কোরআন শিক্ষার আসর, প্রতিদিন ৫ আয়াত

কোরআন শিক্ষার আসর, প্রতিদিন ৫ আয়াত

পর্ব-৭

গাজী মো. রুম্মান ওয়াহেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:১৪ ৩০ মে ২০২০   আপডেট: ২১:২৪ ৩০ মে ২০২০

কঠিন কিয়ামতের দিন এই কোরআন আমাদের জন্য সুপারিশকারী হবে।

কঠিন কিয়ামতের দিন এই কোরআন আমাদের জন্য সুপারিশকারী হবে।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিরাট সওয়াব অর্জন করার সুযোগ রয়েছে। এবং এর সঙ্গে রয়েছে  অনেক উপকারিতাও।

কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারি। কারণ কঠিন কিয়ামতের দিন এই কোরআন আমাদের জন্য সুপারিশকারী হবে।

জান্নাতেও কোরআনের ধারকদের বিশেষ সম্মাননা দেয়া হবে। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, (কিয়ামতে) কোরআন অধ্যয়নকারীকে বলা হবে, কোরআন পাঠ করতে করতে ওপরে উঠতে থাকো। তুমি দুনিয়াতে যেভাবে ধীরে-সুস্থে পাঠ করতে সেভাবে পাঠ করো। কেননা তোমার তেলাওয়াতের শেষ আয়াতেই (জান্নাতে) তোমার বাসস্থান হবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৬৪)।

বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি হরফ পাঠ করে, তাকে একটি নেকি প্রদান করা হয়। প্রতিটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ।’ (সুনান আত-তিরমিযী: ২৯১০)।

অতএব, আপনি কি নিজেকে বদলাতে চান? জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে চান? আপনি কি মরেও অমর হয়ে থাকতে চান? সর্বোপরি দুনিয়া ও আখিরাতে আপনি যদি সফল হতে চান তাহলে আজ থেকেই যুক্ত হোন আমাদের পবিত্র কোরআন শিক্ষার এই আসরে। 

আরো পড়ুন >>> কোরআন শিক্ষার আসর (পর্ব-৬)

পবিত্র কোরআন শিক্ষার আসরের ধারাবাহিক আলোচনায় আজ থাকছে সূরা আল বাকারার ৪১-৪৫ নম্বর পর্যন্ত আয়াত। 

সূরা আল বাকারা (আরবি ভাষায়: سورة البقرة)। এটি পবিত্র কোরআনুল কারিমের দ্বিতীয় সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ২৮৬টি এবং রূকুর সংখ্যা ৪০টি। আল বাকারা সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

(৪১)
وَآمِنُواْ بِمَا أَنزَلْتُ مُصَدِّقاً لِّمَا مَعَكُمْ وَلاَ تَكُونُواْ أَوَّلَ كَافِرٍ بِهِ وَلاَ تَشْتَرُواْ بِآيَاتِي ثَمَناً قَلِيلاً وَإِيَّايَ فَاتَّقُونِ
আর তোমরা সে গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, যা আমি অবতীর্ণ করেছি সত্যবক্তা হিসেবে তোমাদের কাছে। বস্তুতঃ তোমরা তার প্রাথমিক অস্বীকারকারী হয়ো না আর আমার আয়াতের অল্প মূল্য দিও না। এবং আমার (আজাব) থেকে বাঁচ।

(৪২)
وَلاَ تَلْبِسُواْ الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُواْ الْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিয়ে দিও না এবং জানা সত্ত্বে সত্যকে তোমরা গোপন করো না।

(৪৩)
وَأَقِيمُواْ الصَّلاَةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ وَارْكَعُواْ مَعَ الرَّاكِعِينَ
আর নামাজ কায়েম কর, জাকাত দান কর এবং নামাজে অবনত হও তাদের সঙ্গে, যারা অবনত হয়।

(৪৪)
أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ وَأَنتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلاَ تَعْقِلُونَ
তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভুলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর? তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না?

(৪৫)
وَاسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلاَّ عَلَى الْخَاشِعِينَ
ধৈর্য্যর সঙ্গে সাহায্য প্রার্থনা কর নামাজের মাধ্যমে। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু সে সমস্ত বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব।

আজকে যা জানলাম ও শিখলাম-

পবিত্র কোরানের প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের কথা বলেছেন মহান রব। এর ব্যত্যয় হলে কঠিন শাস্তির কথাও আল্লাহপাক বলে দিয়েছেন।

এছাড়া সত্যকে গোপন করতে নিষেধ করেছেন তিনি। নামাজ এবং জাকাতের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন দুজাহানের মালিক। অর্থাৎ তার নৈকট্য লাভের জন্য নামাজ কায়েম করতে হবে, সৎকাজের আদেশ দিতে হবে এবং জাকাত প্রদান করতে হবে। 

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা যদি আমার সাহায্য পেতে চাও তাহলে নামাজের মাধ্যমে চাও। অবশ্যই তাড়াহুড়ো করে নয়, ধীরস্থির এবং শান্ত হয়ে। মহান রব বলেন, যদিও কাজটি কঠিন তবে যারা আমাকে ভালোবাসে তাদের জন্য এটি খুবই সহজ। (চলবে...) 

দোয়া: হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার সন্তুষ্টি অর্জন করতে, তোমাকে ভালোভাবে জানতে, সঠিক পথের দিশা পেতে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফল হতে নিয়মিত পবিত্র কোরানের ০৫টি আয়াত অর্থসহ পড়ছি। তুমি আমাদের এ আমলটিকে কবুল করে নাও এবং শয়তানের শয়তানি থেকে হেফাজত রাখো। আমিন।

সূত্র: ইকরা নিউজ

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে