ.) এর জন্য বচেয়ে বড়, বিপদজনক ও শেষ পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় তিনি অত্যন্ত দৃঢ়পদে পার হয়েছেন। এর পূর্বে তিনি নিজের বাবা, আত্মীয়-স্বজন নিজ দেশ ছেড়ে নিজের বহু সম্পদ একমাত্র আল্লাহর জন্য বিসর্জন দিয়ে এসেছেন। নিজের জীবনকেও উৎসর্গ করেছেন, আগুনে নিক্ষেপ করে দেখিয়েছেন আমার জীবন, আমার মুত্যু সব আল্লাহর জন্য। 

সুন্নতে ইব্রাহিমীর স্মরণ:
মহান আল্লাহ তার মকবুল ও প্রিয় বন্ধুর এ কার্যকলাপে পছন্দ হয়ে কিয়ামত পর্যন্ত এর স্মৃতি অব্যাহত রাখার জন্য নিজের বান্দাদের ওপর আবশ্যক করে দিয়েছেন। যেমনি ভাবে তিন জামারায় হাজিদের জন্য কঙ্কর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব। বিশেষ করে হাজিদের জন্য। আর সাধারণভাবে সকল মুসলমানদের কোরবানি করা ওয়াজিব সাব্যস্ত করা হয়েছে। সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌঁড়ানো সাত চক্কর দেয়া হজরত হাজেরা (আ.) এর আমলের স্মৃতিচারণ। এ আমলকেও হজের ওয়াজিব আমলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

Best Electronics
Best Electronics
শিরোনামকুমিল্লার বাগমারায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৭ শিরোনামবন্যায় কৃষিখাতে ২শ’ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হবে না: কৃষিমন্ত্রী শিরোনামচামড়ার অস্বাভাবিক দরপতনের তদন্ত চেয়ে করা রিট শুনানিতে হাইকোর্টের দুই বেঞ্চের অপারগতা প্রকাশ শিরোনামচামড়া নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সমাধানে বিকেলে সচিবালয়ে বৈঠক শিরোনামডেঙ্গু: গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৭০৬ জন: স্বাস্থ্য অধিদফতর শিরোনামডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন দুপুরে আদালতে উপস্থাপন শিরোনামডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমছে: সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক শিরোনামইন্দোনেশিয়ায় ফেরিতে আগুন, দুই শিশুসহ নিহত ৭ শিরোনামআফগানিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, নিহত বেড়ে ৬৩